একেই বলে আনুগত্য!

মার্সেল ইয়ানসেন কে চিনতে পেরেছেন? পাঁড় জার্মান ভক্ত না হলে না চিনতে পারারই কথা। জার্মান এই লেফটব্যাক কখনই সেরকম সুপারস্টার কেউ ছিলেন না। কখনো জেরোম বোয়াটেং, কখনো ফিলিপ লাম, কখনো আর্ন ফ্রেডরিখ, কখনো মার্সেল শ্মেলতজার বা কখনো হোলগার বাডস্টুবারের জন্য বেশীরভাগ সময়েই জার্মানির দ্বিতীয় বা তৃতীয় পছন্দের লেফটব্যাক ছিলেন তিনি। ক্লাব ক্যারিয়ারের বেশীরভাগ সময়েই কাটিয়েছেন হ্যামবুর্গে, যদিও আগে বরুশিয়া মনশেনগ্ল্যাডবাখ ও বায়ার্ন মিউনিখের মত ক্লাবেও খেলে গেছেন তিনি।

তা যাই হোক, এত উপক্রমণিকা টানার কারণ হল ভদ্রলোক কালকে ফুটবল খেলা থেকে থেকে অবসর নিয়েছেন। তা নিতেই পারেন। কিন্তু ব্যাপার সেটা না, ব্যাপার হল তাঁর বয়স যে মাত্র ২৯! ২৯ বছর বয়সেই মোটামুটি সফল একজন ফুটবলারের অবসর নেওয়ার ঘটনাটা অনেকটা চমকই বটে।

হ্যামবুর্গকে ভালোবেসে ফেলেছিলেন তিনি প্রচণ্ড। ২০০৮ থেকে এই ক্লাবে থাকা ইয়ানসেনের সাথে ক্লাবের সম্পর্কটা অন্যপর্যায়ে চলে গিয়েছিল। গত মৌসুমে রেলিগেশনের খাঁড়া থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পাওয়া হ্যামবুর্গেও ইয়ানসেন আর আগের মত অবিচ্ছেদ্য কোঙ্খেলোয়াড় নন, গত মৌসুমে খেলতে পেরেছেন মাত্র ১৫ ম্যাচ। লেফটব্যাকে বলতে গেলে এখন নিয়মিতই খেলেন আরেক জার্মান ম্যাথিয়াস অস্ত্রোলেক। তাই এই মৌসুমে হ্যামবুর্গ ইয়ানসেনকে রাখাটা অত জরুরি কিছু মনে করেনি, চুক্তি শেষে ক্লাব থেকে ফ্রি ট্রান্সফারে ইয়ানসেনকে ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তারা।

hi-res-5ea7dffb4f8afb4ad3c478a28c0e9563_crop_north

ক্লাব ছাড়লেও – ক্লাবকে, শহরকে ছাড়তে পারছেন না ইয়ানসেন। ঘোষণা দিয়েছেন, অন্য কোন ক্লাবের ব্যাজকে আপন ভেবে চুমু দেওয়া সম্ভব না তাঁর পক্ষে। তাই তিনি অন্য কোন ক্লাবে যোগও দেবেন না, দরকার হলে পেশা পরিবর্তনও করতে পারে। এমন না যে তিনি খেলা চালিয়ে যাবার মত ফিট না, কিন্তু তাও হ্যামবুর্গের প্রতি ভালোবাসার টানেই অন্য কোন ক্লাবে খেলতে পারবেন না তিনি।

এই না হলে আনুগত্য! ফুটবল ইতিহাসে জলাতান ইব্রাহিমোভিচ, ক্রিশ্চিয়ান ভিয়েরি, নিকোলাস আনেলকাদের পাশাপাশি এরকম দুই-একটা স্টিভেন জেরার্ড-পল স্কোলস-ফ্র্যান্সেস্কো টট্টি বা মার্সেল ইয়ানসেনদের মত খেলোয়াড়েরা আছেন বলেই হয়ত খেলাটা এত সুন্দর, এত মানবিক!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

thirteen − 3 =