জয়তু MSN…!

।।১।।

বছরের শুরুতেই ধাক্কাটা খেলেন তিনি। টানা চারবার জিতে যে পুরস্কারটাকে নিজের ব্যাক্তিগত সম্পত্তি বানিয়ে নিয়েছিলেন, সেটিই হাতছাড়া হয়ে গেল। এবং, সবচেয়ে নির্মম সত্য, সেটা নিয়ে গেল তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীই। টানা আড়াই মাস হ্যামস্ট্রিং সেড়ে মাঠে এসেই গেটাফের বিরুদ্ধে দিলেন চোখ ধাঁধানো এক গোল। সবাই ভাবলো, বোধহয় সেরাটাই ঢেলে দিবেন তিনি। কিন্তু শেষটায় জট লেগে গেলো। জট ছাড়াতে ব্যর্থ হলেন সহযোদ্ধারা। সম্ভাব্যতা বলে একটা ব্যাপার নিয়ে যথেষ্ট ঘাঁটাঘাঁটি করেন গণিতবিদরা। সেই সম্ভাবনার হিসেবে প্রতি ২০ বারে যা কেবল ১ বার ঘটাই সম্ভব সেটাই হয়েছে তার ক্ষেত্রে। ভালো করে বলতে গেলে তার বিরুদ্ধে। একবার নয়, বারবার। লা লিগার ফাইনাল ম্যাচে তার গোল ধরা হলো অফসাইড, কোপা ডেল রে ফাইনালে মার্ক বার্ত্রাকে দ্রুতদৌড়ে পরাজিত করে মিলিয়ন ডলার ম্যান গ্যারেথ বেল এর সেই গোল, চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ফাইনালে রাইভাল ক্লাবের ১২ সেকেন্ড আগে ম্যাচে ফিরে লা ডেসিমা জয় কিংবা বিশ্বকাপ ফাইনালে মুড়ি মুড়কির মতো আলবিসেস্তে স্ট্রাইকারদের সহজ গোল মিস এবং অবশ্যই অন্তিম মুহূর্তে মারিও গোটজের সেই অসম্ভব গোল। বছরের পরের দিকটা ভালো গেলনা মোটেও। দলের মিডফিল্ড সামলাতে নিজে নিয়ে নিলেন প্লেমেকারের দায়িত্ব। প্রতিদ্বন্দ্বীর সাথে গোলের পার্থক্য বাড়তে থাকলো। বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় হওয়া নিয়ে ঠাট্টা মস্করা শুরু করলেন প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্টিয়ানো, প্রশ্ন তুলতে দ্বিধা করেননি স্বয়ং ম্যারাডোনাও! এবার আর পায় কে ! পাড়া মহল্লার লোকেরা পর্যন্ত বলা শুরু করলো, তিনি শেষ। তার সেরাটা এখন অতীত। এরপর ! কোনো এক সপ্তাহে ব্যার্থতার গ্লানি ঘুচাতে কিঞ্চিত প্রশান্তি হয়ে এসেছিলো লা লিগার সর্বোচ্চ গোলদাতা আর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগের সর্বোচ্চ স্কোরার এর স্থান। একজন চ্যাম্পিয়ন এর সারাটা বছর যখন রানার্সআপ দিয়েই চলে, তখনই বুঝা যায় সে বছরে তিনি কতটা বিফল! সাথে যখন মাঠের বাইরে তার ইমেজ নষ্ট করার জন্য উৎ পেতে থাকা হেটাররা তার বিরুদ্ধে নিয়ে আসে কর ফাঁকির অভিযোগ কিংবা অখ্যাত কোনো ডিফেন্ডার দাবি করে ম্যাচ শেষে তাকে গালমন্দ করেছেন সাবেক সেরা খেলোয়াড়, তখন বুঝাই যায় ব্যাপারটি কতটা হতাশাব্যাঞ্জক। ২০১৪ কে ভুলে যেতেই চান খুদে জাদুকর।

