জীবনের শেষ রেসটা মনের মত হল না বোল্টের

কোন বিশ্বসেরা অ্যাথলেটের ক্যারিয়ারটা কি আগাগোড়াই সাফল্যে মোড়ানো? সবাই কি নিজের শেষটা প্রত্যাশামত করতে পেরেছেন? আমার মনে হয়না। জীবনের শেষ ইনিংসে যেখানে মাত্র চার রান করতে পারলেই ক্যারিয়ার গড় ১০০ হত, সেখানে অবিশ্বাস্যভাবে শূণ্য রানে আউট হয়ে গিয়ে ক্যারিয়ার গড়টা ৯৯.৯৪ তেই আটকে গিয়েছিল সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যান স্যার ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যানের। স্টিভেন জেরার্ড তাঁর প্রিয় লিভারপুলের হয়ে শেষ ম্যাচ খেলতে নেমে ৬-১ গোলের লজ্জাজনক হার দেখেছিলেন স্টোক সিটির বিপক্ষে। রবার্তো ব্যাজিওর ক্যারিয়ারের হাইলাইটই হয়ে আছে ১৯৯৪ বিশ্বকাপ ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে সেই বিখ্যাত পেনাল্টি মিস। সেই তালিকায় আজ থেকে উচ্চারিত হবে হয়ত স্প্রিন্ট সম্রাট উসাইন বোল্টের নামও! ৪*১০০ মিটার রিলেতে নিজের শেষ দৌড়ে হ্যামস্ট্রিংয়ের ইনজুরিতে পড়ে রেসই শেষ করা হল না যে তাঁর!

আগে থেকেই জানা গিয়েছিল ব্রিটেনে অনুষ্ঠিত এই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপটাই হতে যাচ্ছে উসাইন বোল্টের শেষ টুর্নামেন্ট। এরপর আর ট্র্যাকে নামা হবে না তাঁর। পুরো ক্যারিয়ারে ১০০ মিটার, ২০০ মিটার আর ৪*১০০ মিটার রিলেতে রাজত্ব করা বোল্টের ক্যারিয়ারে সামান্যতম কালির দাগ যদি থেকে থাকে সেটা ছিল ২০১১ সালের দেগু বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ১০০ মিটার দৌড়ে ফলস স্টার্ট করে বাদ পড়ে যাওয়া। কিছুদিন আগে ১০০ মিটারেও অপ্রত্যাশিতভাবে ব্রোঞ্জ জয়ের পর এবার ৪*১০০ মিটারেও স্বমহিমায় জ্বলে উঠতে পারলেন না তিনি।

সতীর্থ ইয়োহান ব্লেকের হাত থেকে ব্যাটনটা নিয়েছিলেনও ঠিকঠাক শেষ ১০০ মিটার দৌড়ানোর জন্য। তখনও ব্রিটেন, যুক্ত্ররাষ্ট্রের সাথে টিকে আছে জ্যামাইকার স্বর্ণ জয়ের স্বপ্ন। ব্যাটন হাতে নিয়ে আরও জোরে দৌড় শুরু করলেন উসাইন বোল্ট। শেষ দৌড়টায় স্বর্ণ জিততে হবে যে! ১০০ মিটার স্প্রিন্টে নিজের ক্যারিয়ারের শেষ দৌড় শেষ করেছেন ব্রোঞ্জ জিতে। সোনায় মোড়ানো ক্যারিয়ারের শেষটাও তো সোনা জিতেই করতে চেয়েছিলেন তিনি! কিন্তু ১০০ মিটারের মত এবারও বাধ সাধল ভাগ্য। চিরবিশ্বস্ত পা জোড়া করে বসল বিশ্বাসঘাতকতা।

অ্যাংকর লেগে কিছু দূর দৌড়ানোর পরই হোঁচট খেলেন বোল্ট। থামলেন। চিতা বাঘের গতিতে দৌড়াতে জানেন, কিন্তু থামতে তো তিনি জানেন না। বোঝা গেল হতভম্ব হয়ে গিয়েছেন, বুঝে উঠছেন না কি হয়েছে বিশ্বস্ত দুই পায়ের। বাঁ পায়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে কিছুক্ষণ চেষ্টাও করলেন বোধ হয় তাই। এরপর থেমেই গেলেন। দৌড় শেষ না করে। আর পারলেন না। তাকিয়ে দেখলেন বাকিরা পৌঁছে গেছে সীমান্ত রেখায়। ব্রিটিশ রেকর্ড গড়ে ৪X১০০ মিটার রিলেতে স্বর্ণ পদক জিতল ব্রিটেন। যুক্তরাষ্ট্র রৌপ্য আর জাপানের ঘরে গেছে ব্রোঞ্জ। উপুড় হয়ে ট্র্যাকে নিজের লেনেই পড়ে রইলেন তখন বোল্ট।

জীবনের শেষ দৌড়টা শেষই করতে পারলেন না বোল্ট! বিশ্বজয়ী অ্যাথলেট হলেও তিনি যে আমাদের মতই রক্ত-মাংসের গড়া মানুষ, নিঃশব্দে প্রমাণ করে দিলেন যেন সেটা!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

20 + two =