বিদায় ক্লার্কি

অবসর নেবার কিছু আগেই জিতেছিলেন বিশ্বকাপ । নিজের দেশেই । স্বাগতিক দলের অধিনায়ক হয়েই । ক্লার্ককে নিয়ে সবাই সব কথা বললেও আমার ভাবনায় সবার আগে থাকবে যেই ব্যাপারটা সেটা হলো ক্লার্কি পন্টিং আর ওয়ার্নিদের সোনালি প্রজন্মের দলটার শেষ ক্রিকেট খেলে যাওয়া সদস্য । পুরো একটা জেনারেশন যখন খেলা ছেড়ে আস্তে আস্তে চলে যাচ্ছিলো , তখন ক্লার্কি এই দলের রি বিল্ডিং ধাপটা দেখেছেন খুব কাছে থেকে । দলের অধিনায়ক হয়ে ঝড়ঝাপটা সামলেছেন । কখনো পেরেছেন , কখনো পারেন নি । তবে আমার মত আরো অনেকেই নিশ্চিত টেস্ট ক্যারিয়ার নিয়ে ক্লার্কের ভাবনাটা আরো অনেক দূরে ছিলো । ওয়ানডেটা একটু আগেভাগে ছেড়ে দেওয়াটা মনে হয় সে কারণেই । তবে পৃথিবীর ইতিহাস বলে অনেক বড় জয় কোন এক নতুন নেতারে উত্থান ঘটায় , আর অনেক বড় পরাজয় ডুবিয়ে দেয় নেতৃত্বের সূর্য । ক্লার্কের বেলায় হলো পরেরটা । ব্যাটিং তো খারাপ করলো পুরো দলই , কিন্তু কাপ্তান ক্লার্কই যেনো অজি মিডিয়ার সবচেয়ে বড় টার্গেট ছিলেন । মাঝখানে একটি টেস্ট অস্ট্রেলিয়া জিতলো বটে, কিন্তু তাতে ক্লার্কের ঘাড় থেকে সমালোচনার বোঝাটা কমে নি । নিজের ব্যাটিং দৈনতার কারণে দল দারুনভাবে ভুগছে শিকার করে নিয়েছিলেন এতোটুকুও । কিন্তু পেশাদারিত্বের দুনিয়ায় একটা সত্তর বা আশি রানের ইনিংসই পারত সমালোচনার একটু ঝাঁজ কমাতে । একটা সেঞ্চুরি থামিয়ে দিত একেবারেই । নিজের ক্ষুধা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় সাংবাদিকদেরও কথায় একহাত নিয়েছেন । কিন্তু তাতে লাভ কি ?? একটা সেঞ্চুরি ছাড়া ওসবের জবাব আর কিছুতেই হয় না । ক্লার্ক পারলেন কোথায় ? আগের চাইতে আরো অসহায় হয়ে আউট হলেন । দারুন পেশাদারি এই যুগে ৪র্থ টেস্টের পরেই যেনো বুঝে গিয়েছিলেন, নাহ !! এভাবে আসলেই সম্ভব না ।

ক্লার্কির শুরুটা হয়েছিলো ভারতে । হ্যাঁ সেই ভারত । খেলার জায়গা হিসেবে যেখানটাকে স্টিভ ওয়াহও দ্যা লাস্ট ফ্রন্টিয়ার বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন । ক্লার্কের সবচেয়ে দারুন কাজগুলো কীভাবে যেন ভারতের সাথেই এসে যায় । সেই অভিষেকের ব্যাঙ্গালোর টেস্টের দেড়শো পেরোনো ইনিংস খেলেই বুঝিয়ে দিয়েছিলেন তিনি থাকতে এসেছেন । ক্লার্কের সবচাইতে বড় প্রাপ্তি হলো , ধ্রুপদী ব্যাটিং এর স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারা , মাইকেল হাসির মতো সব্যসাচী ছিলেন না । টি টোয়েন্টির ইম্প্রোভাইজেশনের যুগে নিজের ছাঁচটাকে বদলাতে পারেন নি । নিজের ক্লাসি ব্যাটিংটা ছাড়েন নি । তবে ঐ যে এই টাচটা থাকাতেই ফ্যান ফলোয়িং এর অভাব হয় নি ক্লার্কের । ক্লার্ক মানে উন্মত্ততা না গেইলের মতো, ক্লার্কি মানে মাইক হাসির মতো সব্যসাচী না, ক্লার্কি মানে এমন একজন যিনি লীডার … তবে স্বল্পভাষী লীডার ।

নিউজিল্যান্ড কেইন উইলিয়ামসনকে পাবার পরে কেইনকে তাদের মাইকেল ক্লার্ক বলা শুরু করলো ।
ক্লার্কের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি এখানেই ।
একজন লিডার যিনি ব্যাটিং দিয়ে চোখ জুড়িয়ে দিবেন , দলের প্রয়োজনে ট্রিপল সেঞ্চুরি বিসর্জন দেবেন , আবার খারাপ সেশন শেষে জনসনদের পরের সেশনের জন্যে চাঙ্গা করে দিতে পারবেন ।
পন্টিং এর মতো ধূর্ত না … আবার স্টিভ ওয়াহর মত দূরদর্শী না … ক্লার্ক আলাদা কিছু ।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

20 + five =