লিভারপুলের গোলরক্ষক অনুসন্ধান : ইয়ান ওবলাক না অ্যালিসন বেকার?

লিভারপুলের গোলরক্ষক অনুসন্ধান : ইয়ান ওবলাক না অ্যালিসন বেকার?

লিভারপুলের ডিফেন্স সম্পর্কে নতুন করে বলার কিছু নেই। ইয়ুর্গেন ক্লপের অধীনে মোহামেদ সালাহ-সাদিও মানে-রবার্তো ফিরমিনোময় একটা দুর্ধর্ষ একটা আক্রমণভাগ লিভারপুল পেলেও রক্ষণভাগ নিয়ে প্রশ্নটা থেকেই যায়। বেশ অনেক ম্যাচেই শুধুমাত্র রক্ষণভাগের হাস্যকর হাস্যকর ভুলের জন্য ম্যাচ হেরেছে তারা, অযাচিত গোল হজম করতে হয়েছে তাদের। ডিফেন্সের এই সমস্যা সমাধান করার জন্য কিছুদিন আগেই ডাচ সেন্টারব্যাক ভার্জিল ভ্যান ডাইককে বিশ্বের সবচেয়ে দামী ডিফেন্ডার বানিয়ে সাউদাম্পটন থেকে নিয়ে এসেছেন ক্লপ। আশা করা যাচ্ছে, ভার্জিল ভ্যান ডাইককে নিয়ে লিভারপুলের ডিফেন্স এবার নিশ্ছিদ্র হবে। কিন্তু একটা দলের ডিফেন্সের দোষ কিন্তু শুধুমাত্র সেন্টারব্যাকদের দিলেই হয় না। ডিফেন্সের ভুলের পেছনে অনেক সময় গোলরক্ষকদেরও হাত থাকে। এবং লিভারপুলের গোলরক্ষক মাত্রই গত কয়েক মৌসুম ধরে ডিফেন্ডারদের সাথে তাল মিলিয়ে এমন এমন ভুল করছেন, যেটা একটা শীর্ষস্থানীয় দলের গোলরক্ষকদের করাটা মানায় না। লিভারপুলের গোলরক্ষক বলতে এখন দলে আছেন সিমোন মিনিওলেত, লরিস ক্যারিয়াস ও ড্যানি ওয়ার্ড। মূল গোলরক্ষক মিলিওলেত আর ক্যারিয়াসই। এবং এই দুই গোলরক্ষক একে অপরের সাথে পাল্লা দিয়ে দিয়ে ভুল করেন। যেখানে অন্য দলে দুইজন মোটামুটি একই সামর্থ্যের গোলরক্ষক থাকলে (চেলসিতে যেমন ছিল কোর্তোয়া আর চেক, মাদ্রিদে ডিয়েগো লোপেজ-ইকার ক্যাসিয়াস, বার্সেলোনায় মার্ক অ্যান্দ্রে টার-স্টেগেন ও ক্লদিও ব্রাভো) একে অন্যকে কিভাবে পারফরম্যান্সের দিক দিয়ে কিভাবে ছাড়িয়ে যাবেন সেই চেষ্টাটা থাকে দুই গোলরক্ষকের মধ্যে, সেখানে লিভারপুলের কোচ ইউর্গেন ক্লপকে দেখতে হয় তাঁর কোন গোলরক্ষক অপেক্ষাকৃত কম ভুল করছেন আরেকজনের চেয়ে – সেই হিসাবে প্রতি সপ্তাহে ম্যাচে গোলরক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু এভাবে যে আদি অনন্তকাল চলতে পারে না সেটা ক্লপ বেশ ভালোই বোঝেন। মোটামুটি দুই মৌসুমের কিছু বেশী সময়ে লিভারপুলের এই দুই গোলরক্ষককে সুযোগের পর সুযোগ দিয়ে অবশেষে তিনি বুঝেছেন মিলিওনেত বা ক্যারিয়াস – কাউকে দিয়েই লিভারপুলের মত দলের মূল গোলরক্ষকের কাজটা করানো সম্ভব নয়, আর সম্ভব হলেও এই গোলরক্ষক দিয়ে কোন সম্মানজনক ফলাফল বা ট্রফি প্রত্যাশা করা উচিত নয়।

সে কারণেই সামনের মৌসুমেই গ্রীষ্মকালীন দলবদলের বাজারে নতুন নাম্বার ওয়ান দলে আনতে চলেছেন লিভারপুলের এই জার্মান কোচ। আর সেক্ষেত্রে তাঁর পছন্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছেন অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের স্লোভেনিয়ান গোলরক্ষক ইয়ান ওবলাক ও এএস রোমার ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার।

