এক হারিয়ে যাওয়া তারা

ব্লুমকোয়েস্ট (সুইডিশ ফুটবলার জেসপার ব্লুমকোয়েস্টের নামানুসারে) সাফল,বোবা ট্রিকস অথবা বর্তমান কালের অনেক পরিচিত ট্রিকস নাটমেগ এইসবগুলো ম্যাজিক্যাল ট্রিকস যে প্লেয়ার খুব অনায়াসে করতে পারত,আর যাই হোক এই ধরনের প্লেয়ার সচরাচর পাওয়া যায় না। ফুটবল ঈশ্বরের নিজ হাতে গড়া এই প্লেয়ারগুলো যখন নিজের আনগডলি প্রতিভার সামান্যটুকুও নিদর্শন করতে পারে নাহ,তা ফুটবল খেলাটার প্রতি অবিচার, অন্যায়, অনেক বড় ধরনের পাপ। আন্দ্রেস ডি আলেসান্দ্রো,হাতেগোনা অল্পকিছু মানুষ হয়তোবা জানে এই অসাধারণ প্রতিভাধর ফুটবলারের কথা।

একজন আলবিসেলেস্তি সমর্থক হিসেবে আলেসান্দ্রো যেমন অনেক ভালোবাসার নাম তেমনি অনেক আক্ষেপেরও। এই এটাকিং মিডফিল্ডার ছিলেন গগনচুম্বী প্রতিভার অধিকারী। বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন ড্রিবলিং স্কিলের জন্যে। বডি ফেইন্টস দিয়ে যেকোনো মুহুর্তে পাস কাটিয়ে চলে যেতে পারতেন। ছিলেন সেট পিস স্পেশালিষ্ট। বেশ ভালো ছোট ছোট পাস দিতে পারতেন,খ্যাত ছিলেন এসিস্টমেকার হিসেবে। আর্জেন্টিনায় জন্ম আর ট্যালেন্টেড ম্যারাডোনার সাথে তুলনা হয় না, তা কি হয় নাকি। এমনকি ডন ডিয়েগো নিজেও বলেছিলেন আলেসান্দ্রো তার উত্তরসূরি। কিন্তু কোথায় কি, খালি ট্যালেন্টেড হলেই যে ম্যারাডোনা হওয়া যায় না। ২০০১ সালে স্প্যানিশ ফুটবল ম্যাগাজিন ডন ব্যালনের মতে ১০০ জন তরুণ ফুটবলার মধ্যে ছিলেন। আর্জেন্টাইন বিখ্যাত ক্লাব রিভার প্লেটেই খেলেছেন অনেকদিন। অনেক লিজেন্ডারি এই ক্লাবের লিজেন্ড কিন্তু এই আলেসান্দ্রো।

gollachhut.com

ব্রাজিলিয়ান ক্লাব ইন্টারন্যাসিওলের হয়ে ১৮০ ম্যাচে করেন ৩৬ গোল।এছাড়া খেলেছেন জার্মান ক্লাব উল্ফসবার্গে, ইংলিশ পোর্টসমাউথে, স্প্যানীয় জারাগোজায়। জাতীয় দলের হয়ে ২৮ ম্যাচে ৩ গোল। ২০০৪ এথেন্স অলিম্পিক ফুটবলে সোনাজয়ী দলের সদস্য ছিলেন। এটাই জাতীয় দলের হয়ে একমাত্র অর্জন।জাতীয় দলের হয়ে তাকে মানুষ বেশি মনে রাখবে ২০০৪ কোপায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের সাথে ফাইনালে পেনাল্টি মিস করায়। ২-২ এ শেষ হওয়া ম্যাচে ট্রাইবেকারে আকাশি-সাদারা হারে ৪-২। ২০১০ জাতীয় দলের হয়ে শেষ ম্যাচে খেলেন স্পেনের বিপক্ষে। তবে অ-২০ দলের হয়ে ২০০১ ওয়াল্ড চ্যাম্পিয়নশীপ জিতেন, হয়েছিলেন টুর্নামেন্ট এর দ্বিতীয় সেরা খেলোয়াড়। মর্নিং অলওয়েজ ডাজনট শোজ দ্যা ডে। এই কথাগুলা খুব ভালো মানায় আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের ক্ষেত্রেই। যার আরেক জ্বলন্ত প্রমাণ আদ্রেস ডি আলেসান্দ্রো। জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানানো ছাড়া ডাইহার্ড ফ্যান হিসেবে যে আমাদের আর কিছুই করার নেই। ৩৬ তম জন্মদিন অনেক শুভেচ্ছা গোল্লাছুট পরিবারের পক্ষ থেকে।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

seven + 2 =