উত্তাপ থাকুক মাঠের খেলাতেও

টুর্নামেন্ট শুরু হবার আগে আমাকে কেউ যদি বলতো , আবেগ ছেড়ে কোন চারটা দলকে সেমিফাইনালে দেখেন ? আমার বাংলাদেশকে রাখতাম না কোনভাবেই । বিশ্বকাপের আগে আমাদের পারফরম্যান্স ভালো ছিলো না । র‍্যাঙ্কিং ও আমাদের পক্ষে কথা বলে না । অস্ট্রেলিয়া আর নিউজিল্যান্ডকে রাখতাম স্বাগতিক হিসেবে , দক্ষিণ আফ্রিকাকে রাখতাম স্কোয়াডের ধ্বংসাত্মক ব্যাপারটা থাকায় । আর এশিয়া থেকে ঘুরে ফিরে চিন্তাভাবনা করে শ্রীলংকাকেই রাখতাম । আমি নিশ্চিত শতকরা ৯০ ভাগেরই এই মতের সাথে ৩টা দল  মিলে যেত , হয়তো একটা দল এদিক সেদিক হত কোনভাবে ।

এবং ঘুরেফিরে দেখা গেলো হয়েছেও তাই । ভারত এসে গেছে লঙ্কার জায়গায় । কারণ ? বেশ কয়েকটা । ক্রিকেট একটা বদলের ভিতর দিয়ে যাচ্ছে । বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের উইকেট দুনিয়াজোড়া কমবেশি একই রকম হয়ে থাকে । ৪ বছর আগে ঢাকায় বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে যেরকম উইকেট দেখেছি , সেখান থেকে সিডনি আর মেলবোর্নের উইকেটগুলো একদম আকাশ-পাতাল হয়ে যায় নি । অন্তত এতটুকু বলাই যায় , দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আর বিশ্বকাপের উইকেটের মধ্যে কিছু ফাড়াক থেকেই যায় । বল খুব ভালো ব্যাটে আসছে প্রত্যেকটা ম্যাচেই । ক্রিকেটের কর্তাদের কাছেও বোলারেরা এখন কেবল সার্কাসেরই বাঘ  যাদের কাজ অন্যের খেলা দেখানোয় ভালোমতন সাহায্য করা । তারপরেও একদম ন্যাচারাল মুভমেন্ট তো আর বাদ দেওয়া যায় না ! এবং ভারত সেটা সামলেছেও বেশ ভালোভাবেই । সেটা সামলেই তাদের ব্যাটসম্যানেরা রান পেয়েছে সময়মতো ।  সাথে আছে , তাদের পেসারদের একদম ঠিক সময় ওয়েল ফোকাসড থাকার ব্যাপারটা । আর খুব ক্রুশাল কিছু সময়ে খুব ভাইটাল কিছু ডিসিশন রহস্যজনকভাবে তাদের পক্ষে গেলো ।

আইবিএন
ভারতীয় পেস ব্যাটারি ছাড়িয়েছে প্রত্যাশা

স্বাগতিক হিসেবে অজিদের কাছে সবার চাওয়া ছিলো ২০০৩ আর ০৭ এর মতো আধিপত্য । হয় নি সেটা । তবে টুর্নামেন্ট গড়াতেই ওদের বেশি গোছানো লেগেছে আর সাথে থাকবে ম্যাক্সি-ওয়ার্নার আর স্মিথদের মতো ফিয়ারফ্যাক্টর । জনসন ছিলো সম্ভাব্য ম্যান অফ দি টুর্নামেন্ট । কিছুটা হতাশ করেছে জনসনও । তবে স্টার্ক সে ক্ষতিটা বুঝতে দেন নি । ভারত-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচটা সিডনিতে । এ ভেন্যুর স্পেশ্যালিটি হলো আমাদের এখানকার উইকেটের সাথে সবচেয়ে বেশি মেলে সিডনির উইকেটই । দক্ষিণ আফ্রিকা আর লঙ্কার ম্যাচটায় ইমরান তাহির আর ডুমিনি রাজ করলো । ভারতের আশাবাদী হবার জায়গা আছে । তবে সারাদুনিয়া এখন চারশ চায় , ব্যাটসম্যানের ম্যাচে ডাবল চায় । এতো বড় একটা ম্যাচ ঐ হিসেবে  খুব হাই স্কোরিং হলেও অবাক হবেন না । এই বিশ্বকাপেই অস্ট্রেলিয়া আর শ্রীলংকার বড় রানের ম্যাচটা এখানেই হয়েছে ।

ক্রিকিনফো
সেরা দিনে অজি পেইস এটাক গুড়িয়ে দিতে পারে সবাইকে

নিউজিল্যান্ড ফাইনালে উঠে গেলো প্রথমবারের মতো । সারা টুর্নামেন্ট দুর্দান্ত খেলতে থাকা নিউজিল্যান্ডকে ফাইনালটা খেলতে হবে অস্ট্রেলিয়ায় । সেদিকে তাকালে নিউজিল্যান্ড অস্ট্রেলিয়ার চাইতে ভারতকে ফাইনালে ভাল পাবে । ২০১১ এর ফাইনাল খেলেছিলো ভারত আর শ্রীলংকা – দুই স্বাগতিক । ২০১৫তেও অবশ্যি আমার চাওয়া থাকবে দুটো স্বাগতিক দলই ফাইনাল খেলুক … অস্ট্রেলিয়া আর নিউজিল্যান্ড । মহারণের জন্যে কয়েকটা ঘন্টার অপেক্ষা ।

পাঁতে আরেকটা ভালো সেমিফাইনাল …একটা দল ক্রিকেট ইতিহাসের সবচাইতে সফল দল আর আরেকটা ক্রিকেটের সবকিছুকে নিয়ন্ত্রণ করার মত প্রাশাসনিক ক্ষমতা রাখে । এ দুটো দলের মধ্যে গেলো কয়েক বছরে ক্রিকেট বিশ্ব বেশ কিছু জমাট লড়াই দেখেছে । সাথে ছিলো কথার লড়াই সেই সৌরভ গাঙ্গুলির সময় থেকেই । হরভজন নেই , সাইমন্ডসও নেই ,জাতীয় দল থেকে দূরে আছেন শ্রীশান্থও । তবে ম্যাচের আগে ভারতকে স্লেজিংয়ের হুমকিটা কিন্তু দিয়েই রেখেছেন মিচেল জনসন । আরেকটা শো আশা করাই যায় ।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

one × two =