আইপিএলের ক্রিকেট-শো এবং অর্থের ঝনঝনানি

২০০৯ সালে এস এস সি পরীক্ষা দেবার পর গেলাম কলকাতা। পরিকল্পনা ছিল আগের বছর ক্রিকেট দুনিয়াতে ক্যারি প্যাকারের সিরিজের মতো ঝড় তুলে দেওয়া আইপিএলের একটি ম্যাচ ঐতিহাসিক ইডেন গার্ডেনের গ্যালারি থেকে চাক্ষুষ করা। কিন্তু বিধি বাম! একমাত্র ঐ বছরেই নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাতে আসর বসে! কি আর করা, হোটেলে বসে দূরদর্শনে দেখা আর কলকাতার রসগোল্লা ভক্ষণ!

Indian-Premier-League-IPL-logo

শিরোনাম আর তার পরের লেখাটা পড়লে মনে হবে ধান ভাঙতে শিবের গীত গাইছি নাকি, আসলে এটুকু বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে, ঐ বছরই নাকি দুর্নীতির বিসবাস্প আইপিএলে বসতি গাড়ে, বিদেশে হওয়ায় সিবিআই এর ঈগলচক্ষুকে সহজেই ফাঁকি দেওয়া যায়। এর পর থেকেই প্রশ্ন উঠতে থাকে, যেটার বাংলা দ্বিতীয় পত্র স্টাইল হবে এরকম- আইপিএল, আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ?
সেই ছোট্ট বেলা থেকেই ক্রিকেট দেখি, দিনে দিনে ৫০ ওভারের ম্যাচ অর্ধেক শেষ হবার পরই ঘুমানোর হার বেড়ে যাচ্ছিলো। আইপিএল ২০ ওভারের মহা উৎসবে পরিণত হয়েছে অনেক আগেই। শেষ বল পর্যন্ত দেখার আগ্রহ তৈরি করেছে এর দুর্দান্ত সব ম্যাচ। একটি ম্যাচেও কিন্তু গ্যালারি ফাঁকা থাকেনা। দর্শককে ক্রিকেটে ফেরাতে যে খেলার জন্ম ক্রিকেটের আদি পিতার কোলে, সেই টি টুয়েন্টি নামের কড়ি ফুল হয়ে ফুটেছে ভারতে এসে। ১০০ কোটি মানুষের দেশে ক্রিকেটের বাণিজ্য লক্ষ্মী আইপিএলে বসত করে। ভারতীয় খেলোয়াড়েরা এতে দেদার অর্থের মুখ দেখছেন। তাদের জন্য আরও ভালো হচ্ছে যেটা সেটা হল চাপ সামলানোর শিক্ষা আর ক্রিকেট গ্রেট দের পরামর্শ, সাহচর্য পাওয়া। এটা নিঃসন্দেহে তরুণদের জ্ঞান বৃদ্ধিতে ভুমিকা রাখছে ব্যাপকভাবে।

ম্যাচ ফিক্সিং এর মত জঘন্য রাস্তায় পা দিয়েছিলেন শ্রীশান্তের মত তরুণেরা
ম্যাচ ফিক্সিং এর মত জঘন্য রাস্তায় পা দিয়েছিলেন শ্রীশান্তের মত তরুণেরা

আলোর অপর পিঠে থাকে অন্ধকার। আইপিএলের অন্ধকার দিক হচ্ছে তরুণ ভারতীয় ক্রিকেটারদের ম্যাচ পাতানোর মতো ঘৃণ্য কাজে জড়িয়ে যাওয়া। গত বছরের আসরেই তো স্পট ফিক্সিং এর দায়ে গ্রেফতার হয়েছিলেন স্রিসান্থ, চাবান। আইপিএলের অর্থের জোরেই ভারত এখন আইসিসির উপর পর্যন্ত ছড়ি ঘোরানোর ক্ষমতা রাখে যা আসলে খেলাটার জন্য দুঃখজনক।

কিছু খেলোয়াড়ের নামে উঠেছিলো চিয়ারলিডারদের নির্যাতনের অভিযোগও
কিছু খেলোয়াড়ের নামে উঠেছিলো চিয়ারলিডারদের নির্যাতনের অভিযোগও

যাই হোক, আইপিএলের আকাশে উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে আছেন আমাদের প্রিয় সাকিব। তার সব্যসাচী খেলায় আবারো বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল হবে, এই আশা করি। ক্রিকেট উৎসবে সুস্বাগতম!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

10 − 7 =