লিভারপুলের ট্যাকটিকসের সাথে কিভাবে মানিয়ে নিতে পারবেন সালাহ?

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে লিভারপুলের লাল জার্সিটা পরা হত বছর চারেক আগেই। কিন্তু শেষে মুহুর্তে তখন সুইজারল্যান্ডের ক্লাব এফসি বাসেল থেকে লিভারপুলে না গিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী চেলসিতে নাম লেখান মিশরীয় উইঙ্গার মোহামেদ সালাহ। মাত্র দুই মিলিয়ন পাউন্ড অতিরিক্ত না দিতে চাওয়ার কারণে মাশুল গুণতে হয় লিভারপুলকে। ১১ মিলিয়ন পাউন্ডে চেলসিতে চলে যান সালাহ। যদিও সেখানে গিয়ে যে খুব বেশী কিছু করতে পেরেছেন তা না। বেঞ্চে বসে থাকতে থাকতে বিরক্ত সালাহকে এক মৌসুম পরেই সিরি আ তে ধারে খেলতে পাঠানো হয়, ফিওরেন্টিনার হয়ে, তারপর সেখান থেকে আরেক ইতালিয়ান ক্লাব এএস রোমাতে যোগ দেন তিনি চেলসি থেকে। এবার এতদিন পর সেই রোমা থেকেই লিভারপুলে নাম লেখাচ্ছেন অবশেষে মোহামেদ সালাহ, ৩৫ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে। লিভারপুলে প্রতি সপ্তাহে সালাহ আয় করবেন ৯০ হাজার পাউন্ড করে, চুক্তি চার বছরের।

সদ্য শেষ হওয়া মৌসুমে সালাহ ইউরোপীয় শীর্ষ পাঁচ লিগে খেলা সেই আটজন খেলোয়াড়ের মধ্যে একজন ছিলেন যিনি কিনা নূন্যতম দশটা করে গোল ও গোলসহায়তা করেছেন। গত দুই মৌসুমে উইঙ্গার হিসেবে ৮১ ম্যাচ খেলে ৩৪ গোল আর ১৮ গোলসহায়তা করেছেন তিনি, গোলের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন ১৩৪টি, সফল পাস প্রদানের হার ৮০%। সাধারণত ডানদিকের উইংয়ে খেলা মোহামেদ সালাহ খেলতে পারেন বাম উইংয়েও, কিন্তু ডানদিক থেকে কাট-ইন করে শক্তিশালী বাম পা দিয়ে গোলমুখ বরাবর শট নেবার প্রবণতাটা আছে তাঁর মধ্যে – অনেকটা বায়ার্ন মিউনিখের ডাচ উইঙ্গার আরিয়ান রবেন কিংবা রিয়াল মাদ্রিদের গ্যারেথ বেলের মত – বাড়িয়ে বলছি না, চেলসির সাবেক কোচ ও বর্তমানে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচ হোসে মরিনহোর সালাহকে নিয়ে মতামত এটাই। স্ট্রাইকারের পেছনে অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার বা ”নাম্বার টেন” ভূমিকাতেও খেলতে পারেন, খেলতে পারেন ৪-৪-২ ফর্মেশানে সেকেন্ড স্ট্রাইকার হিসেবেও।

সালাহ-এর খেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল তাঁর গতি ও ড্রিবলিং ক্ষমতা। সালাহ বিশ্বের অন্যতম দ্রুততম খেলোয়াড়। খেলায় তাঁর গতিশীলতা মুগ্ধ করেছে বার্সেলোনা কিংবদন্তী জাভি হার্নান্দেজকেও। তুখোড় গতি তাই সালাহকে কাউন্টার অ্যাটাকিং যেকোন সিস্টেমের জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। লিভারপুল স্কোয়াডে এখন এটাই দরকার, গতি। আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি, এক সাদিও মানে ছাড়া লিভারপুলের মূল একাদশে খেলার মত প্রথাগত কোন উইঙ্গার নেই। ফিলিপ্পিএ ক্যুটিনিও, রবার্তো ফার্মিনিও কিংবা অ্যাডাম লালানা, কিংবা ডিভক অরিগি ও ড্যানিয়েল স্টারিজ – দলের প্রয়োজনে সবাই কখনো না কখনো ৪-৩-৩ ফর্মেশানে উইঙ্গার হিসেবে খেললেও তারা কিন্তু আসলে কেউই উইঙ্গার নন। সালাহ এর আসার ফলে সেই সমস্যাটার সমাধান হচ্ছে। ফিওরেন্টিনার ম্যানেজারের মতে, বল পায়ে শুধুমাত্র বার্সা সুপারস্টার লিওনেল মেসিই সালাহ এর থেকে বেশী গতিশীল। সালাহকে ”মিশরীয় মেসি” ত আর এমনি এমনিই বলা হয়না!

gollachhut.com

সামনের মৌসুম থেকে ক্যুটিনিওকে ডিপ-লায়িং প্লেমেকার বা সেন্ট্রাল মিডফিল্ডারের ভূমিকায় দেখা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন লিভারপুল কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ। তারমানে ৪-৩-৩ ফর্মেশানে সামনে ক্যুটিনিও সাধারণত যে জায়গায় খেলতেন, ফাকা হয়ে যাচ্ছে সেই জায়গাটা, এবং ওখানেই খেলতে পারেন সালাহ। ডি-বক্সের মধ্যে জায়গা খুঁজে নিয়ে শট করতে পারেন, প্রতি ম্যাচে নূন্যতম ২.৬টা শট নেওয়ার পরিমাণ সেই কথারই প্রমাণ বহন করে। এই মৌসুমে যতবারই লিভারপুলের হয়ে সাদিও মানে খেলতে পারেননি, লিভারপুলের আক্রমণ একেবারেই ধারহীণ হয়ে পড়েছে প্রত্যেকবার। সালাহ অনেকটা একই ধরণের খেলোয়াড় হবার ফলে এবার মানে কোন কারণে দলে না থাকলেও কোন সমস্যা হবেনা।

পরে কি হয় সেটা ত কেউই জানেনা, তবে এই বাজারে ৩৫ মিলিয়ন পাউন্ড দিয়ে সালাহের মত উইঙ্গার পাওয়াটা ভাগ্যের ব্যাপারই বটে!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

ten + 5 =