ভিক্টর লিন্ডেলফ : আরেক ফার্ডিনান্ড, না আরেক সিলভেস্ট্রে?

গত রাতে নিজেদের ওয়েবসাইটে এবারের দলবদলের বাজারে তাদের প্রথম শিকারের কথা ঘোষণা করেছে ইংলিশ জায়ান্ট ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। পর্তুগিজ ক্লাব বেনফিকা থেকে ৩৫ মিলিয়ন ইউরো (৩১ মিলিয়ন পাউন্ড) দিয়ে সুইডিশ সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার ভিক্টর লিন্ডেলফকে দলে এনেছে তারা।

নিজের এলাকার ক্লাব ভ্যাস্টেরসে ক্যারিয়ার শুরু করা লিন্ডেলফ ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নিজের প্রতিভাবলে নজর কাড়তে সক্ষম হন বেনফিকার, ২০১১ সালে বেনফিকার ‘বি’ দলে যোগ দেওয়া লিন্ডেলফ ২০১৩ সালে বেনফিকার মূল দলে সুযোগ পান। এমনকি গতবছর জানুয়ারিতে ইংলিশ ক্লাব মিডলসব্রোতে ধারে আসার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু সেখানে না এসে বেনফিকাতেই নিজেকে পরখ করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সে সিদ্ধান্ত যে ভুল কিছু ছিল না সেটা বোঝাই যাচ্ছে, এক বছর পরেই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মত ক্লাবে নাম লেখালেন হোসে মরিনহোর শিষ্য হিসেবে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে খেলা তাঁর সুইডিশ সতীর্থ জলাতান ইব্রাহিমোভিচেরও সতি আছে এই ট্রান্সফারের ব্যাপারে। তিনি সম্মতি না দিলে হয়তোবা মরিনহো এতটা আগ্রহী হতেন না লিন্ডেলফের ব্যাপারে। লিন্ডেলফের ব্যাপারে ইতিবাচক মতামত ব্যক্ত করেছেন সুইডেনের সাবেক ইউনাইটেড ডিফেন্ডার ইয়েসপের ব্লমকভিস্টও। ব্লমকভিস্টের মতে, লিন্ডেলফের মধ্যে আরেকটা রিও ফার্ডিনান্ড বা আরেকটা রনি জনসেন পেতে যাচ্ছে ইউনাইটেড।

নতুন রিও ফার্ডিনান্ড?

বেনফিকার হয়ে গত মৌসুমে ৪৭ ম্যাচ খেলা এই ডিফেন্ডার অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন বেনফিকার কাপ ও লিগ জয়ের ক্ষেত্রে, চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলেছেন বায়ার্ন মিউনিখ আর জেনিতের মত ক্লাবের বিপক্ষেও। লিগের শেষের ১৫ ম্যাচের মধ্যে ১৪ ম্যাচই জিতেছে বেনফিকা, এবং কাকতালীয়ভাবে সেই ১৪ ম্যাচেই মূল একাদশে ছিলেন এই লিন্ডেলফ। নিজের দেশ সুইডেনের হয়ে এরই মধ্যে খেলে ফেলেছেন ১২ টার মত ম্যাচ। দেশের হয়ে খেলেছেন ২০১৬ ইউরোও।

ঠান্ডা মাথায় ডিফেন্সের কাজ সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে পারদর্শী এই ডিফেন্ডার এরই মাঝে ‘আইসম্যান’ হিসেবে পরিচিত। বল পায়ে বেশ দ্রুত এই ডিফেন্ডার শারীরিকভাবেও বেশ শক্তিশালী, ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার লিন্ডেলফ সেন্টারব্যাক পজিশানে খেলার পাশাপাশি নিজ দেশের হয়ে কখনো কখনো খেলেছেন রাইটব্যাক হিসেবেও। আবার ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবেও খেলতে পারা লিন্ডেলফ তাই মরিনহোর খুব গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হতে যাচ্ছেন বিভিন্ন ফরমেশানে বিভিন্ন পজিশানে খেলার সামর্থ্যের জন্য। লম্বা ও শারীরিকভাবে শক্তিশালী হবার কারণে বাতাসে ভেসে আসা বলগুলো সামলানোটাও বিশেষ কোন সমস্যার বিষয় হয় না তাঁর কাছে। বিপজ্জনক সেটপিসগুলোতেও লম্বা হবার কারণে বল হেড করে দলকে বিপদমুক্ত করতে পারেন তিনি। দিন দিন উন্নত হচ্ছে তাঁর ট্যাকল করার ক্ষমতাও। গতিশীলতার কারণে বল একবার হারিয়ে গেলেও তিনি খুবই দ্রুত দলের হবে আবারও পজেশান ফিরে পেতে সক্ষম। সাধারণত অপ্রয়োজনীয় ট্যাকল করতে পছন্দ করেন না তিনি, তবে যা করেন, একেবারে পারফেক্ট ট্যাকলই করেন। যার প্রমাণ আগের মৌসুমে ৫টা হলুদ কার্ড পেলেও এই মৌসুমে একটা হলুদ কার্ডও পাননি তিনি। ডিফেন্স থেকে বল বের করে এনে আক্রমণ সূচনা করার ক্ষেত্রেও আগ্রহ দেখা যাত তাঁর মাঝে। দিতে পছন্দ করেন লং পাসও। গত মৌসুম পর্যন্তও তাঁর পাস দেওয়ার ক্ষমতা অতটা ভালো ছিল না, সাধারণত বল পায়ে আসার সাথেই ক্লিয়ার করার জন্য উদগ্রীব হয়ে যেতেন তিনি, কিন্তু এই মৌসুমে তাঁর শর্ট পাস দেওয়ার ক্ষমতাও অনেক উন্নত হয়েছে, সফল পাস দেওয়ার ক্ষমতা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০ শতাংশ যেটা মরিনহোর অধীনে আস্তে আস্তে আরও উন্নত হবে সেটা বলেই দেওয়া যায়। মরিনহো নিজেই লিন্ডেলফকে সুইডিশ রাফায়েল ভ্যারেন মনে করছেন বলে শোনা যাচ্ছে।

এখন দেখা যাক, মরিনহোর অধীনে এই সুইডিশ সেন্টারহাফ কি আসলেই আরেকটা রিও ফার্ডিনান্ড হতে যাচ্ছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জন্য, নাকি হতে যাচ্ছেন আরেকটা মিকায়েল সিলভেস্ট্রে!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

4 × five =