hi-res-035d367ad014ddbff00c84a0a8b15def_crop_north

।।২।।
ছোটকাল থেকেই আদর্শ যিনি, যার সাথে খেলার স্বপ্নটা আজীবন লালন করে এসেছিলেন, তার সাথে একই ড্রেসিং রুমে তিনি ! ভাবা যায় ! শুরুটা দুর্দান্তই ছিলো, কিন্তু অঙ্কুরেই স্বপ্নের সমাধি। আইডল নিজেই ইনজুরিতে জর্জরিত। প্রথম মৌসুমে ক্লাব থেকে পেলেননা কোন বিগ ট্রফি, সাথে নিন্দুকদের কুৎসা রটানো তো আছেই। গায়ে আঁচড় লাগলেও নাকি তিনি মাটিতে গড়াগড়ি খান, এমন কথাও শুনতে হল তাকে, স্বপ্নের ক্লাবে স্বপ্ন পূরণের প্রথম মৌসুমে। সাথে যোগ হলে ট্রান্সফার জালিয়াতির অভিযোগ- ক্লাব এবং তার বাবার বিরুদ্ধে। নিজ দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ জিতে এটার বদলা নিবেন, হয়তো মনে মনে সে প্রতিজ্ঞাটাও করেছিলেন। কিন্তু বিধি বাম ! অমানুষিক এক ফাউলের শিকার হয়ে মিস করেন সেমিফাইনাল। দেশের মাটিতে দল হেরে যায় লজ্জাজনক ৭-১ গোলে। ফাইনালে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেলেন নিজের আইডলকে, কিন্তু আইডল নিজেও বিদায় নিলেন কান্নাভেজা চোখ নিয়ে। ২০১৪ সালটা হয়তো তিনিও ভুলে থাকতে চাইবেন।

hi-res-452796511-neymar-of-fc-barcelona-reacts-during-the-la-liga-match_crop_exact

।।৩।।
তার সবচেয়ে আদরের সন্তানের নাম ডেলফিনা। সেই ডেলফিনা আর ঠিকমতো স্কুলে যাওয়া আসা করতে পারছে না। নাহ, কোন প্রকার ইভটিজিং নয়, সবার টিটকারী তার বাবাকে নিয়েই। তার বাবা নাকি খেলার মাঠেই কামড়ে দিয়েছিলেন প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার ইভানোভিচকে, সেটা নিয়েই ক্ষেপানো হতো মেয়েকে। ১০ ম্যাচ নিষেধাজ্ঞার পরে বাবা ফিরলেন মাঠে। তারপরে দুই মাসের ব্যাবধানে ছাড়িয়ে গেলেন প্রিমিয়ার লীগের টপ স্কোরারকে। লিভারপুল মানেই তিনি ! গোলের পর গোল করে ২০১৩ সালে বিগ টু এর সাথে ফাইট দেয়া নতুন নাম হিসেবেই আবির্ভূত হলেন। কিন্তু ২০১৪ সাল তো তাকেও ছাড়লো না। যেই ক্যাপ্টেনের জন্য জানপ্রাণ দিয়ে তিনি প্রিমিয়ার লীগে নিজের সেরাটা ঢাললেন, সেই ক্যাপ্টেনের ভুলেই লীগের প্রথম ধাক্কাটা খেল অল রেডরা। আশা যেটুকু ছিলো, সেটাও ভেস্তে গেলো ক্রিস্টাল প্যালেসের কাছে শেষ ১১ মিনিটে তিন গোল খেয়ে। ইতিহাস সৃষ্টির আগেই হোঁচট খাওয়ার পরে তিনি ভাবলেন জাতীয় দলের জন্য বিশ্বকাপে কিছু করে দেখাবেন। শুরুর ম্যাচেই জো হার্টের মতো গোলকীপারের জালে ২ বারের চেষ্টায় ২ বার গোল। শতভাগ সফলতা! কিন্তু পরের ম্যাচেই তার এ-কি কান্ড। আবারো যে একই ভুল করে বসলেন তিনি! ইতালির ডিফেন্ডার কিয়েলিনিকে কামড় দিয়ে সাথে সাথেই বুঝে ফেললেন মস্ত বড় এক ভুল করে বসেছেন তিনি। দাঁত ধরে বসে পড়লেন, ক্ষমা চাইলেন মিডিয়াতে। কিন্তু এক ভুল বারবার করলে ক্ষমা করা যায় নাকি ! ভুলের মাশুল আরো চার বাসের নিষেধাজ্ঞা। ব্যান শেষ হবার পরে নতুন ক্লাবে প্রথম ম্যাচেই ৩-১ গোলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে হার। সেই সাথে মিস করা শুরু করলেন ভুরি ভুরি গোল। নিন্দুকেরা প্রশ্ন তুললেন- তবে কি তার সেরাটা তিনি অ্যানফিল্ডেই কবর দিয়ে এসেছেন ? শেষতক সবচেয়ে বড় কষ্ট তিনি পেয়েছেন বছরের শেষ দিকে। ব্যালন ডি অর এর ২৩ জনের লিস্টেও জায়গা হয়নি তার নাম, কারণ – আচরণগত সমস্যা। অথচ, প্রিমিয়ার লিগের সেরা খেলোয়াড় ছিলেন তিনিই ! ২০১৪ সাল হয়তো তার কাছেও এক দুঃস্বপ্নের বছর।

