ক্যাসপার ডলবার্গ : হতে পারেন রোজোনেরিদের তুরুপের তাস!

ফুটবলে লিজেন্ড তৈরীর কারখানা বলা যেতে পারে আয়াক্সকে। তাদের আঁতুড়ঘরেই জন্ম নিয়েছে কালজয়ী অনেক ফুটবলার। আবার অনেকে তাদের ফুটবলীয় জীবনের শৈশবের দীক্ষা নিয়েছেন ছোট্ট নেদারল্যান্ডের এই ক্লাবটিতে। যেমন নিচ্ছেন ক্যাসপার ডলবার্গ মাত্র ১৯ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকারকে এরই মধ্যে আগামীর সম্ভাবনাময় খেলোয়াড় বলা হচ্ছে। ২০১৫ তে আয়াক্সে যোগ দেয়া এই খেলোয়াড় এরই মধ্যে করে ফেলেছেন প্রফেশনাল ক্যারিয়ারের ২০ গোল, তাও আবার ৪৪ ম্যাচ খেলে এবং এই সিজনেই। একজন উঠতি তরুণ ফুটবলারকে পাদপ্রদীপের আলোয় আনতে এর থেকে বেশী আর কী লাগে? সেই সঙ্গে যদি বলা হয়- আটটি এসিস্টও আছে তার ঝুলিতে, তবে বুঝে নিতেই হয় এ ছোকরা গোল দেয়ার সাথে সাথে গোল বানাতেও পটু! এই পটুতার কারণেই তার প্রতি আগ্রহীর তালিকায় রয়েছে ম্যান ইউনাইটেড এবং এসি মিলান। ইউরোপের দুই ঘুমন্ত দৈত্য, একটা সঠিক পরশকাঠির অপেক্ষায় রয়েছে তারা, যার ছোঁয়া ফেলেই ঘুম ভাঙবে তাদের। তবে আজকের লেখাটা শুধু মিলানকে নিয়ে। কেননা, রেড ডেভিলদের থেকে রোজোনেরিদেরই টিম বিল্ডিংটা খুব বেশী জরুরী এখন। সম্প্রতি মিলানের মালিকানা বদল ভক্তদের মনে বসন্তের সুবাতাস দিয়েছে, সেটা এখন পুরনো গল্প। অনেক টাকার ইনভেস্টমেন্ট হবে ক্লাবটিতে, সেটাও পুরনো কথা। তবে ভক্তদের চক্ষু নিত্যই চড়কগাছ হচ্ছে নতুন নতুন টার্গেটদের প্রোফাইল দেখে। প্রচুর টাকা ইনভেস্টমেন্ট যেখানে, সেখানে এমন বড় প্রোফাইলের খেলোয়াড়দের নাম থাকবে এই ইতিহাস ফুটবলে নতুন নয়। যেমন- মিলানের স্ট্রাইকিং এ আগামী সিজন থেকে ধরা হচ্ছে আবামেয়াং অথবা আলভেরো মোরাতার নাম। সাম্প্রতিক কিছু লিংক এমন গুজবই রটায়। দুইজনই পোড় খাওয়া স্ট্রাইকার, আগামী কয়েক সিজন খুব ভালো সার্ভিস দেবে। এদের পাশে যদি ১৮-১৯ বছরের কোন ছোকরাকে পাওয়া যায় যে কি না গোল করা এবং বানানো দুটোতেই পারদর্শী, তবে কেমন হয় বলুন? আগামী এক দশক মোটামুটি নিশ্চিন্তই বলা যায়! যেমনটা নিশ্চিন্ত ছিলাম ইনজাঘি থাকায়। ডলবার্গকে আনলে সুবিধা কী?একটু যদি কানাঘুষোয় কান পাতি তাহলে শুনতে পাবো, একে বলা হচ্ছে আগামীর ইব্রাহিমোভিচ। লোকের কথা কতটা ফলে জানা নেই। তবে তার খেলার ধরনে ইব্রার সাথে পার্থক্য খুব একটা নেই। ড্রিবলিং করা, লং শটে গোল দেয়া, স্বার্থপর না হয়ে সতীর্থকে পাস দেয়া, মাথা ঠান্ডা রেখে ফিনিশিং করা- মোটামুটি সবকিছুই আছে ওর। বলের অপেক্ষায় ফরোয়ার্ডে বসে থাকে না, বরং নীচে নেমে বল কেড়ে নেয়ার গুণও আছে। এবারের ইউরোপা ফাইনালে আয়াক্সের এক পা রাখার পেছনেও অবদান আছে তার, ইউরোপিয়ান টুর্নামেন্টেও ৬ গোল হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করে দল সাজাতে দারুণ এক চয়েজ হতে পারে এই ডেনিশ তুর্কি। কিন্তু মিলানে আসবে কেন? এর একটা কারণ হতে পারে, আয়াক্স এবং মিলানের অতীত ট্রান্সফার বন্ধুত্ব। নব্বই দশকের খুলিত, বাস্তেন, রাইকার্ড- সবাই মিলানে এসেছিলেন আয়াক্স থেকেই। যেকারণে আশা দেখতেই পারে রোজোনেরি ভক্তরা। সাথে ডলবার্গের সাধ্যের মধ্যে থাকা প্রাইসট্যাগ আর মিলানের সাম্প্রতিক টাকার ঝনঝনানিও আশা জোগাতে পারে। যদিও টাকার ঝনঝনানিতে পিছিয়ে থাকবে না ম্যান ইউনাইটেড। তবে সময়ই বলে দেবে কার গায়ে উঠবে মিলান জার্সি!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

ten − ten =