কার্সডর্প পারবেন রোমাতে কাফু-পানুচ্চিদের ছাড়াতে?

নতুন মৌসুমে এএস রোমা সাজছে নতুন সাজে। দলে এসেছেন নতুন কোচ ইউসেবিও ডি ফ্র্যানসেস্কো, এসেছেন কিংবদন্তী স্পোর্টিং ডিরেক্টর মঞ্চি। এই দুইয়ের সম্মেলনে দলবদলের বাজারে বেশ ভালোই সাড়া ফেলছে তারা। মেক্সিকান অধিনায়ক সেন্টারব্যাক হেক্টর মোরেনো আর ইতালিয়ান তরুণ মিডফিল্ডার লরেঞ্জো পেলেগ্রিনিকে আনার পর এবার তারা রাইটব্যাক পজিশানটা শক্তিশালী করার পেছনে লেগেছে, আর সে উদ্দেশ্যেই ডাচ ক্লাব ফেইনুর্দ থেকে উদীয়মান রাইটব্যাক রিক কার্সডর্পকে দলে এনেছে তারা। পাঁচ বছরের চুক্তিতে আপাতত ২০২২ সাল পর্যন্ত থাকার চুক্তি করেছেন তিনি রোমার সাথে, মোটামুটি ১৯ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে, যার মাধ্যমে ফেইনুর্দের ইতিহাসের সবচেয়ে দামী বিক্রয় করা খেলোয়াড় বনে গেছেন তিনি। ২২ বছর বয়সী এই রাইটব্যাক গত মৌসুমেই ফেইনুর্দের হয়ে জিতেছেন ডাচ লিগ।

এখনকার যুগে ফুলব্যাক হতে গেলে শুধুমাত্র ডিফেন্সের বিষয়টা মাথায় রাখলেই চলে না। আক্রমণেও হতে হয় সমান পটু। আগের যুগের কাফু-রবার্তো কার্লোস, কিংবা এখনকার সময়ের মার্সেলো, অ্যালেক্স সান্দ্রো, হেক্টর বেয়েরিন, দানি আলভেস, জর্ডি অ্যালবা – প্রত্যেকেই রক্ষণের পাশাপাশি আক্রমণও শানাতে পারেন সমান পারদর্শীতার সাথে। রিক কার্সডর্পও তার ব্যতিক্রম নন। সুযোগ পেলেই মাঠের ডানপ্রান্তে একেবারে উপরে উঠে গিয়ে বক্সে প্রয়োজনমত ক্রস ফেলতে অনেক পারদর্শী তিনি। প্রত্যেক ম্যাচেই ডানদিক থেকে উপরে উঠে গিয়ে প্রচুর ক্রস ডিবক্সে ফেলেন তিনি, কোনটা সফল হয় কোনটা হয়না। গত মৌসুমে লিগে ২৮ ম্যাচে দশ-দশটা অ্যাসিস্ট করতে পারার পেছনে কিন্তু এই সফল ক্রস করতে পারার ভূমিকাটাই সবচেয়ে বেশী। শতকরা ৮২ ভাগ সফল পাসের হার বল পায়ে তাঁর সফল পাস দেওয়ার ক্ষমতাকেও স্মরণ করিয়ে দেয়। প্রতি ম্যাচে অন্তত একটা ”কি পাস” দেওয়ার ক্ষমতার অর্থ তিনি মোটামুটি নিয়মিত সতীর্থদের গোল করার পজিশানে নিয়ে যেতে পারেন পাস দেওয়ার মাধ্যমে। প্রায়শই যেহেতু উপরে উঠে ক্রস দেন তিনি, তাঁর মানে ডিফেন্ডার হিসেবে যথেষ্ট গতিশীল কার্সডর্প।

কার্সডর্পের আরেকটা অনেক বড় গুণ হচ্ছে তিনি কখনই সেভাবে হলুদ কার্ড বা লাল কার্ড খান না। গত মৌসুমে লিগে ২৮ ম্যাচ খেলার পরেও মাত্র ৪টা হলুদ কার্ড খেয়েছিলেন তিনি, যা তাঁর মত তরুণ প্রতিভার জন্য অনেক প্রশংসনীয় একটা ব্যাপার। তাঁর খেলায় নেতিবাচক দিক কিছু থেকে থাকলে সেটা হল বাতাসে ভেসে আসা বল সামলানোর ক্ষেত্রে অতটা পটু নন তিনি। ছয় ফুট উচ্চতা হওয়া সত্বেও বাতাসে ভেসে আসা বলগুলো সামলানোর ক্ষেত্রে অতটা পারদর্শীতা দেখা যায় না তাঁর মধ্যে। অন্যান্য সতীর্থ ডিফেন্ডারদের তুলনায় অতটা বেশী ট্যাকলও করেন না তিনি, ফলে দেখা যায় মাঝে মাঝে যখন ট্যাকলের খুব প্রয়োজন, তখনও ট্যাকল দিতে পিছপা হচ্ছেন তিনি। এটাও তাঁর খেলার স্টাইলের একটা বাজে দিক।

নতুন কোচ ইউসেবিও ডি ফ্র্যানসেস্কোর আক্রমণাত্মক ৪-৩-৩ ফর্মেশানে আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে কার্সডর্প অনেক গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়ই হতে যাচ্ছেন, বাকীটা দেখা যাবে পরে! রোমার ইতিহাসে কাফ্য বা ক্রিস্টিয়ান পানুচ্চিদের মত রাইটব্যাক খেলে গেছেন আগে, কার্সডর্প কি পারবেন অর্জনের দিক দিয়ে তাদের ছাড়াতে? দেখা যাক!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

two + twenty =