8e97f470174c02833399393aecb5f93f_crop_north

।।৪।।
নতুন বছরের প্রথম ম্যাচ। প্রতিপক্ষ ডেভিড ময়েসের নতুন দল রিয়াল সোসিয়াদেদ। ম্যাচের স্টার্টিং লাইনআপে নেই সেই ব্রাজিলিয়ান স্টারলেট কিংবা আর্জেন্টাইন লিটল ম্যাজিশিয়ান। ফলাফল- ভয়াবহ ! পুঁচকে দলটির কাছে ১-০ গোলে হার এবং লীগের প্রথম স্থান হাতছাড়া। কোচের সাথে নাকি জাদুকরের ঝগড়া ! এক বনে দুই বাঘ- এ তো অসম্ভব। জাদুকর নাকি কোচ ? কে থাকবে আর কাকে সরে পড়তে হবে ? সবার মুখেই কোচের বিরুদ্ধে দুয়োধ্বনি।

1250x703xMessi-vs-Luis-Enrique-The-battle-continues-fight-goodbye-coach-argentine-star-chelsea-transfer-mourinho.jpg.pagespeed.ic.CEwYvWMSOK

জাদুকর নাকি লন্ডনে পাড়ি জমাচ্ছেন এমন গুজবে চাউড় হয়ে গেলো মিডিয়া। লন্ডনের নীল দলের সমর্থকেরা আনন্দে দিলেন দুই লাফ ! ক্লাবের দীর্ঘদিনের লিডার কার্লেস পুয়োল পদত্যাগ করলেন। চাকরিচ্যুত হলেন চার বছর স্পোর্টিং ডিরেক্টর পদে থাকা সাবেক গোলকীপার জুবিজারেতা। স্বয়ং প্রেসিডেন্টও পড়ে গেলেন বিপাকে। ঘোষণা দিলেন নতুন নির্বাচনের। সব যখন অনিশ্চয়তার দিকে যাচ্ছিলো এমন সময়েই ত্রাতা হয়ে হঠাৎ মঞ্চে আবির্ভাব মিডফিল্ড মায়েস্ত্রোর। গত বছরেই চলে যেতেন। কিন্তু, কোচ অনেক হাতেপায়ে ধরে তাকে রেখে দিয়েছেন। কৃতজ্ঞতার কারণে নাকি কি কারণে নিশ্চিত না, তিনিই জাদুকরকে দিলেন ধমক। হারানো মসনদ ফিরে চাও ? নাকি চাও সে আবারো তোমার থেকে এগিয়ে যাক? মুহূর্তেই ঘটে গেল বিপ্লব। উরুগুয়ের স্ট্রাইকারকে ডেকে তার সাথে বোঝাপড়াটা সেরে ফেললেন। নিজে চলে আসলেন পুরো রাইট উইঙ্গে আর উরুগুয়ান স্ট্রাইকার ফিরে পেলেন তার নিজের নাম্বার নাইন যায়গা।

