যে কথা সবার মনে – ১

কোন কিছুর কারণ খুঁজতে যেয়ে দুইয়ে দুইয়ে চার মিলিয়ে কারণ খুঁজে ফেললে সেটাকে ভদ্রলোকের ডিকশনারি অনুযায়ী একটা নাম দেওয়া হয়। সে নামটা হলো কন্সপাইরেসি থিওরি। বাংলাদেশের ক্রিকেটে এখনো পর্যন্ত জনপ্রিয় হওয়া সবচেয়ে বড় কন্সপাইরেসি থিওরি হলো মাশরাফির ২০১১ বিশ্বকাপ খেলতে না পারার পিছে সাকিব-সিডন্সের মাস্টারস্ট্রোক। আজ তার ছয় বছর পরে আরো একটা ইস্যু নিয়ে দুটো শব্দ ব্যয় করতে হচ্ছে। সেই ইস্যুতে আবারও বাংলাদেশের জনপ্রিয়তম ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজা এবং আগের মতোই ন্যাশনাল টীমের হেড কোচ।

কোচের নাম এবার হাথুরুসিংহে। আর সাথে যোগ হওয়া বড় নাম হচ্ছে বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। দেশের পরিচিত মিডিয়ার বরাতে এই পুরো জিনিসগুলো মানুষের কাছে একদিনে আসে নি। ভাগে ভাগে এসেছে, বিভিন্ন রূপে এসেছে। থ্রো ব্যাক নিউজিল্যান্ড সফর: নিউজিল্যান্ডে দল একের পর এক ম্যাচ শোচনীয় ভাবে হেরে গেলেও নিজেদের অনেক ভাগ্যবান ভাবতে পারে পুরো বাংলাদেশ দলই। কারণ, মিডিয়াকে খেলা নিয়ে কাটাছেঁড়া করার ফুসরৎ বোর্ড সভাপতি দেন নি। তিনি দেশে বসে মিডিয়া মাতিয়েছেন একের পর এক মন্তব্য দিয়ে। সিনিয়রদের দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন তোলা দিয়ে শুরু আর মোস্তাফিজকে নিয়ে দলের মধ্যে অন্তর্কলহের খবর দিয়ে নিজের জনপ্রিয়তাকে চূড়ায় নিয়ে গেছেন দেশে বসেই। মাঠে নেমে এক বলও না খেলেও খেলার পাতা আর টিভিতে খেলার খবরের মূল স্টোরিতে থাকাটাকে আর্টের পর্যায়ে নিয়ে যান তিনি। যেখান থেকে খেলা ছেড়েছিলেন, শ্রীলংকায় দল যাবার পরে ঠিক সেখান থেকেই খেলা শুরু করলেন বোর্ড সভাপতি। এবার তার সাথে পার্শ্বচরিত্রে হেডকোন চন্দ্রিকা হাথুরুসিংহে। অফফর্মের রিয়াদ আর মমিনুলকে সম্ভব সবচেয়ে কুৎসিত উপায়ে (রিয়াদকে দেশে পাঠিয়ে দেবার সিদ্ধান্তসহ বাদ দেওয়া) বাদ দেবার পরে কোচের দিকে সবগুলো আলো ঘুরে গেলেও “আমি ওদের বাদ দিয়েছি” বলে সব আলো নিজের দিকে টেনে নেওয়ার খেলায় বোর্ড সভাপতির বিশাল ছক্কা।

আস্তে আস্তে ভাঁজ খুলতে লাগলো। ধীরে ধীরে খবর আসতে থাকলো, টিটোয়েন্টি দল থেকে শুধু রিয়াদকেই নয়, সাকিব মাশরাফি বা মুশফিক কাউকেও চাইছেন না কোচ! একই সাথে মানুষ যেভাবে তার মাস্টারপ্ল্যানের কথা শুনে শিউরে উঠলো, সেন্সিবল মানুষ অনেকে আবার মিডিয়াকেই দোষ দিতে লাগলো এগুলোর গায়ে রঙ চড়ানো খবরের ট্যাগ দিয়ে। তবে খবর আসার পরেই দারুন এক টেস্ট খেলে ফেলে বাংলাদেশ, হারিয়ে দেয় শ্রীলংকাকে। খবর ধামাচাপা পড়ে যায়। মানুষ ব্রেইন ওয়াশ হয়ে যায় দারুন এক জয়ে । ওয়ানডে সিরিজটা নির্বিঘ্নে কেটে যায়। তবে আমজনতা আর হাথুরুসিংহের মধ্যে পার্থক্য হলো আমজনতা দলের জয় দেখে ফেললে মগজ থেকে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব আস্তে করে ফেলে দেয় আর হাথুরুসিংহেরা লম্বা প্ল্যান কার্যকর করার জন্যেই নিজেদের জীবনে বেঁচে থাকেন। দেশের শীর্ষ মিডিয়ার সংবাদ, প্রথম টি২০ ম্যাচের আগেই সাকিব-ম্যাশ-মুশিদের মত সিনিয়রদের ডেকে নিজের তিন ফরম্যাটে তিন অধিনায়কের ইচ্ছের কথা জানিয়ে দেন পাপন। সেই শ্রীলংকা সিরিজের মাঝামাঝি সিনিয়রদের ছেঁটে ফেলার বড় প্ল্যানের একটা কোণা মানুষ দেখে ফেলে। এটা মাশরাফির বাদ দেওয়ার মাধ্যমে শুরু হয়ে গেলো, কোন একদিন দুটো টেস্টে খারাপ খেলার জন্যে বাংলাদেশের টেকনিকালি সবচেয়ে সলিড ব্যাটসম্যান মুশফিককে টেস্ট দল থেকে বাদ দেবার মাধ্যমে শেষ হবে। মাশরাফি অবসর নিয়ে জুনিয়রদের জায়গা দেওয়া, সামনের জন্যে দল বানিয়ে যাওয়া অনেক কিছু বলে এড়িয়ে যেতে চাইলেন। তবে প্রথম টেস্টের পরে খবরে আসা হাথুরু-পাপনের মাস্টারপ্ল্যানের সাথে এই টিটোয়েন্টির টসের সময় হুট করে মাশরাফির বিদায় নেবার ডিসিশনের কোন সম্পর্ক নেই – এটা কি মাশরাফি নিজে বলেও কাউকে বিশ্বাস করাতে পারবেন??

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

1 + 18 =