টি টোয়েন্টিতে মুখের সামনে আয়না ধরলো দক্ষিণ আফ্রিকা

সিলেক্টরের নাম মনে নাই । একবার এক টি২০ দলে রকিবুলের অন্তর্ভুক্তির কথা জিজ্ঞাসা করতে সিলেক্টর বলে উঠেন, “মিডল অর্ডারে হাল ধরতেই ওকে দলে নেওয়া…” হিস্টোরিকালি আমাদের টি২০ ফিলোসোফি এই এক লাইনেই বোঝা যায় । ইংল্যান্ডের খালি টি২০ খেলার জন্যে মিশেল ল্যাম্বরা ছিলো, সাউথ আফ্রিকার ছিলো ভ্যান ডার মারউইরা…অস্ট্রেলিয়া ওয়ার্নারকে প্রথমে নিয়ে আসে কেবল টি২০ খেলার জন্যেই । আমাদের এখানে খালি টি২০ খেলার জন্যে আমরা আলাদা কাউকে আনতে পারি নাই।
কি ব্যাটিং এ … কি বোলিং এ… টেস্ট আর ওয়ানডের লোকেদেরই কমবেশি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খেলিয়েছি । সাকিব ছাড়া স্পেশ্যালিস্ট নাই এইটা তো পুরোনো কথা ।
এর সাথে যোগ হয়েছে আমার কাছে বাংলাদেশের ক্রিকেট বলের সবচেয়ে ভালো হিটার মুশফিকের অফফর্ম । জানি , এই কথাটা নিয়ে অনেকের দ্বিমত থাকবে । ক্রিকেট বলের ভালো হিটার মুশফিক কীভাবে ? আমার দিক থেকে এটার লজিক হলো , আমি মুশফিককে আলাদা করে দেখি কারণ সাকিবের বাইরে একমাত্র মুশফিককেই দেখেছি ভালো বল মেরে রান তুলে নিতে । সাব্বির বা মাশরাফিরা বল দূরে আছড়ে ফেলতে পারে । কিন্তু সবচেয়ে গুড লেংথের বলটা নয় ।
আর টি২০ নিয়ে আমাদের পাবলিকের ফিলোসোফিটাও দেখুন ।
সাকিব আজ ২য় ম্যাচে আঊট হবার পরে দেখলাম স্ট্যাটাস দেওয়া, “সাকিবের আরো দ্বায়িত্ব নিয়ে খেলা দরকার ছিলো…”
আমার মনে মনে রিএকশন… আরে বোকা এই ছোট খেলায় দ্বায়িত্ববোধ কীসের আবার ?? তাহলে রকিবুলকেই নামিয়ে দে … একদম খিঁচে দ্বায়িত্ব নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে ।
টি২০ হিট এন্ড রান গেইম । যখন ১৬০+ টার্গেট, তখন তো আরো বেশী বেশী । ৬/৭/৮ নাম্বার পর্যন্ত সবাই জোরে ব্যাট চালাতে পারবে । দুটো ভালো ক্যামিও আসবে আর একটা বড় ইনিংস আসবে ৫০/৬০ রানের । এভাবেই তো ১৬০ হয়ে যায় ।
ব্যাটিং অর্ডার যেহেতু এককথায় দুইকথায় চলেই এলো , তাহলে আর ছাড়ি কেন ? বাঙালি কথা বলা জাতি । হারার পরে কথা বলতে ভালোবাসে । আবার জেতার পরে প্রতিপক্ষকে ব্যঙ্গ করতে আরো বেশি বেশি কথা বলতে ভালোবাসে । শুধু একটা জিনিসই মাথায় রাখুন । লিটন দাশ আর অভিষিক্ত রনি তালুকদারের ব্যাপারটা । যারা সারাজীবন খেলে এসেছে নতুন বল , তাদের আপনি নামিয়ে দিলেন সাতে আর আটে ?? এটা তো পোলার্ডের জায়গা , এটা তো পাকিস্তানের আব্দুর রাজ্জাকের জায়গা , ইংল্যান্ডের ব্রডের জায়গা , শ্রীলংকায় ব্যাটার বেশি থাকলে থিসারা পেরেরার জায়গা । এদের কারো সাথে এই দুজনের খেলার ধাঁচ আর স্টাইল মেলে ? যে বোমা পাকিস্তানের সাথে টেস্টের পরে সাকিব ফাটিয়ে দিয়েছিলো , সে বোমা ফাটলো আরো জোরে । আমাদের স্পিনারেরা টার্ন করাতে পারে না , তাদের টার্ন করাতে হয় না । এরন ফ্যাঙ্গিসো-লেই-দুমিনি এই ত্রয়ীর বিপক্ষে সাকিব-নাসির-সানিকে তো শিশু লেগেছে । ভাগ্যিস নাসির ওর জীবনের সেরা সময়টা কাটাচ্ছে বল হাতে । এক ম্যাচে সোহাগ গাজীকে ফেরানো হলো। দাঁত বসানো তো দূরের কথা , সুড়সুড়িও দিতে পারলো না ।
সবকিছুর মধ্যে সৌম্য এক চিলতে আশার আলো । ছোট ক্রিকেটটা এভাবেই খেলতে হয় । ভয় ছাড়া । আউট হবার টেনশন ছাড়া । তামিমের ১৮ বলে ১৩ , সাকিবের ১৪ বলে ৮ রানের ইনিংসগুলো বলে দেয়, ওরা আমাদের ভয় ছাড়া খেলতে দেয় নি । আমরা ভয় ছাড়া খেলতে পারি নি । আমাদের ফিল্ডিং ভারতের সাথে যেখানে শেষ হয়েছিলো , সেখান থেকে শুরু করতে পারি নি। এক রান দু রান করে ১৫-২০ রান কিন্তু টি২০ তে অনেক রান । অনেক অনেক এক্সট্রা দিয়েছি । যা ওদের স্কোরকে ফুলিয়ে দিয়েছে আরো । চোকার দক্ষিণ আফ্রিকা মাঠে দারুন গ্রাউন্ড ফিল্ডিং করে উলটো চোক করিয়েছে আমাদের । আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দিয়েছে ।
এই খেলার পুরাতন রোগগুলো আবারও সামনে নিয়ে এলো প্রোটিয়ারা …
এক) টি২০ স্পেশ্যালিস্ট নাই
দুই) মিডল অর্ডারে আর লোয়ার মিডল অর্ডারে পাওয়ার ব্যাটিং নাই
তিন) পিচ বানালেও তার সুবিধা উলটো ওরাই নিয়েছে
চার) গ্রাউন্ড ফিল্ডিংটাও হয়েছে স্মরণ অতীতে সবচেয়ে খারাপ
আসলেই দক্ষিণ আফ্রিকা আয়না নিয়ে এসেছিলো সব দেখিয়ে দেওয়ার জন্যে

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

nine − 5 =