এক ফ্রি কিক মায়েস্ত্রোর কথা

বলা হয়ে থাকে, তার থেকে জোরে বেশী কেউ অ্যাকিউরেটলি স্থির বল পা দিয়ে মারতে পারেনা ফুটবল ইতিহাসে। পারফেক্ট ডেড বল স্পেশালিস্ট যাকে বলে আরকি। ২০১৩ সাল পর্যন্ত হিসাব করলে শুধুমাত্র ফ্রি-কিক থেকেই গোল করেছেন ৭৬টার মত। ডেভিড বেকহ্যাম, অ্যান্দ্রেয়া পিরলো, জিকো – এই তিন ফ্রিকিক জাদুকরের মোট ফ্রিকিক গোল যোগ করলেও হয়তোবা ৭৬টা হবেনা। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো থেকে শুরু করে অ্যান্দ্রেয়া পিরলো, দিদিয়ের দ্রগবা – তাঁর ফ্রিকিক নেওয়ার স্টাইল নকল করেছেন এদের সবাই-ই। তর্কসাপেক্ষভাবে বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম ফ্রি-কিক স্পেশালিস্ট তিনিই। তিনি জুনিনহো, জুনিনহো পারনামবুকানো ; অলিম্পিক লিওঁর ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তী।

এমন না যে ফ্রিকিক থেকে গোল করার জন্য তাঁর বক্সের আশেপাশেই ফ্রিকিকটা পাওয়া লাগত। তিনি মোটামুটি বক্সের যেকোন দুরত্ব থেকেই ফ্রিকিক গোল করতে পারতেন।

এই বিদ্যা অবশ্যই তাঁর একদিনে রপ্ত হয়নি। তিনি ফ্রিকিক নেওয়ার সময় যে টোটকাটা খাটাতেন তার নাম ছিল “নাকলিং বল মেথড”, এই পদ্ধতিতে বল এমনভাবে মারা হত যাতে বলের মধ্যে কোন ধরণেরই ঘূর্ণন গতি না থাকে। ফলে অননুমেয়ভাবে বল উড্ডয়নের পর যেকোন দিকেই বাঁক খেত, প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার বা গোলরক্ষকদের অনেক সমস্যার সৃষ্টি হত যার ফলে, সাথে দুর্ধর্ষ গতি ত ছিলই।  এধরণের টেকনিক মূলত বাস্কেটবলে পিচাররা করে থাকেন, যে ট্যাকটিক্স এই জুনিনহোই ফুটবলে সর্বপ্রথম নিয়ে আসেন। এইধরণের ট্যাকটিক্সের ফলেই জুনিনহো মূলত বেশী দূর থেকে নেওয়া ফ্রিকিক গুলোকে গোলে রূপান্তরিত করতে পারতেন।

ফ্রিকিকের এই যুগান্তকারী ট্যাকটিক্সের আবিষ্কারকের আজ জন্মদিন। শুভ জন্মদিন, জুনিনহো!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

5 × 5 =