হেইসন মুরিইয়ো : বার্সেলোনায় নতুন সেন্টারব্যাক

হেইসন মুরিইয়ো

বহুদিন ধরেই রক্ষণভাগের সমস্যায় ভুগছে বার্সেলোনা। সেন্ট্রাল ডিফেন্সে জেরার্ড পিকে, স্যামুয়েল উমতিতি, থমাস ভারমায়েলেন ও ক্লেমেন্ত লেংলেটের মত খেলোয়াড়েরা থাকলেও চোট সমস্যার কারণে উমতিতি ও ভারমায়েলেন বহুদিন ধরেই মাঠের বাইরে। ফলে কোচ আর্নেস্তো ভালভার্দের হাতে জেরার্ড পিকে আর ক্লেমেন্ত লেংলেট ছাড়া অন্য কোন অভিজ্ঞ সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার ছিল না, ফলে বেশীরভাগ ম্যাচে ঘুরেফিরে এই দুজনকেই খেলাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু এভাবে আর কতদিন? নতুন ডিফেন্ডার তো লাগবে! নতুন ডিফেন্ডার হিসেবে আয়াক্সের ডাচ সেন্টারব্যাক ম্যাথিস ডে লিটকে বার্সেলোনার মনে ধরেছিল। কিন্তু ডে লিটকে আনতে গেলে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হবে, অনেক টাকা খরচ হবে, অনেক সময় লাগবে আনতে। কিন্তু বার্সার দরকার তো এখনই, এই শীতকালীন দলবদলে। তাই আপাতত কাজ চালানোর জন্য ভ্যালেন্সিয়া থেকে ধারে কলম্বিয়ান ডিফেন্ডার হেইসন মুরিয়্যোকে দলে নিয়ে আসল বার্সেলোনা।

মুরিইয়োকে ছয়মাসের ধারে আনার জন্য বার্সেলোনাকে খসাতে হয়েছে দুই মিলিয়ন ইউরোর মত। মৌসুম শেষে মুরিইয়োর পারফরম্যান্স দেখে বার্সেলোনা সন্তুষ্ট হলে তারা চাইলে তাঁকে আরও ২৫ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে পাকাপাকিভাবে নিয়ে আসতে পারে, সে ধারাটাও সংযুক্ত করা হয়েছে চুক্তিতে।

২০১৪ বিশ্বকাপে হামেস রদ্রিগেজের নৈপুণ্যে কলম্বিয়া কোয়ার্টার ফাইনাল খেললেও রক্ষণভাগে মুরিইয়োর ভূমিকাও কিন্তু কম ছিল না। নিজেকে সেবারই বিশ্বসভায় পরিচিত করে তোলেন মুরিইয়ো। তখন খেলতেন গ্রানাডায়, বিশ্বকাপে ভালো পারফরম্যান্স দেখানোর পুরস্কারস্বরূপ নাম লেখান ইতালিয়ান ক্লাব ইন্টার মিলানে। সেখানে অত ভালো না খেলার কারণে আবারও ফিরে আসেন লা লিগায়। লাস পালমাসের হয়ে নিজেকে ফিরে পান তিনি, পরে জায়গা করে নেন ভ্যালেন্সিয়ার স্কোয়াডে। নিয়মিত ভালো খেলা মুরিইয়োর কপালে শনি হিসেবে এরপর দেখা দেয় হার্নিয়ার চোট, সে চোটে আবারও সাইডলাইনে চলে যেতে হয় তাঁকে। চোটের কারণে মূল একাদশে জায়গা হারান তিনি, তাঁর কাছ থেকে জায়গা নিয়ে মূল একাদশে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেন এজেকিয়েল গ্যারায়, মোক্তার দিয়াখাবি ও গ্যাব্রিয়েল পলিস্তার মত ডিফেন্ডাররা। বার্সেলোনাও দেখে এটাই সুযোগ, মুরিইয়োকে আনার। সে সুযোগেরই তারা সদ্ব্যবহার করল, বলা যায়।

চুক্তির মাধ্যমে বার্সেলোনা সবদিক দিয়েই লাভবান হয়েছে, বলা যায়। বার্সেলোনার এমন কাউকে দরকার ছিল যে উমতিতি আর ভারমায়েলেন ঠিক হওয়া পর্যন্ত তাদেরকে ঠিকঠাক সার্ভিস দিতে পারে। তাই আপাতত ছয়মাসের ধারেই এনেছে তারা মুরিইয়োকে। ২৬ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার ইন্টার মিলান ও ভ্যালেন্সিয়ার হয়েও খেলেছেন, ফলে বলা যায় বড় ক্লাবে খেলার অভিজ্ঞতা তাঁর আছে। ভ্যালেন্সিয়া, গ্রানাডা, লাস পালমাস ও কাদিজের হয়ে খেলার কারণে স্প্যানিশ লিগের খেলার মান ও ধরণ সম্পর্কে তিনি বেশ জানেন। কলম্বিয়ার ডিফেন্ডার হলেও বহু আগে থেকে স্পেনে খেলার কারণে তাঁর স্প্যানিশ পাসপোর্ট রয়েছে, যে কারণে তিনি স্প্যানিশ নাগরিক হিসেবে গণ্য হবেন, ‘নন-ইইউ’ বা বিদেশি খেলোয়াড় নয়, যে সমস্যাটা বার্সেলোনার সাবেক কলম্বিয়ান ডিফেন্ডার ইয়েরি মিনার ক্ষেত্রে হয়েছিল, পরে মিনাকে তো বেচেই দিয়েছে বার্সা।

চেলসির ড্যানিশ ডিফেন্ডার অ্যান্দ্রেয়াস ক্রিস্টিয়ানসেনকে প্রথমে চেয়েছিল বার্সা, তাঁকে না পেয়েই মুরিইয়োকে নিয়ে আসা। ছয় ফুট লম্বা এই ডিফেন্ডার বল পায়ে রেখে খেলতে পছন্দ করেন, সেটা তাঁর সফল পাসের হার দেখেই বোঝা যায়, যদিও গতিশীলতা একটু কম তাঁর। তাই বার্সেলোনার খেলার স্টাইলের সঙ্গে তিনি মানিয়ে নিতে পারবেন, এমনটাই মনে করা হচ্ছে।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

2 × five =