যত কাণ্ড বিশ্বকাপ ফুটবলে : জোসিপ সিমুনিচ ও তিন হলুদ কার্ডের গপ্পো!

যত কাণ্ড বিশ্বকাপ ফুটবলে : জোসিপ সিমুনিচ ও তিন হলুদ কার্ডের গপ্পো!

আর মাত্র ৩৪ দিন বাকী। ৩৪ দিন পরেই শুরু হবে বিশ্ব ফুটবলের সর্ববৃহৎ মহাযজ্ঞ – বিশ্বকাপ ফুটবল। ১৯৩০ সাল থেকে শুরু হওয়া এই মহাযজ্ঞের একবিংশতম আসর বসছে এইবার – রাশিয়ায়। বিশ্বকাপ ফুটবলের অবিস্মরণীয় কিছু ক্ষণ, ঘটনা, মুহূর্তগুলো আবারও এই রাশিয়া বিশ্বকাপের মাহেন্দ্রক্ষণে পাঠকদের মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য গোল্লাছুট ডটকমের বিশেষ আয়োজন “যত কাণ্ড বিশ্বকাপ ফুটবলে”!

ফুটবল মাঠে আপত্তিজনক বা অননুমোদিত কোন কাজ করলে প্রথমে সেই কাজ করা ফুটবলারকে হলুদ কার্ড দেখিয়ে সতর্ক করা হয়। তারপর আবারও ঐ ফুটবলার আরেকটা আপত্তিকর কাজ করলে আরেকটি হলুদ কার্ড দেখিয়ে দুই হলুদ কার্ড যুক্ত করে লাল কার্ড দেখানো হয় – এটা ফুটবলের অতি প্রাথমিক ও প্রচলিত একটা নিয়ম। কাজটা ভয়াবহ রকমের নেতিবাচক হলে রেফারি সরাসরিই লাল কার্ড দেখাতে পারেন খেলোয়াড়কে। কিন্তু ২০০৬ সালের বিশ্বকাপ এ রেফারিং করতে যাওয়া তৎকালীন ইংল্যান্ডের অন্যতম সেরা রেফারি গ্রাহাম পোল খুব সম্ভবত রেফারিং এর এই সহজ অ-আ-ক-খ টা ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরেই ভুলে গিয়েছিলেন!

মঞ্চ গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচ – অস্ট্রেলিয়া বনাম ক্রোয়েশিয়া। গ্রুপ এফ এর এই দুই দলের রানার্স আপ হিসেবে পরের রাউন্ডে জায়গা করে নেওয়ার এটাই শেষ সুযোগ, কেননা ব্রাজিল ইতোমধ্যে দ্বিতীয় রাউন্ডে গ্রুপ এফ এর চ্যাম্পিয়ন হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচটা অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। আর এই উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচের পারদ আরেকটু চড়িয়ে দিয়েছিল গ্রাহাম পোলের বিতর্কিত রেফারিং।

যত কাণ্ড বিশ্বকাপ ফুটবলে : জোসিপ সিমুনিচ ও তিন হলুদ কার্ডের গপ্পো!

৬১ মিনিটে অস্ট্রেলিয়ার হ্যারি কিউয়েলকে ফাউল করার অপরাধে ক্রোয়েশিয়ান সেন্টারব্যাক জোসিপ সিমুনিচকে প্রথম হলুদ কার্ড দেখান পোল। ৮৯ মিনিটে আরেকটা ফাউলের জন্য সিমুনিচকে আবারও হলুদ কার্ড দেখান পোল। স্বাভাবিকভাবেই দুইটা হলুদ কার্ডের পর সিমুনিচকে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেওয়ার কথা পোলের। কিন্তু কোন এক বিচিত্র কারণে কেন জানি গ্রাহাম পোলের লাল কার্ড দেখানোর কথা মনে হল না! পরে ম্যাচ শেষ হয়ে যাওয়ার পরে জোসিপ সিমুনিচ কোন এক কারণে গ্রাহাম পোলের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে পোলকে একটা ধাক্কা দেন। শুধুমাত্র তখনই আরেকটা হলুদ কার্ড দেখানোর মাধ্যমে জোসিপ সিমুনিচকে লাল কার্ড দেখানোর কথা মনে পড়ে গ্রাহাম পোলের! সৃষ্টি হল দুটবল বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম হাস্যকৌতুকময় একটা ঘটনার!

কিন্তু এরকম কেন করলেন গ্রাহাম পোল? পোলের সহজ স্বীকারোক্তি – সিমুনিচকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানোর পরে ভুলে নিজের নোটবইতে “ক্রোয়েশিয়ান নাম্বার ৩ জোসিপ সিমুনিচ” না লিখে “অস্ট্রেলিয়ান নাম্বার ৩ ক্রেইগ মুর” লিখে রাখেন গ্রাহাম পোল। এর কারণটাও বেশ বিচিত্র!

জোসিপ সিমুনিচ ক্রোয়েশিয়ার হয়ে ১৩ বছর খেললেও তাঁর জন্ম কিন্তু হয়েছিল অস্ট্রেলিয়াতে। অস্ট্রেলিয়াতে জন্মানো ও বেড়ে ওঠা সিমুনিচের বাবা-মা যদিও ছিলেন বসনিয়ান-হার্জেগোভিয়ান। এমনকি সিমুনিচের ফুটবল ক্যারিয়ারের শুরুটাও ছিল অস্ট্রেলিয়াতে। অস্ট্রেলিয়ান ইন্সটিটিউট অফ স্পোর্টের যুবদলে ফুটবলের দীক্ষা পাওয়া সিমুনিচ মেলবোর্ন নাইটসের হয়ে ৩০ ম্যাচ খেলে তবেই জার্মান লিগে হ্যামবার্গের হয়ে খেলতে আসেন। আর ক্রোয়েশিয়ার জাতীয় দলের হয়ে খেলার স্বপ্নটা সিমুনিচের সেই ছোটবেলা থেকেই ছিল। অস্টড়েলিয়ায় বেড়ে ওঠার কারণে যেটা হয়েছিল, সিমুনিচের কথার টানে বা কথার ভঙ্গিমা একদম খাঁটি অস্ট্রেলিয়ানদের মত ছিল। ফলে যে জিনিসটা হয়েছে, সিমুনিচকে হলুদ কার্ড দেখালেও তাঁর কথার ভঙ্গির জন্য তাঁকে অস্ট্রেলিয়ান ভেবে ভুল করেন গ্রাহাম পোল, আর কপাল পোড়ে অস্ট্রেলিয়ার ৩ নম্বর জার্সিধারী ক্রেইগ মুরের!

যত কাণ্ড বিশ্বকাপ ফুটবলে : জোসিপ সিমুনিচ ও তিন হলুদ কার্ডের গপ্পো!

২০০৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে রেফারিং করার দৌড়ে গ্রাহাম পোলের নাম এই ঘটনার আগে বেশ জোরেশোরেই উচ্চারিত হচ্ছিল। কপাল খারাপ, এই ঘটনার পর বিশ্বকাপ ফাইনাল কি, আর কোন বিশ্বকাপের ম্যাচই পরিচালনা করতে দেওয়া হয়নি পোলকে। তিনি ও তাঁর দুই সহকারীকে এই ম্যাচের পরেই তল্পিতল্পা গুটিয়ে নিজ দেশে পত্রপাঠ পাঠিয়ে দেয় ফিফা!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

2 × 2 =