ভুল সবই ভুল : আর কতবার একই ভুল দেখতে হবে?

আমি আজ বেশি কিছু লিখবো নয়া। শুধু আমার ফেসবুক স্ট্যাটাস গুলো তুলে দিলাম আজকের বাংলা তাজিক ম্যাচ সম্পর্কে।

উল্লাসে আজ মাতলো রে দেশ,
নাচে গ্যালারী
দেখুক সারা দুনিয়াটা,
আমরাও পারি!!
দুর্দান্ত ফ্রি কিক নিয়েছেন আমাদের অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম!! অভিনন্দন!
এ ধরনের কিক আমরা মেসি বা রোনালদোর পায়েই দেখে থাকি সাধারণত আর হা হুতাশ করি, আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে বলে। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে সবাই উজবুকের মতো খেললেও, এই মামুনুল ছিলেন উজ্জ্বল ব্যাতিক্রম।
মনের বাঘে না খেলে, আর শেষ সময়ে দম না হারালে এই দল অনেক দূর যাবে। আর নিজেদের বক্সের কাছে ফাউল দেওয়া যাবেনা।

দেখুন তো? এটা লিখেছি মামুনুলের গোলে উচ্ছসিত হয়ে। আহা! কি দুর্দান্তই নয়া খেলেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
এরপর লাল কার্ড দেখানো হল আস্রুর রব কে। আমার প্রতিক্রিয়া-

সাবাশ রেফারী সাবাশ!
দুর্দান্ত হেমন্তকে ফাউল করার জন্য উজবুক আস্রুর রবকে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠের বাইরে পাঠানো হয়েছে। রব বল নিয়ে না পারলেও লাল কার্ড খেয়েই মনে হয় সি রোনালদোর সমান হতে চেয়েছিলেন! শুরু থেকেই তার মারামারি করার ইচ্ছা প্রকাশ পাচ্ছিল ভালোভাবেই।
আশা করি হেমন্তের ইনজুরি গুরুতর না।

তখনও মনে করছি এই ম্যাচ থেকে জয় নিয়ে হাসতে হাসতে বাড়ি ফিরবো আমরা, ইশ! কি ভুলই নয়া ভেবেছিলাম! সেই বক্সের বাইরে ফাউল, শেষ সময়ে সেই ফ্রি কিক এবং হৃদয় ভাঙা গোল। বাংলা সিনেমা যেমন একই কাহিনীর ফ্রেমে বন্দী, আমাদের জাতীয় দলের ম্যাচও তাই।
দুর্দান্ত খেলা, সুযোগ মিস, একক প্রচেষ্টা কারও, এবং এগিয়ে গিয়েও অন্তিম মুহূর্তে গোল খাওয়া। হতাশ হয়ে শেষ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলাম এভাবে।

ভাই পাঁচ ছয় বছরের বাচ্চাকে এক কথা বার বার বলে শেখাতে হয়, কিন্তু ৩০-৩২ বছরের বুড়োদের কি এভাবে শেখানো যায়?!!
ফ্রি কিক থেকে শেষ মুহূর্তে গোল খাওয়ার এই রোগ থেকে যে আমাদের জাতীয় দল কবে মুক্তি পাবে আল্লাহ জানে!!
ঠিক এই মুহূর্তে এমিলিকে দল থেকে বাদ দিয়ে দিতাম আমি কোচ হলে। তিন তিনটি অসাধারণ সুযোগ তিনি মিস করলেন এভাবে! ছি ছি ছি!! এটা কি জাতীয় দলের একজন স্ট্রাইকারের মান?? ফুটবল যারা ভালো বুঝেন তারা বলেন তো?
আমাদের ফুটবলের বিরাট বড় দুই লুল,
এমিলি আর এনামুল!
কি আর বলবো! একই কথা- ফিটনেস নেই। তো তোমরা তা বাড়ানোর চেষ্টা কর না কেন? মনোবলের অভাব, ভালো কথা, তো সেটা সমাধানের কোন চেষ্টা তো দেখলাম না।
হেমন্ত, সোহেল রানা, মামুনুল- খেলেছেন দুর্দান্ত। হেমন্তের কারিকুরি তো চোখে মায়াঞ্জন বুলিয়ে দিচ্ছিল। শেষ তো সেই হতাশারই হল। এনামুলের চুল ৮০র দশকের সুপারম্যান সালাউদ্দিন কে মনে করিয়ে দিলেও, তার ভুল পাশ মনে করাল স্কুল ফুটবলে প্রথম খেলতে আসা কোন স্ট্রাইকারের কথা! আর গোল রক্ষক দুর্দান্ত কিছু সেভ না করলে ১ পয়েন্টও পাওয়া হতো না। আর এমিলিকে নিয়ে লিখে শব্দ নষ্ট করতে চাচ্ছি না, কোন যোগ্যতায় সে দলে আছে এখনও, এটাই বড় প্রশ্ন! ফাঁকা পোস্টে বল দিতে পারে না, মার্কার না থাকলেও ভুল পাশ দেয়, এরা একটা জাতীয় দলের স্ট্রাইকার!! আর এই দল নিয়ে ভিসন ২০২২? অসম্ভব!

আন্তর্জাতিক মানে ওঠার কত দেরি, পাঞ্জেরি?
আর কতবার শেষ মিনিটে গোল খাবে,
আর কতবার হতাশায় ডোবাবে?
কবে শিখবে, ফ্রি কিক ঠেকানো?
কবে বন্ধ করবে অকারণে ফাউল?
কবে একজন স্ট্রাইকার পাবো, যাকে বলতে হবেনা লুল!!
করবে সে গোল, আমরা দিতে পারবো জয়ের ফুল!
কবে জয়ের বন্দরে ভিড়বে তোমার তরী?
জেগে ওঠার আর কত দেরি,
আর কত দেরি, পাঞ্জেরি?

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

thirteen − 1 =