ক্রিকেটযুদ্ধে আবারো সুস্বাগতম

ক্রিকেটের আনন্দযজ্ঞে, সবার নিমন্ত্রণ। আবার শুরু হতে যাচ্ছে লাল সবুজের ক্রিকেট রোমাঞ্চের নতুন অধ্যায়। এবার প্রতিপক্ষ কে? বলুন তো, ২০১৫ বিশ্বকাপের তিক্ত স্মৃতির কথা বললে আপনার মনে কোন ম্যাচের কথা আসে? আমাদের ঐ ম্যাচে হারিয়েছিলেন আসলে আম্পায়াররা, হয়ে গিয়েছিলেন ভ্যাম্পায়ার! আমাদের স্বপ্নকে টুকরো টুকরো করে দেওয়া নির্লজ্জ পক্ষপাতিত্ব মূলক সিদ্ধান্ত নিয়ে তারা আসলে কালি ঢেলেছিলেন ভদ্রলোকের খেলাটির মুখে। সেই কাহিনীর সমালোচনা করে আইসিসি সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করে কামাল করেছিলেন আমাদের মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল। তার এই বীরোচিত সিদ্ধান্তে তিনি সমগ্র ক্রিকেট বিশ্বের কাছে শ্রদ্ধার পাত্র হয়ে ওঠেন। সেই কাণ্ডের নায়ক শ্রীনিবাসন এখন ভারতীয় বোর্ড থেকে নির্বাসিত, তার গদি টালমাটাল হয়ে গেছে আইসিসিতেও। ওদিকে কামাল জগমোহন ডালমিয়ার আমন্ত্রণে আইপিএলের ফাইনাল দেখে এসে বন্ধুত্ব অটুট রাখার বার্তা দিয়েছেন। তবে ঐ শ্রীনিকে বাংলাদেশের মানুষ যে কখনও ক্ষমা করবে না- অকপটে বলেছেন সে কথা। সেই ভারত হাজির হয়েছে ফতুল্লায় একটি টেস্ট ও মিরপুরে তিনটি ওয়ানডে খেলার জন্য।
ভারত, কি আর বলা যায় দলটাকে নিয়ে। বাণিজ্যে বসতি লক্ষ্মী! আর ক্রিকেটের সেই লক্ষ্মী হচ্ছে তেরঙ্গা পতাকাওয়ালারা। সাকিব আল হাসান তাই বলতে পারেন, এখানে ভালো খেললে স্পন্সরদের দৃষ্টি আকর্ষণ সহজ হবে। আমরা চোখ রাখবো তামিম, সাকিব, মুশফিক সবার দিকে। টেস্টে টানা ১২ টি অর্ধশত করতে পারবেন মুমিনুল? তার যে ফর্ম, তাতে আশা করতে দোষ কি! টেস্টে আমাদের পেস বোলিং নিয়েই দুশ্চিন্তা আছে। ২০ উইকেট তো নিতে হবে ভাই, টেস্টে এ ছাড়া বিকল্প নেই। ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপ বিশ্বের অন্যতম সেরা এবং ঘূর্ণির মায়া ভেদ করতে অত্যন্ত পারদর্শী হওয়াতে গতিতারকাদের উপর ভার যাবে বেশি। রুবেল, আবুল তো আছেনই, বিশেষ করে মোহাম্মাদ শহীদের দিকে তাকিয়ে থাকবো ম্যাকগ্রার মতো নিখুঁত লাইন লেংথে টানা বল করার জন্য। তিনি তা পারেন, দেখিয়েছেন পাকিস্তানের বিপক্ষে, আবার দেখাতে হবে।
অধিনায়ক মুশফিক আমার দৃষ্টিতে ১০ এ ৬ এর বেশি পাবেননা। কারন তিনি নতুন চমক দিতে, আক্রমণাত্মক খেলতে কেমন যেন একটু দ্বিধাগ্রস্থ। এবার তার বড় পরীক্ষা, বিশেষ করে বিরাট কোহলি যখন ভারতীয় অধিনায়ক। তিনি ইতিমধ্যেই তার অতি আক্রমণাত্মক মানসিকতার জন্য আলোচিত, সমালোচিত। ব্যাটসম্যানদের মূলমন্ত্র হতে হবে ধৈর্য, পাকিস্তানের বিপক্ষে রিভার্স সুইপের যে বাহার দেখেছি, এখানে সেটা করতে যথেষ্ট সতর্ক হতে হবে, কারন আশ্বিন আর হরভজন, দুজনেই বিপদজনক ঘূর্ণির জাদুকর।
আমাদের জুবায়ের কিন্তু এবারে তুরুপের তাস হতে পারেন, আশা করি পারবেন। কারন এই প্রজন্মের ভারতীয়দের আসলে লেগ স্পিনের বিপক্ষে করিৎকর্মা হবার ইতিহাস নেই। তবে সব কথার শেষ কথা, আম্পায়ারিং হতে হবে নিরপেক্ষ। আমরা ন্যায়বিচার চাই। চাই না আমাদের পক্ষে কেউ দালালি করুক, কিন্তু ভারতের পক্ষেও যেন না করে। বিশ্বকাপের মতো নির্লজ্জতার আরেক অধ্যায় আমরা দেখতে চাই না। ডি আর এস থাকলে ভালো হতো, তবে রাখতে হলে পাকিস্তান সিরিজের মতো করে না, আন্তর্জাতিক মানের সমান একটা রাখতে হবে।
এই দুদিন আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঢাকা সফর করে গেলেন। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত উন্মুক্ত বক্তৃতায় কিন্তু এই জাদুকরি বক্তা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অন্যতম ক্রিকেট পরাশক্তি বলেছেন, যাকে দেখে এখন সবাই ভয় পায়। এই সম্মান রক্ষার দায়িত্ব এখন আমাদের টাইগারদের, বিপক্ষে সেই মোদীর দেশই!
আশা করি, মোদীর ভাষণ বৃথা হবে না। শুভকামনা জানাই লাল সবুজের যোদ্ধাদের।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

nineteen − 9 =