আসছেন কিলিয়ান এমবাপে

থিয়েরি অঁরি অবসর নিয়েছেন তাও বছর দুয়েক হয়ে গেল। তারপর ফ্রান্সের অনেক খেলোয়াড়কেই নতুন অঁরি বলে মনে করা হয়েছে। এদের মধ্যে সবার আগেই আসবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অ্যান্থনি মার্সিয়ালের নাম। ফরাসী ক্লাব মোনাকো থেকে  ৩৬ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে এসেছেন এই মার্সিয়াল, ২০১৫ সালে। মার্সিয়ালের সামনেও অনেক সময় আছে নিজেকে পরবর্তী অঁরি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার, কিন্তু ব্যাপার হল, মার্সিয়াল থাকতে না থাকতেই এরই মধ্যে আরেকজনকে নিয়ে হৈচৈ পড়ে গেছে। সবাই এই নতুন স্ট্রাইকারটাকেও থিয়েরি অঁরির সাথেই তুলনা দিচ্ছেন। তিনি আর কেউ নন – মোনাকোর নতুন টিনএজ সেনসেশান – কিলিয়ান এমবাপে।

কিলিয়ান এমবাপে

দুইজনের বাবা মা-ই ভিন্ন ভিন্ন জাতির, দুইজনই ক্যারিয়ারের শুরুতে লেফট উইংয়ে বিধ্বংসী গতি দিয়ে বিশ্বকে চিনিয়েছেন নিজেদের, অঁরি ও এমবাপের মধ্যে মিল খোঁজা শুরু করলে কম পাওয়া যাবেনা কিন্তু! এরই মধ্যে আর্সেনাল কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গার ত ঘোষণা দিয়েই দিয়েছেন, এই তরুণকে পাওয়ার চেষ্টা করেও তিনি সফল হননি, যেমনটা হননি মেসি, পিকে, রোনালদো, ইব্রাহিমোভিচ, ইয়ায়া ট্যুরে, কান্তে – এদের দলে আনতে!

একটা মজার বিষয় হল, অঁরি কিংবা তাঁর উত্তরসূরিরা সবাই-ই কোন না কোনভাবে মোনাকোতে খেলেছেন/খেলছেন। এমবাপে ত খেলছেনই এখন, কিছুদিন আগে মার্সিয়ালও খেলে গেছেন, আর জুভেন্টাস থেকে আর্সেনালে নাম লেখানোর আগে থিয়েরি অঁরি নিজেও মোনাকোর হয়েই খেলতে। মোনাকোকে কি ফরাসী বিধ্বংসী স্ট্রাইকারদের আঁতুড়ঘর বলা যেতে পারে? হলে মন্দ হয়না কিন্তু!

মোনাকোর অঁরি

যাই হোক, এমবাপেকে নিয়ে বলছিলাম। মাত্র ১৮ বছর দুইমাস বয়সী এই স্ট্রাইকার এরইমধ্যে ইউরোপ কাঁপিয়ে ফেলেছেন। এই মৌসুমে গত ১১ ম্যাচে টানা ১১ গোল করে তিনি সবাইকে যেন বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন কেন তাঁকে পরবর্তী থিয়েরি অঁরি বলাটা যথাযথ। সর্বশেষ ৪ হোম ম্যাচে তাঁর গোল ৭টি! এই মৌসুমে মোনাকোর হয়ে ১৭ ম্যাচ খেলে গোল করেছেন ১৬টি! এমনকি ২০০৩ সালের পর থেকে এই এমবাপেই সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় যার কিনা চ্যাম্পিয়নস লিগ নকআউটে এর মধ্যেই দুই গোল আছে! ভাবা যায়?

এরই মধ্যে অঁরিকে দুই দিক দিয়ে কিন্তু পেছনে ফেলেছেন এমবাপে, মোনাকোর হয়ে সর্বকনিষ্ঠ অভিষিক্তের রেকর্ডটা, আর মোনাকোর হয়ে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার রেকর্ডটা। কায়েন এর বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ২ ডিসেম্বর মাত্র ১৬ বছর ৩৪৭ দিন বয়সে অভিষিক্ত হয়ে একুশ বছর আগেকার অঁরির রেকর্ডটা ভেঙ্গে দেন তিনি। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়ের বিরুদ্ধে গোল করে দ্বিতীয় রেকর্ডটাও অঁরির কাছ থেকে কেড়ে নেন তিনি। ফরাসী কাপে এই ডিসেম্বরে রেনেঁর বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করে ১৯৯৭ সালে ব্রাজিলিয়ান সনি অ্যানডারসেনের পর মোনাকোর খেলোয়াড় হিসেবে প্রথম হ্যাটট্রিকটাও করে ফেলেছেন এই এমবাপে।

এরই মধ্যে অঁরি একবার গিয়ে কিন্তু এমবাপের সাথে দেখাও করে এসেছেন, “ছেলেটা অনেক শান্ত, অনেক ভদ্র। কিন্তু একবার ছেলেটার পায়ে বল দিয়ে দিলে শান্ত ছেলেটেক কিন্তু আর খুঁজে পাওয়া যায়না!”

লেফট উইঙ্গার হিসেবে খেললেও সামনের অ্যাটাকিং থার্ডের যেকোন পজিশানেই খেলতে পারেন তিনি। স্ট্রাইকার হিসেবে খেলা কলম্বিয়ান সুপারস্টার রাদামেল ফ্যালকাওয়ের সাথে মাঝে মাঝেই পজিশান চেইঞ্জ করে নাম্বার নাইন হিসেবে খেলতে দেখা যায় তাঁকে খেলার মধ্যেই। বিপক্ষ দলের রাইটব্যাককে ত্রস্ত রেখে হুট করে ডানদিকে কাট-ইন করে বক্সের মধ্যে নিজের জন্য জায়গা করে নিয়ে ডানপায়ের গোলার মত শট দিয়ে যেসব গোলগুলো তিনি করেন, তা আপনাকে অঁরির স্মৃতিগুলো মনে করিয়ে দিতে বাধ্য। অনেকে ত আবার এটাও বলছেন এমবাপে এই বয়সে যেভাবে পারফর্ম করছেন, অঁরি সেই বয়সে তার ধারেকাছেও ছিলেন না। স্বাভাবিক, কারণ অঁরির অঁরি হয়ে ওঠাটা ত আর্সেনাল থেকে শুরু, জুভেন্টাস বা মোনাকো থেকে না!

তবে যতই অঁরির সাথে যতই তুলনা করা হোক না কেন, এমবাপের আইডল কিন্তু ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

twenty − 3 =