লিওনেল মেসি : কিংবদন্তী হওয়ার গল্প – ২

লিওনেল মেসি : কিংবদন্তী হওয়ার গল্প

 

মূল – লুকা কাইওলি

ভাষান্তর – সাজিদ মাহমুদ 

 

 

কিন্তু লিও কার হাত ধরে ফুটবল খেলা শুরু করেন? কে তাঁকে শেখালেন? কোথা থেকে তিনি এই বিস্ময়কর প্রতিভা অর্জন করলেন? এটা কি তিনি বংশগতভাবে পেয়েছেন?

আমাদের পরিবারের সবাই ফুটবল খুব পছন্দ করে। তাই, ওর বাবা, ওর ভাই নাকি ওর চাচাতো ভাই- কার কাছ থেকে ও এগুলো শিখেছে তা আমি বলতে পারি না। আমিও নিজেও একজন ফুটবল ভক্ত। আমার আইডল ম্যারাডোনা। আমি গভীরভাবে তার ক্যারিয়ার, তার গোল অনুসরণ করি। তিনি মাঠে খুবই দুর্ধর্ষ ছিলেন। যখন তাঁর সাথে আমার দেখা হয়েছিলো, আমি তাঁকে বলেছিলাম ‘একদিন আমার ছেলে আপনার মতই একজন মহান খেলোয়াড় হবে এবং আপনি তাকে প্রশিক্ষণ দিবেন’। এবং দেখুন কি ঘটল?… কিভাবে লিও ইতিহাসকে নিজের করে নিতে চলেছে।

টেবিলের উপর ফোন বেজে উঠল, সেলিয়া ফোন হাতে কথা বলার জন্য একটু দূরে গেলেন। তখনই মার্সেলা শৈশবের লিও’কে নিয়ে কথা বলা শুরু করলেন। ‘ও সত্যিই খুব বিস্ময়কর ছিলো, ওর বয়স পাঁচ তখনই ও যে কারো চেয়ে অনেক ভালো বল কন্ট্রোল করতে পারত। ও এটা খুব ভালোবাসে, বল নিয়ে কখনো ও থেমে যেতো না, ও এমনভাবে সামনের গেটে প্রতিটা বল মারত যে মাঝে মাঝে প্রতিবেশীরা ওকে ঠাণ্ডা হতে বলত’। সেলিয়া কথা শেষ করে আবার এসে বসলেন এবং বললেন যে, যখন ও আমাদের কথা শুনতে চাইত না তখন আমরা ওকে সবচেয়ে বড় শাস্তি দিতাম এই বলে যে তোমাকে আজ খেলতে যেতে দেয়া হবে না। ও তখন বলত, “না আম্মু, প্লিজ আমাকে যেতে দাও। এই যে আমি প্রতিজ্ঞা করলাম, আমি খুব ভালো হয়ে যাবো… প্লিজ, আমাকে যেতে দাও’। যতক্ষণ না ও আমাদের মন গলাতে পারত ততক্ষণ ও এভাবে করেই যেতে। ও কোন রাগী ছেলে ছিলো না, এমনকি অলসও না। ও এখনকার মতই সব সময় শান্ত ও লাজুক ছিলো।

messi_mom_0

আসলেই কি তাই ছিলো?

হ্যাঁ, সত্যিই তাই। ও কখনোই খ্যাতি নিয়ে ভাবত না। ও যখন বার্সেলোনা থেকে রোজারিও আসে, তখন এমান্যুয়েলের সাথে সান মার্টিন অ্যাভিনিউতে হাঁটতে এবং ঘুরতে খুব পছন্দ করে। কিন্তু আমরা যখন তাকে বলি যে তোমাকে দেখলে রোজারিও সবাই তোমার কাছে ভীড় করবে এবং ভীড় ঠেলে তুমি এক পাও এগোতে পারবে না; তখন ও খুব মন খারাপ করে। ও কিছুই বুঝতে চায় না এবং খুব রাগ হয়। বার্সেলোনায় ও ওর প্রশিক্ষকের সাথে গাড়িতে করে কোর্তে ইনগ্লেস ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে যায়। রোনালদিনহো প্রায়ই ওর চুল এলোমেলো করে আঁচড়িয়ে দিয়ে বলতো যে, এভাবে বাইরে গেলে তোমাকে কেউ আর চিনতে পারবে না। এ কারণে বিখ্যাত হওয়া, ভক্তদের সাথে ছবি তোলা বা তাদের আটোগ্রাফ দেয়া ওকে কখনো বিব্রত করে না।

যখন ও অনেকদিন পরে বাড়ি আসে তখন প্রায় সন্ধ্যায় আমি ওর বিছানায় যাই ওর সাথে গল্প করি, ওর চুল আঁচড়িয়ে দেই। মাঝেমাঝে ওকে মজা করে বলি, “তোমার পাশে এভাবে শুয়ে থাকার জন্য সব মেয়েই কত কিছু দিতে রাজি তাই না?”। তখন ও বিরক্ত হয়ে আমার দিকে অদ্ভুত এক ধরনের চাহনি দিয়ে বলে, “ আম্মু, পাগলের মত কথা বলবে না কখনো”।

তখন লা টিয়েন্ডা বারের ওয়ালে লিও’র জার্সি নাম্বার ৩০, আর্জেন্টিনার অন্যান্য খেলোয়ারদের জার্সির সাথে ঝুলছিলো। সেলিয়া বললেন, “আমরা একই শহরে থাকি অথচ এরা কেউ জানে না আমি মেসির মা”। আমি এমন একজন নারী যিনি খ্যাতিকে ভয় পাই, সব সময় অতিরিক্ত খ্যাতির নেতিবাচক দিক নিয়ে ভাবি এবং মোটকথা, অন্যান্য যে কোন কিছুর চেয়ে আমার পরিবার ও আমার সন্তানদের জীবনকে বেশি গুরুত্ব দেই…”

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

16 + 6 =