স্লোভেনিয়ান গোলরক্ষক ইয়ান ওবলাক অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের অন্যতম সেরা পারফর্মার গত কয়েক মৌসুম ধরে। ওবলাককে স্প্যানিশ লিগের সেরা গোলরক্ষক বললেও অত্যুক্তি হবেনা। ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ টানা দুই মৌসুমে লা লিগার সেরা গোলরক্ষক হয়েছিলেন তিনি। এমনকি ২০১৩-১৪ মৌসুমেও তিনি পর্তুগিজ লিগের সেরা গোলরক্ষক হয়েছিলেন, যখন বেনফিকায় খেলতেন। ইন্টার মিলানের স্লোভেনিয়ান গোলরক্ষক সামির হানদানোভিচের কাছ থেকে জাতীয় দলের ব্যাটনটা নিয়ে এই পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে খেলে ফেলেছেন ১৮ ম্যাচ।

লিভারপুলের গোলরক্ষক অনুসন্ধান : ইয়ান ওবলাক না অ্যালিসন বেকার?
ইয়ান ওবলাক

ওদিকে অ্যালিসন বেকার ব্রাজিল জাতীয় দলের এক নাম্বার গোলরক্ষক, কোচ তিতের প্রথম পছন্দ তিনি। ব্রাজিলিয়ান ক্লাব ইন্টারন্যাসিওনাল থেকে ২০১৬ সালে ইতালিয়ান ক্লাব এএস রোমায় যোগ দেওয়া এই গোলরক্ষক গত দুই বছর ধরে নিজেকে ব্রাজিল দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গড়ে তুলেছেন।

লিভারপুলের গোলরক্ষক অনুসন্ধান : ইয়ান ওবলাক না অ্যালিসন বেকার?
অ্যালিসন বেকার

এখন দুইজনের মধ্যে কে বেশী যোগ্যতাসম্পন্ন? (২০১৭-১৮ মৌসুমে এই পর্যন্ত খেলা ম্যাচগুলোর হিসাব)

  • লিগে ম্যাচ খেলেছেন – ওবলাক ১৯, অ্যালিসন ১৯
  • লিগে ক্লিন শিট – ওবলাক ১২, অ্যালিসন ৯
  • লিগে গোল খেয়েছেন – ওবলাক ৮, অ্যালিসন ১৪
  • লিগে মোট সেইভ – ওবলাক ৫২, অ্যালিসন ৪৯
  • লিগে গোলপ্রতি সেইভ – ওবলাক ৬.৫, অ্যালিসন ৩.৫
  • গোলপোস্ট থেকে সফল বল আদান প্রদান করার হার – ওবলাক ৫৪%, অ্যালিসন ৮৫%
  • চ্যাম্পিয়নস লিগে ম্যাচ খেলেছেন – ওবলাক ৬, অ্যালিসন ৬
  • চ্যাম্পিয়নস লিগে ক্লিন শিট – ওবলাক ৩, অ্যালিসন ৩
  • চ্যাম্পিয়নস লিগে গোল খেয়েছেন – ওবলাক ৪, অ্যালিসন ৬
  • চ্যাম্পিয়নস লিগে মোট সেইভ – ওবলাক ১২, অ্যালিসন ১৭
  • চ্যাম্পিয়নস লিগে গোলপ্রতি সেইভ – ওবলাক ৪, অ্যালিসন ২.৮৩
  • গোলপোস্ট থেকে সফল বল আদান প্রদান করার হার – ওবলাক ৫৮%, অ্যালিসন ৮১%

দেখা যাচ্ছে প্রায় প্রতি দিক দিয়েই ওবলাক অ্যালিসনের চেয়ে এগিয়ে, আলাদাভাবে গোলরক্ষকের পরিসংখ্যান হিসাব করলে। কিন্তু এটাও বলতে হবে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের ডিফেন্স এএস রোমার ডিফেন্সের চেয়ে অনেক অনেক বেশী ভালো, তাই সে দিকটা মাথায় রাখলে অ্যালিসন কিন্তু ওবলাকের থেকে বেশী পিছিয়ে নেই, যেখানে অ্যালিসন ব্রাজিল জাতীয় দলের গোলরক্ষক, ম্যানচেস্টার সিটির ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক এডারসনকে ব্রাজিলের হয়ে খেলার সময় ম্যাচের পর পর বসিয়ে রাখছেন তিনি।

আপাতত এই দুইজনই লিভারপুলের গোলরক্ষক হিসেবে কোচ ইউর্গেন ক্লপের প্রধান দুই পছন্দ। কিন্তু পছন্দ হলেই তো হয়না, একটা দলবদল আরও অনেক কিছুর উপর নির্ভর করে থাকে। তাই শেষমেশ লিভারপুলের গোলরক্ষক হিসেবে যদি স্টোক সিটির জ্যাক বাটল্যান্ড কিংবা বার্নলির নিক পোপ সিমোন মিনিওলেতের স্থলাভিষিক্ত হন, আশ্চর্য হবেন না যেন!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

fifteen + seven =