আবারও অ্যানচেলত্তির ছায়াতলে হামেস রড্রিগেজ

রিয়াল মাদ্রিদ কোচ জিনেদিন জিদানের অধীনে কোনভাবেই রিয়ালের মূল একাদশে জায়গা করে নিতে পারছিলেন না তিনি। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, গ্যারেথ বেল ত বটেই, পিছনে পড়ে গিয়েছিলেন মার্কো অ্যাসেনসিও, ইসকো ও লুকাস ভাজক্যুয়েজদের মত তারকাদের থেকেও, বেঞ্চই হয়ে গিয়েছিল তাঁর ঠিকানা। তাই গত মৌসুম শেষ হবার সাথে সাথেই বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল যে জিদানের প্ল্যানে আসলে কলম্বিয়ান সুপারস্টার হামেস রড্রিগেজের জায়গা নাই। হামেস নিজেও বুঝেছিলেন সেটা, তাই হন্য হয়ে খুঁজছিলেন নতুন ক্লাব। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, চেলসি, প্যারিস সেইন্ট জার্মেইয়ের মত অনেক ক্লাব আগ্রহী ছিল তাঁকে দলে নেওয়ার ব্যাপারে। কিন্তু সবাইকে হারিয়ে দিয়ে হামেস রড্রিগেজকে নিজের দলে নিয়ে আসল জার্মান চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখ। বায়ার্ন কোচ কার্লো অ্যানচেলত্তি আবারও প্রিয় শিষ্যকে নিজের ক্লাবে নিয়ে আসলেন। রিয়াল মাদ্রিদেও এই কার্লো অ্যানচেলত্তিই হামেস রড্রিগেজকে দলে এনেছিলেন।

রিয়াল মাদ্রিদ থেকে হামেস রড্রিগেজকে আপাতত ধারেই এনেছে বায়ার্ন মিউনিখ, দুই বছরের ধার। এই দুই বছরে ধার বাবদ রিয়াল মাদ্রিদকে ৫ মিলিয়ন ইউরো করে বছরপ্রতি দেবে, অর্থাৎ দুই বছরে হামেসের জন্য বায়ার্নকে দশ মিলিয়ন ইউরোর মত দিতে হবে রিয়াল মাদ্রিদকে। আর বছরপ্রতি হামেসের বেতন বাবদ দশ মিলিয়ন ইউরো করে খরচ হবে বায়ার্নের, অর্থাৎ দুই বছরের ধারে ট্রান্সফার ফি বাবদ ১০ মিলিয়ন ইউরো ও বেতন বাবদ ২০ মিলিয়ন ইউরো খরচ হবে বায়ার্নের। দুই বছর পর চাইলে বায়ার্ন পাকাপাকিভাবে হামেসকে কিনে নিতে পারে আরও ৩৫ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে। দলবদলের এই উচ্চমূল্যের বাজারে যেখানে সাধারণ সব খেলোয়াড়দের বিকিকিনিও হচ্ছে নূন্যতম ৩০-৩৫ মিলিয়ন পাউন্ডে, সেখানে হামেসকে তাই একরকম পানির দামেই পেল বায়ার্ন, এ কথা বলাই যেতে পারে।

রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে তিন বছরে ১১১ ম্যাচ খেলা হামেস স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নদের হয়ে গোল করেছেন ৩৬ টি, গোলসহায়তা ৪১ টার মত। আক্রমণভাগের যেকোন পজিশানে খেলতে পারা রড্রিগেজের নিজের পছন্দের জায়গা ৪-২-৩-১ এ নাম্বার টেন বা সেন্ট্রাল অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে। তাছাড়াও খেলতে পারেন, লেফট উইঙ্গার, রাইট উইঙ্গার, এমনকি সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হিসেবেও। একজন অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে তাঁর গোলক্ষুধা যথেষ্ট বেশী, ডিবক্সের আশেপাশের যেকোন জায়গা থেকে গোল করতে পারেন। ২০১৪ বিশ্বকাপে কলম্বিয়া কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায় নিলেও হামেস টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন। সেট পিসে দুর্দান্ত এই কলম্বিয়ান অধিনায়ক গত মৌসুমে মাদ্রিদের হয়ে খেলার অনেক কম সময় পেলেও তাঁর মধ্যেই ম্যাচপ্রতি দুটো করে “কী-পাস” দিতে সক্ষম হয়েছিলেন। হামেস রড্রিগেজ মূলত বাম পায়ের খেলোয়াড় হলেও ডান পায়ে তিনি যে দুর্বল সেটা বলা যাবেনা।

রিয়াল মাদ্রিদে হামেসের খেলতে না পারার মূল কারণ হল রিয়াল মাদ্রিদে জিনেদিন জিদান কখনই রিয়াল মাদ্রিদকে সেই ফর্মেশানে খেলান না যে ফর্মেশানে একটা ‘নাম্বার টেন’ এর প্রয়োজন। মাদ্রিদের বর্তমান ফর্মেশান ৪-৩-৩ যেটা কিনা প্রায় সময়েই ৪-১-২-৩ হয়ে যায়। বোঝাই যাচ্ছে, দুই স্ট্রাইকারের পেছনে প্লেমেকাররে পজিশানটা নেই এখানে। মিডফিল্ডে তিনজনের মধ্যে ক্যাসেমিরো, ক্রুস, মড্রিচ তিনজনের জায়গাই নিশ্চিত। তাই এখানে হামেস জায়গা পাচ্ছিলেন না। হামেস রাইট উইঙ্গার হিসেবে খেলতে পারলেও মাদ্রিদের স্কোয়াডে যথারীতি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, গ্যারেথ বেল, মার্কো অ্যাসেনসিওদের মত জাত উইঙ্গার আছেন, তাই এখানেও হামেসের জায়গা নেই। অ্যানচেলত্তির ৪-২-৩-১ ফর্মেশানে তাই হামেসের সেই সমস্যাটা হবেনা খুব সম্ভবত। এক ফরোয়ার্ডের পেছনে তিনজন অ্যাটাকিং মিডের মাঝেরজনের জায়গায় যদি হামেস খেলেন তিনি অনায়াসেই তাঁর পাসিং স্কিল দেখাতে পারবেন, উইঙ্গার বা উইঙ্গারদের লম্বা লম্বা কোণাকুণি পাস দিতে পারবেন, সামনে থাকা সেন্টার ফরোয়ার্ডকে থ্রু পাস দিতে পারবেন সোজাসুজি।

টানা এক মৌসুম রিয়াল মাদ্রিদের বেঞ্চে বসে থাকতে থাকতে অতিষ্ট হামেস নিজের জন্মদিনে এর থেকে ভালো গিফট বোধহয় পেতে পারতেন না!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

five × 1 =