আগে থেকে কষে রাখা অনেক অঙ্ক না মেলার দিন !

১) ভারত স্টেইন-মর্কেল আর ফিলান্ডারের সম্মিলিত পেইস ব্যাটারির সামনে দাঁড়াতে পারবে তো?
২) ডি ভিলিয়ার্স না আবার ভারতকে পেয়ে বিশ্বকাপের আগের করা কান্ডের কোন পুনরাবৃত্তি করে বসেন !
৩) কোহলি-ধাওয়ান আর রোহিতের ব্যাটিং লাইনটা ক্লিক করবে তো দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে?

ম্যাচের আগে এ প্রশ্নগুলোই হয়তো ক্রিকেট রোমান্টিকদের মগজ কুঁড়ে খেয়েছে। অনেকের কাছে প্রথম রাউন্ডে হওয়া সবচেয়ে বড় ম্যাচ হলো আজকের এই দক্ষিণ আফ্রিকা আর ভারত ম্যাচটি। ম্যাচটি প্রত্যাশা আর বাস্তবতায় যতোটা বৈপরীত্য দেখালো, সেদিক থেকে চেয়ে দেখলে বড় ম্যাচ বলাই যায়। কিন্তু, মাঠের লড়াইয়ের দিকটায় তাকালে হতাশ হতে হবে আপনাকে।

এমসিজিতে টসে জিতে ব্যাটিং এ ভারত। সকাল সকাল ভারতের উইকেট পড়ল বটে, কিন্তু সেটা মর্কেল বা স্টেইনের গতির তোড়ে নয়। Captain leading from the front…. অধিনায়ক এবি রোহিতকে রান আউট করেই শুরু করলেন। নিরপেক্ষ ক্রিকেট রোমান্টিকদের নড়েচড়ে বসা প্রোটিয়া পেইস ব্যাটারির জাদু দেখতে! কিন্তু ঐ পর্যন্তই। তারপর শেখর ধাওয়ানের গল্প। ২৯ বছর বয়সটা যেনো ধাওয়ানের জন্যে একটু দেরিই হয়ে গিয়েছে প্রথম বিশ্বকাপটা খেলতে আসা হিসেবে ! তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে অমন ইনিংসের পর আজ দক্ষিণ আফ্রিকার ছোট টার্গেট পাবার স্বপ্নকে গুঁড়িয়ে দেওয়া শতরানের ইনিংসগুলো দিয়ে ধাওয়ান যেন বোঝাতে চাইছেন, “সেই দেরিটাকে খুব দ্রুতই পুষিয়ে দেবো !”

শিখর ধাওয়ানের ব্যাটটা হাসল টানা দুই ম্যাচে
শিখর ধাওয়ানের ব্যাটটা হাসল টানা দুই ম্যাচে

পার্শ্বকুশীলব হিসেবে কোহলি আর রাহানের সাথে দুটো শতরান পেরোনো জুটি! ১৩৭ রানের ইনিংস খেলে ধাওয়ান যখন ফিরছেন, ততক্ষণে নিশ্চিত হয়ে গেছে ভারতের ৩০০ পেরোনো পুঁজি পাওয়া। সাথে ৬০ বলে ৭৯ রান করা রাহানে তাল মেলালেন দলের চাহিদার সাথে। বহুল আলোচিত স্টেইন-মর্কেল জুটির ২০ ওভারের খরচা ১১৪ রান। স্টেইনের ৫৫ আর মর্কেল এর ৫৯। তবে তাদের চাইতে অনেক বেশি উদার ওয়েইন পারনেল। ৯-০-৮৫-১! দক্ষিণ আফ্রিকার জন্যে রেসের ফিনিশিং পয়েন্ট ৩০৮ রান।

দক্ষিণ আফ্রিকা চেইজ শুরু করলো জিম্বাবুয়ে ম্যাচের কপিবুক ফ্যাশনে । চটজলদি নেই হাশিম আমলা আর কুইন্টন ডি কক । এবি ডি ভিলিয়ার্স আর ফ্যাফের হাতে গত বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে প্রোটিয়াদের হাতে ভারতের পরাজয়ের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটানোর দ্বায়িত্ব । দুজনের জুটিটা ৫০ পেরোলে আশার ক্যানভাসে রঙ লাগে প্রোটিয়াদের । তবে দক্ষিণ আফ্রিকা যে অননুমেয়তায় মাঝে মাঝে পাকিস্তানকেও হারিয়ে দেয় ! মোহিত শর্মার জোড়া আঘাতে ফিরতে হলো দুজনকেই । প্রথমে এবিকে রান আউট আর পরে ফ্যাফকে ধাওয়ানের ক্যাচ বানিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার সূচনাকে গত জিম্বাবুয়ে ম্যাচের সাথে মিলিয়ে দেবার দ্বায়িত্বটা আস্থার সাথেই করলেন মোহিত …

ভিলিয়ার্সও হয়তো বুঝতে পেরেছিলেন ম্যাচটা শেষ
ভিলিয়ার্সও হয়তো বুঝতে পেরেছিলেন ম্যাচটা শেষ

আবার ৫ম উইকেট ! আবার মিলার-দুমিনি ! তবে কি আবার ? নাহ ! ক্রিকেট বিধাতার ভাবনাটা যে অতোটা প্রেডিক্টেবল নয় ! এবার মিলার-দুমিনি জুটি ১৪ রানের । বস্তুত , মিলার আর দুমিনি পরপর আউট হবার পর সে খেলার আর বাকি ছিলো না কিছুই ! হলোও তাই ! ১৭৭ রানে অলআউট দক্ষিণ আফ্রিকা । হারটা ১৩০ রানের চোখে পড়ার মতো ব্যবধানের !

রানআউট গুলো প্রোটিয়াদের ভুগিয়েছে বেশ
রানআউট গুলো প্রোটিয়াদের ভুগিয়েছে বেশ

বিশ্বকাপের আগে নাকানিচুবানি খাওয়া ভারত পেল উড়ন্ত সূচনা ! এ বিশ্বকাপ চমকের !
দক্ষিণ আফ্রিকাকে বিশ্বকাপে হারানোর স্বাদটাও পেয়ে গেলো ভারত ! এ বিশ্বকাপ নতুন কিছু করে দেখানোর !
অনেক আলোচনায় থাকা প্রোটিয়া পেইস ব্যাটারির ধার নেই ! এ বিশ্বকাপ একটা সারপ্রাইজ বক্স !

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

9 + 6 =