যত কাণ্ড বিশ্বকাপ ফুটবলে : ক্রিস্টোফ ক্রেমারের শর্ট টার্ম মেমরি লস!

যত কাণ্ড বিশ্বকাপ ফুটবলে : ক্রিস্টোফ ক্রেমারের শর্ট টার্ম মেমরি লস!

আর মাত্র ৪০ দিন বাকী। ৪০ দিন পরেই শুরু হবে বিশ্ব ফুটবলের সর্ববৃহৎ মহাযজ্ঞ – বিশ্বকাপ ফুটবল। ১৯৩০ সাল থেকে শুরু হওয়া এই মহাযজ্ঞের একবিংশতম আসর বসছে এইবার – রাশিয়ায়। বিশ্বকাপ ফুটবলের অবিস্মরণীয় কিছু ক্ষণ, ঘটনা, মুহূর্তগুলো আবারও এই রাশিয়া বিশ্বকাপের মাহেন্দ্রক্ষণে পাঠকদের মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য গোল্লাছুট ডটকমের বিশেষ আয়োজন “যত কাণ্ড বিশ্বকাপ ফুটবলে”!

ক্রিস্টোফার নোলানের বিখ্যাত মুভি ‘মেমেন্টো’ দেখেছেন? দেখেননি? সমস্যা নেই। আমির খানের বিখ্যাত মুভি ‘গজনী’ তো অবশ্যই দেখেছেন। দুই মুভিতেই নায়ক – যথাক্রমে গাই পিয়ার্স ও আমির খানের সমস্যা ছিল শর্ট টার্ম মেমরী লস। অর্থাৎ মাঝে মাঝে কোন একটা নির্দিষ্ট সময়ে জীবনে কি ঘটেছিল সেটা মনে না করতে পারা। বিভিন্ন ফটোগ্রাফ, ট্যাট্য, নোট – ইত্যাদিতে লিখে লিখে বিভিন্ন ঘটনা মনে রাখতে হত নায়ককে, কেননা কিছুক্ষণ পরে যখন আবারও সবকিছু ভুলে বসবেন তখন মনে করিয়ে দেওয়ার মত কিছু বা কেউ থাকবেনা। ২০১৪ বিশ্বকাপ এর ফাইনালে ব্রাজিল এর মারাকানা স্টেডিয়ামে যা ঘটেছিল তা এইসব গজনী বা মেমেন্টো ছবির কাহিনীকেও হার মানায়!

২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জার্মানির ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে ম্যাচ খেলার কথা ছিল তৎকালীন রিয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডার স্যামি খেদিরার। কিন্তু ওয়ার্মআপ করার সময় ইনজুরিতে পড়ে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার আশা শেষ হয়ে যায় তাঁর। ফলে শেষ মুহূর্তে মূল একাদশে বরুশিয়া মনশেনগ্ল্যাডবাখের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ক্রিস্টোফ ক্রেমারের জায়গা হয় মূল একাদশে।

কিন্তু বিধি বাম! ম্যাচের ১৭ মিনিটের দিকে আর্জেন্টাইন সেন্টারব্যাক ইজেক্যিয়েল গ্যারায় এর সাথে সংঘর্ষে মাথায় আঘাত পান ক্রেমার। সাথে সাথে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। মাথায় প্রচণ্ড আঘাত লাগার ফলে স্মৃতিভ্রম হয় তাঁর। রেফারি নিকোলা রিজোলি কে জিজ্ঞেস করেন, “রেফারি, এটা কি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ চলছে?”

যত কাণ্ড বিশ্বকাপ ফুটবলে : ক্রিস্টোফ ক্রেমারের শর্ট টার্ম মেমরি লস!

রিজোলি ভাবলেন ক্রেমার বুঝি তাঁর সাথে মশকরা করছেন! তাই এবার রিজোলি ক্রেমারকে বললেন আরেকবার তাঁকে জিজ্ঞাসা করার জন্য। ক্রেমার আবারও বললেন, “রেফারি জানতে চাচ্ছিলাম এটা কি বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল ম্যাচ কি না।” রিজোলি তখন ক্রেমারকে বলেন, “হ্যাঁ, এটা বিশ্বকাপ ফাইনাল।” সবশেষে সেটা শুনে ক্রেমার বলেন, “ধন্যবাদ জানানোর জন্য, এটা জানাটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল আমার জন্য।” অবস্থা দেখে নিকোলা রিজোলি আরেক জার্মান মিডফিল্ডার বাস্তিয়ান শোয়াইনস্টাইগারকে ব্যাপারটা জানান, সুপারিশ করেন যাতে ক্রেমারের পরিবর্তে অন্য কোন খেলোয়াড়কে নামানো হয়। কিন্তু তখনই ক্রেমারকে না উঠিয়ে নিয়ে ক্রেমারকে খেলতে দেওয়া হয়। ৩১ মিনিটে ক্রেমার আবারও মাটিতে লুটিয়ে পড়েন, এবার জার্মান কোচ জোয়াকিম লো ক্রেমারকে উঠিয়ে নিয়ে মাঠে উইঙ্গার অ্যান্দ্রে শুরলা কে নামান।

ক্রিস্টোফ ক্রেমারের ভাষ্যে এখনো তাঁর মনে নেই বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রথমার্ধে কি হয়েছিল। কে তাঁকে মাঠ থেকে উঠিয়ে নিয়ে গিয়েছিল, কিভাবে তিনি তিনি ড্রেসিংরুমে গিয়েছিলেন। এসব কিছুই মনে নেই তাঁর।

“আমার মাথায় বিশ্বকাপ ফাইনালের স্মৃতি বলতে দ্বিতীয়ার্ধ থেকে!” – ক্রেমারের অকপট স্বীকারোক্তি!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

11 + 15 =