।।৫।।
অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের বিরুদ্ধে পরের ম্যাচে অগ্নিপরীক্ষায় পড়লেন কোচ। জিতো নাহলে পদ ছাড়ো। এমন স্লোগান ক্যাটালানদের মুখে। সেই ম্যাচে দুর্দান্ত প্রতাপের সাথে লীগ চ্যাম্পিয়নদের ধূলিস্যাৎ করে দেন তিনি। এই ম্যাচে গোল করেন দলের তিন ফরোয়ার্ড- মেসি, সুয়ারেজ, নেইমার। সংক্ষেপে MSN. সেই থেকেই পথচলা MSN এর। মেসির শেষ গোলের পরে এই ত্রিরত্নের সেলিব্রেশন দেখলে কেঁদে উঠবে যে কোনো পাঁড় ক্যাটালান সমর্থক।

1421052156961

এরপর ? আর কি ? ইতিহাস! গোলের পরে গোল করে রেকর্ড ভাংলেন তারা। রিয়াল মাদ্রিদের তিন ফরোয়ার্ডের ১১৮ গোলের রেকর্ড ভেঙ্গে তাদের সংরহে এখন ১২২ গোল। তার মধ্যে ১০ টি ম্যাচে সুয়ারেজ খেলতেই পারেননি। এই ত্রয়ীর সামনে সবাই তুচ্ছ। খরকুটার মতো উড়ে গেলো ইংলিশ চ্যাম্পিয়ন ম্যানসিটি। পুরনো শত্রুকে পেয়েই লুইস সুয়ারেজ ম্যানচেস্টারের ইতিহাদে করেন দুই গোল। ফিরতে লেগে ন্যু-ল্যাম্পে আসেন পেপ গার্ডিওলা। গার্ডিওলার সেরা শিষ্য লিও মেসি সেদিন নাস্তানাবুদ করে ছাড়েন ম্যানসিটিকে। কোপা ডেল রে তে দুর্দান্ত প্রতাপে হারালেন অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদকে। তাদের তিনজনের পারফর্মেন্সে পুরো দলই যেন বদলে গেল। টিকি টাকার সাথে যোগ হলো কাউন্টার অ্যাটাক। মিডফিল্ড আগলে রাখলেন ট্যাকটিকাল জিনিয়াস বুসি। আর স্ট্যাবিলিটি ধরে রাখলেন রাকিটিচ। নিজেকে খুঁজে ফিরা পিকে ফিরে পেলেন নিজেকে। জর্ডি আলবার সাথে দৌড়ে পেরে উঠলো না কোনো উইঙ্গার। ড্যানি আলভেস পুরনো বন্ধুকে রাইট উইঙ্গে ফিরে পেয়ে নাস্তানাবুদ করতে থাকলেন প্রতিপক্ষকে। ব্রেভ গোলকীপার ব্রাভো জিতিয়ে দিলেন অনেক ম্যাচ। উদীয়মান তরুণ টার স্টেগানই বা পিছিয়ে থাকবেন কেন ? ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন আগুয়েরোর পেনাল্টি। বুড়ো ম্যাথিও দলের দুর্দিনে করতে থাকলেন গুরুত্বপুর্ণ সব গোল। সব নিশ্চিত গোল নিখুঁত স্লাইড ট্যাকেলে প্রতিহত করলেন মাসচেরানো। মিডফিল্ড মায়েস্ত্রো জাভি দলের সব গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেই রাখলেন অবদান। আর পুরো মৌসুমের নিষ্প্রভ ইনিয়েস্তা ফর্ম ফিরে পেলেন এমন সময়ে যখন দলের তাকে সবচেয়ে দরকার। কি এক আশ্চর্য জাদুতে বদলে গেল অনিশ্চয়তা !

