হাথুরু এবং পাপনঃ দরকার দুজনকেই

অনেক দিন কিছু লিখি না। সাধারণত বাংলাদেশের খেলা না থাকলে আমি লিখি না। সামনে এক সময়ের প্রবল পরাক্রান্ত অস্ট্রেলিয়া। বহুল প্রতীক্ষিত এক সিরিজ। আবার কলম হাতে নিলাম।
“স্বাধীনতা তুমি,
যেমন ইচ্ছে লেখার আমার কবিতার খাতা”
কিন্তু বালকদের স্বাধীনতা মানায় না। আর মানায় না একনায়কদের। মানে, আমিই সব- এমন ভাব যারা ধরে, তাদের উপরে একজন থাকা উচিত, পূর্ণ স্বাধীনতা তাদের দিলে তারা সর্বনাশ করে দেবেন প্রতিষ্ঠানের।

এবার আসি শিরোনামের কথায়। মনে করছেন, ধান ভাঙতে গিয়ে শিবের গীত গাচ্ছি, আসলে তা নয়। মুমিনুল হক কে টেস্ট স্কোয়াড থেকেই বাদ দেওয়া এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার নাটকীয় ফেরা নিয়েই কথা বলতে এসেছি।
ধরুন, বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান নন, এমন কেউ, যিনি তার মতো ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন নন, কোচের কথায় ওঠেন আর বসেন- তাহলে? তাহলে মুমিনুলের ফেরা হয় না। এবার একটু টাইম মেশিনে করে পিছনের দিকে চলুন তো, মনে আছে, মাহমুদউল্লাহ কে নিয়ে শ্রীলঙ্কায় হয়ে যাওয়া নাটকের কথা? এই নাজমুলের হস্তক্ষেপেই রিয়াদ থেকে গেলেন দলের সাথে এবং চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি তে করলেন মহাকাব্যিক এক শতক, যা দেখে হিন্দিভাষী ভাষ্যকার পর্যন্ত বলেছিল,
” মাহমুদউল্লাহ, সুবহানআল্লাহ”
হ্যা, বোর্ড সভাপতি ভুল ত্রুটির ঊর্ধ্বে নন, কোন মানুষই নয়। তার বিরুদ্ধে হাজারটা অভিযোগ থাকতে পারে, আছেও কিছু। যেমন নাসিরকে না খেলানো। কিন্তু একবার চিন্তা করুন নতজানু কোন বোর্ড সভাপতি হলে হাথুরুর স্বেচ্ছাচারিতা কোন পর্যায়ে যেত!
এবার বলবেন, তাহলে হাথুরুর কি দরকার? কোচের কি অভাব আছে? না নেই অভাব। তবে ভালো কোচের অভাব আছে। কড়া, রাগী হেডমাষ্টার হাথুরুর আমলে আমরা কিন্তু দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়েছি বিপর্যয়ের পরও। পাওয়া গেছে অনেক সাফল্য। তাই তাকেও দরকার, কিন্তু তার উপরেও একজনকে দরকার তার ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের জন্য। তাই বলেছি হাথুরু আর নাজমুল হাসান, দুজনকেই দরকার বাংলাদেশের ক্রিকেটে।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

three + five =