বিসিবির ভাবমূর্তি এখন কৃষ্ণমূর্তি থেকে ফর্সামূর্তি হয়ে গেল!

বিসিবির তদন্ত কমিটি বলছে, দ্বিতীয় বিভাগের দুটি ম্যাচ “ঠিক মতো পরিচালনা করতে পারেনি দুই আম্পায়ার।”

যদিও আম্পায়ারদের মূল কাজই হলো ম্যাচ ঠিক মতো পরিচালনা করা। তবে মূল কাজই তো মূল কথা নয়। “মল” কাজও করতে হয়। আম্পায়ারদ্বয়ের প্রবল তাড়া ছিল। তাই একটি দলের ক্রিকেটাদের বলে দিয়েছে, “তোরা তো হারবিই। হারার আগে নাড়া দেওয়ার কি দরকার? ১২টার মধ্যেই খেলা শেষ করবি।”

সময় ও নদীর স্রোত কারও জন্য অপেক্ষা করে না। আমরা সবাই ছোটবেলায় পড়েছি। কিন্তু মনে রেখেছে কেবল ওই আম্পায়ারদ্বয়। মহামূল্য সময় বাঁচাতেই তারা সদুপদেশ দিয়েছিল। সূর্য মাথার ওপর ওঠার আগেই খেলা শেষ করতে হবে।

কিন্তু ওই দলটা ভারি বজ্জাত। ছেলেপুলে বিচ্ছু সব। ১২ টার মধ্যে শেষ করতে বলা হয়েছিল, ১২ বলের আগেই শেষ করল! একটা ভীষণ সিরিয়াস এবং ক্রিকেটীয় আইনের কঠোর প্রয়োগে পরিচালিত ক্রিকেট ম্যাচকে তারা ফাজলামা বানিয়ে ফেলল। ৪ বলে ৯২ রান দিয়ে দিলো! বজ্জাতগুলো বলে নাকি, আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ। ফাজিলের দল। পাড়া বা গলির ম্যাচেও সবাই জানে, আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত।

বদমাশ মিডিয়াও আছে। কয়টা ফাজিলের দল কোথায় কোন পাট ক্ষেতে হাগু-মুতু করেছে, নাকি কার আম গাছে ঢিল ছুড়েছে, এই সবও নিউজ করে দিতে হয়! ও মা, বিদেশী মিডিয়াও এসব নিউজ লুফে নিল। ক্রিকেট খেলাটা এরা আর বুঝলো না।

দেশের ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা তো এই সময়ে বসে থাকতে পারে না। বিসিবিই দায়িত্ব নিল এদের ক্রিকেট বোঝানোর। উচ্চপদস্থ তদন্ত কমিটি গঠিত হলো। দেখা হলো, ঠিক ওই দুজন আম্পায়ারই আগের দিন আরেকটা ম্যাচে মূল কাজ রেখে মল কাজ করেছে। ওই যে, ছেলেবেলায় পড়া সময়ানুবর্তিতার রচনা তাদের হৃদয়ে গেঁথে আছে। বোলার বল করার আগেই তারা নো বল সিগন্যাল দিয়ে ফেলেন। কতটা সময়নিষ্ঠ, কতটা দূরদর্শী!

ওই ম্যাচেও এক বিচ্ছু ছেলে ১.১ ওভারে ৬৯ রান দিয়ে দিলো। এই ছেলেদের দিয়ে আর কিছু হবে না। কিছুই ঠিক ভাবে করতে পারে না। পারে শুধু প্রতিবাদ করতে। আরে বাবা, মন দিয়ে ক্রিকেটটা খেল না! আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত না মানলে বড় ক্রিকেটার হওয়া যায়?

বিসিবি অবশ্য সত্য ও ন্যায়ের প্রতীক। এক বিন্দু ছাড় নয়। আম্পায়ারদের দোষ যদিও অতি সামান্য, মূল কাজটি করতে পারেনি। তার পরও তাদেরকে দৃষ্টান্তের মূলে টান দেওয়া দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ ৬ মাস নিষিদ্ধ! এটাই শেষ নয়। একেবারে কানটা মলে দিয়ে বলে দেওয়া হয়েছে, “খবরদার, আর দুষ্টুমি করবে না।”

আর ক্রিকেটীয় প্রতিবাদের মত গর্হিত, ন্যাক্কারজনক কাজ করেছে যে দুই বোলার, তাদের শাস্তিটা অতি সামান্য। হাজার হলেও বিসিবি ক্রিকেটারদের অভিভাবক। সন্তানদের দেখভাল তারা করবে না তো কে করবে? জঘন্য অপরাধের পরও তাই শাস্তি মাত্র ১০ বছর করে। আসলে ছেলে দুটিকে বাঁচিয়ে দিয়েছে বিসিবি। দ্বিতীয় বিভাগে থাকতেই ভবিষ্যতটা গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। ৬ মাস বা এক বছর নিষিদ্ধ করলে আবার তারা ক্রিকেটে ফেরার স্বপ্ন দেখতো। অযথা একটা টানাপোড়েন। সন্তানতুল্য বলেই দুজনকে এই টানাপোড়েন থেকে মুক্তি দিল বিসিবি…

সবচেয়ে বড় কথা, বিসিবির ভাবমূর্তি এখন কৃষ্ণমূর্তি থেকে ফর্সামূর্তি হয়ে গেল। এত উজ্জ্বল ভাবমূর্তি যে সামনে বিশেষ দিবসগুলোয় বিসি অফিসে ডেকোরেটেরের লাইটিং লাগবে না, এমনিই জ্বলজ্বল করছে। আশেপাশের রাস্তাগুলোয় সড়ক বাতি লাগছে না। ল্যাম্পপোস্টের আলো বন্ধ করে বিদ্যুৎ বাঁচাতে পারছেন মেয়র সাহেব। বিসিবি ভবনের আলোতেই চারপাশ আলোকিত।

দুশ্চিন্তা একটাই। এত উজ্জ্বল ভাবমূর্তি দেখে হেফাজত না আবার এই মূর্তি সরানোর আন্দোলন শুরু করে দেয়!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

14 − 14 =