।।৬।।
১২২ গোল। সংখ্যাটা নিতান্তই একটা পরিসংখ্যান। MSN এর প্রভাব বুঝানোর জন্য এই স্ট্যাট একটি উপায়, তবে এটিই সব নয়। একটু ভালোভাবে বুঝিয়ে দেয়া যাক। অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের বিরদ্ধে কোপা ডেল রে এর ফিরতে ম্যাচে শুরুতেই এগ্রিগেট স্কোরে সমতা আনেন টরেস। তার পরেই কাউন্টারে বল পান মেসি। কোনো কথা না বাড়িয়ে সোজা পথে বল বাড়িয়ে সেটা দিলেন সুয়ারেজকে। অরক্ষিত নেইমারের ভোঁ দৌড়। সুয়ারেজের বাড়িয়ে দেয়া বলে এগিয়ে আসা গোলকীপারকে পরাস্ত করলেন দুরূহ কোণে। কাউন্টারে বার্সার গোল ! দুই বছর আগে যে ছিল স্বপ্ন এবার সেটাকেই নিয়মিত বানিয়ে ফেলেছেন এই ত্রিশূল।
অ্যাতলেটিকো বধ যদি করে থাকেন নেইমার, ম্যানসিটির ম্যাচে ফিজিকালি স্ট্রং সুয়ারেজ দায়িত্ব নিলেন এবার। তার দেয়া দুই গোলেই ম্যাচ শেষ তাদের। পিএসজির বিরুদ্ধে প্রথম লেগ দেখে নিলেন সুয়ারেজ। নাস্তানাবুদ করে ছাড়লেন ডেভিড লুইজকে। সেকেন্ড লেগে নেইমার শো। আর লীগে ? একের পর এক হ্যাটট্রিক করেই চললেন লিও মেসি। রিয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত এক গোলে জিতালেন সুয়ারেজ। ফ্রেঞ্চ, ইংলিশ, স্প্যানিশ, ডাচ, ইউরোপিয়ান ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন শেষে এবার দেখা হলো জার্মান চ্যাম্পিয়নের সাথে। মেসি নেইমার দুজনেরই জাতীয় দলের ক্ষতের বদলা নেবার সুযোগ আসলো। একেবারে সময়মত দুই গোল করলেন মেসি। ২য় গোলটি ছিলো এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লীগের সেরা গোল। টুইটার আর ফেসবুক প্রশংসার বাণীতে ভরে গেলো। লীগ নিশ্চিত করার দিনে এক গোল, লিগের শেষ ম্যাচেও দুই গোল করলেন মেসি। তারপরে কোপা ডেল রে ফাইনালের গোলের কথা না বললেই নয়- “ওয়ান অফ দা গ্রেট কোপা ডেল রে ফাইনাল গোল ফ্রম দা ম্যাজিকাল, ম্যাকুরিয়াল লিওনেল মেসি। লাইটস অফ দা ক্যাম্প ন্যূ ওয়ান মোর টাইম।” সবচেয়ে দারুণ ছিল এই ত্রিরত্নের পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সম্মান। প্রত্যেকেই এসিট করেছেন অনেকগুলো করে। নিশ্চিত গোল না ? পাস দিয়ে দাও সুবিধাজনক স্থানে থাকা অন্য সতীর্থকে। এই নীতিতে খেলেছেন ত্রিরত্ন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালের তিনটি গোলেই এদের কারো না কারো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অবদান ছিলো।

2968D03B00000578-3115238-image-a-65_1433762140890

।।৭।।
আজ ত্রিরত্নের আনন্দের দিন। ত্রিরত্নের হাতে আজ ট্রেবল। ২০১৪ সালের দিকে আর ফিরেও তাকাবে না তারা। পুরো পৃথিবী তাদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। “সুয়ারেজ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেলবে এমন না, সে থাকবে চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জয়ীর স্থানে” – জেমি ক্যারেগার এভাবেই ভাসিয়েছেন সাবেক সতীর্থকে। আর নেইমার ? ব্যালন ডি অর এর কথা উঠতেই লাজুক মুখে হেসে বললেন, “এটা তো আমার জন্য নয়। এর মালিক আমাদের নাম্বার টেন- খুদে জাদুকর।”

296E7C2700000578-3114455-image-a-1_1433713651013

ন্যু ক্যাম্পের ট্রেবল উদযাপনের আনন্দের রাতে মেসি মাইক হাতে নিলেন। কথা শেষে ট্রেবল বা তিনটি ট্রফি দেখিয়ে বললেন,
“আপনারা (সমর্থকরা) তিনটি ট্রফি চান ? এই নিন, তিনটাই এখন আপনাদের। ”

296E801500000578-3114455-image-a-3_1433713661779
১৭ বছর এক ক্লাবে থাকা কিংবদন্তী, স্পেনের ইতিহাসের সেরা ফুটবলার জাভির জন্য এর চেয়ে আনন্দের বিদায় হয়তো MSN ছাড়া আর কেউই দিতে পারতো না।

জয়তু বার্সা, জয়তু এনরিকে, জয়তু MSN।

 

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

9 − 8 =