“যে কারণে আমি খেলার সাথে রাজনীতি মিশাই”

গত পরশু বাংলাওয়াশের পর এক বড়ভাই, সৌম্য সরকারের ব্যাটিং স্টাইল, ভয় ডর হীন এ্যটিচিউডের প্রশংসা করে স্ট্যাটাস দেন। সেটার নিচে পড়া কয়েকটা কমেন্ট দেখে মাথা নষ্ট হয়ে গেলোঃ

“সৌম্য শালা মালাউন বলেই পাকিস্তানের সাথে এইভাবে খেলছে। মুসলমান হলে ঠিকই নিজ থেকে আউট হয়ে পাকিস্তানকে অন্তত একটা খেলায় জিততে দিতো।”

“সৌম্যকে আপনি ভালোবাসেন হিন্দু হিসেবে। আপনার ভিতর ভেজাল ঢুকসে। নিজের জাত আপনার কাছে নিম্নমান এর মনে হয়। এর চেয়ে আপনি হিন্দু হয়ে যান, খুশি হব। তবু মুখোশ পরে থাকবেন না প্লিজ”

“খালি মালাউনটারে চোখে পড়ে আপনার, কেন মুশফিক যে এতো ভালো খেললো কই ওর নাম তো নিলেন না!”

আমি কয়েকবার চোখ কচলে বুঝার ট্রাই করলাম সত্যি দেখছি কিনা!!

এখানেই শেষ নয়, সেদিন খেলা শুরুর আগে এক পেইজে বাংলাদেশ স্কোয়াড পোস্ট করার পর সবচেয়ে বেশি লাইক পাওয়া একটা কমেন্টঃ

“ইমরুল কায়েস (!) থাকতে সৌম্য কিভাবে চান্স পায়? হিন্দু কোটায় নাকি?”

আপনি কি ভাবছেন এরা হাজারে দুই একজন মানসিক ভারসাম্যহীন?

না!!

এই ফেইসবুকে ২৫০০০ মেম্বারের “আমরা পাকিস্তানের কট্টর সমর্থক” নামক বাংলাদেশীদের গ্রুপ আছে!!

একই নামে খোলা পেইজে লাইক আট হাজার!!

211565.3

“যে যার ইচ্ছা দল সাপোর্ট করতেই পারে” যারা বলবেন, তাদের জন্য সেই পেইজে বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানের গো-হারা হারার পর দেয়া প্রতিটা পোস্টে বাংপাকিদের কিছু হাহাকার তুলে দিচ্ছি-

“আজহার ভাই নেক্সট ম্যাচ ভালো করবেন ইনশাল্লাহ”

“বাংলাদেশ বেশি লাফাইস না, খেলা আসলেই খালি তোদের দেশপ্রেম বাইয়া পরে?”

“যতদিন বাংলাদেশে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আছে ততদিন পাকিস্তান সাপোর্ট করবো”

“পাকিস্তানি খেলোয়ারদের মধ্যে ইসলামী ভাব আছে, যেইটা বাংলাদেশী খেলোয়ারদের মধ্যে নাই, তাই পাকিস্তান সাপোর্ট করি!!”

এখনো বলেন, এরা “যাস্ট ক্রিকেট” সমর্থকক!!

ভয়াবহ ব্যাপার হলো … বাংলাদেশের বিশাল একটা অংশের মেন্টালিটি এরকম … তারা পাকিস্তানের সাথে খেলা পড়লেই ইতিহাস, রাজনীতি সব ভুলে যেতে বলে!!

ওরে ফাকিস্তানি শুয়োরের দল, তোরা খেলার সাথে মালাউন মিশাবি, আওয়ামীলীগ মিশাবি, মুসলিম ব্রাদারহুড মিশাবি, আর আমরা যখন পাইক্কাদের পিছে বাঁশ ভরবো, তখন ম্যা ম্যা করে “kalar sata ragnete mashabanna” বলে ত্যানা পেচাবি? লাত্থায়া ফাকিস্তান পাঠানো দরকার তোদের!!

অথচ এই রাজনৈতিক কারণেই ভারতের বিরুদ্ধে খেলার দিন আমরা সবাই এক হয়ে যাই, এই ফাকিং রাজনীতি আর হিস্ট্রির জন্যই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচকে “মহারণ” হিসেবে আখ্যায়িত করি … অথচ বহুগুণ নির্মম রক্তাক্ত ইতিহাস থাকার পরও পাকিস্তানের সাথে খেলার সময় বিশাল সংখ্যক পাব্লিকের ভেতরে মোচড়ামুচড়ি ভাব চলে আসে!!

আর আমার লিস্টে কিছু মহাজ্ঞানী সুশীল ছুপা ছাগু আছে যারা বলার চেষ্টা করেন “কথায় কথায় খেলার মধ্যে ১৯৭১ টেনে আনা ঠিক না” “ক্রিকেট আর মুক্তিযুদ্ধ একনা” আমি তখন ছাগলের ম্যা ম্যা ডাক শুনি!!

আরে আবাল, “পাকিস্তান ক্রিকেট টিম” কি রিপ্রেজেন্ট করে? ১১ জন ক্রিকেটারকে? না!! তারা রিপ্রেজেন্ট করে পাকিস্তান দেশকে, পাকিস্তানের পতাকাকে!! যেইটা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য অকাতরে বুকের রক্ত ঢেলে দিলো লক্ষ লক্ষ মানুষ, রক্তের সাগরের ডুব দিয়ে আনা হলো নতুন একটা পতাকা!! সেই দুই দেশের খেলা হলে সেইটা কিভাবে “যাস্ট খেলা” থাকে, কোন লজিকে আমি জানি না।

211567.3

অথচ এই ফাকিস্তানিরাই চিরকাল খেলার সাথে ‪#‎রাজনীতি‬ মিশিয়েছে … মুক্তিযুদ্ধের আগে রকিবুল ইসলাম “জয় বাংলা” স্টিকার ব্যাটে নিয়ে খেলতে নেমেছিলো বলে তার উপর মৃত্যুপরোয়ানা জারি করেছিলো … শহীদ জুয়েলের আংগুল কেটে নিয়েছিলো ভালো ব্যাটিং করতো বলে, পরে অত্যাচার করে করে মেরেছে … এই ফাকিস্তানিরাই এখনো আমাদের ছোট লোক কালো বাংগাল হিসেবে দেখে … এই ফাকিস্তানিদের অধিনায়ক ইমরান খান বাংলাদেশের অধিনায়কের সাথে টস করতে রাজি হয় নাই … এমনকি বাংলাওয়াশ হবার পরো ফাকিস্তানি টকশো গুলোতে বাংলাদেশের নামে যাচ্ছেতাই বলা হচ্ছে!!

এতকিছু ভেংগে বলার পরও যদি কারো মনে ফাকিস্তানের প্রতি বিন্দুমাত্র টান থাকে, যে মুক্তিযুদ্ধ না হলে “বাংলাদেশ-পাকিস্তান” ম্যাচ বলেই কিছুর অস্তিত্ব থাকতো না, সেই রক্তাক্ত ইতিহাস ভুলে “যাস্ট ইঞ্জয়” করার জন্য খেলা দেখার মত সুশীল যারা হতে পারে, তাদের চুলকানি কোথায় আমরা বুঝি, মনের আনাচে কানাচে গহীনে পাকিস্তান ক্রিকেট টিম নয়, খোদ পেয়ারে পাকিস্তান দেশটার জন্যই তাদের কান্নাটা একটু কান পাতলেই শুনা যায়!!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

5 × one =