হারিয়ে গেলে পাবো না

বাংলাদেশের ন্যাশনাল ক্রিকেট লিগের খবর এখনো পর্যন্ত পেপার পত্রিকাতেই সীমাবদ্ধ । নিউজে খেলার খবরে শেষের দিকে কোনভাবে ছোট করে নিউজ দেয়, লাইভ টেলিকাস্ট তো অনেক দূরের স্টোরি। যাইহোক, ছোটবেলা থেকে এই পেপার পত্রিকা পড়েই বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে যেই কয়েকটা নাম বেশি শোনা যায় , তার মধ্যে একজন হলো মার্শাল আয়ূব । টেস্ট দলে সে প্রথম কবে ডাক পায় সেই তথ্য আমার ঠিক মনে নেই । কোন এক ব্যস্ততার কারণে টেস্টে তার খেলা প্রথম ইনিংসটাও দেখতে পারি নাই । তবে টিভিতে তার ক্যারিয়ারের ২য় টেস্টে এসে নিউজিল্যান্ডের সাথে তার খেলা ৪১ রানের ইনিংসটা দেখার ভাগ্য আমার হয়েছিলো । ভাগ্য কথাটা যোগ করছি তারও কারণ আছে । বাংলাদেশের এই জেনারেশনে টেস্ট ব্যাটসম্যান বলতে আমরা আসলে কাদেরকে চিনি ??? সাকিব, মমিনুল, মুশফিকুর রহিম আর তামিম ইকবাল । এদের মধ্যে এক তামিম ইকবাল ছাড়া আহামরি স্টাইলিশ ব্যাটসম্যান আর একজনও নেই । এর বাইরে মমিনুলের ব্যাট থেকে শটগুলো খুব ভালোভাবে বেরোয় । সেদিক থেকে মার্শালকে দেখে একদম চোখে লেগে যায় খুব সহজে । খারাপ বলকে জোরে পেটানোর জন্যে উঠেপড়ে লাগে না । আবার খুব ভালো বলেও বেশ স্থিরভাবে রিএক্ট করতে পারে । সফট হ্যান্ডে খেলার দিকে বেশ একচোট ঝোঁক আছে । মনের অবচেতনে বলে উঠেছিলাম , “হি ইজ মেইড ফর টেস্ট ক্রিকেট…”

মার্শাল আয়ূবঃ স্থির, ধ্রুপদী ও সুন্দর ।

সে কথা বাদ দেই ।
আশরাফুলের পরে প্রথম মার্শাল আয়ূবের ব্যাটিং দেখে নিজের মুখে ওয়াও বেরিয়ে এলো । চোখের নির্মল শান্তি । স্ট্যান্স , কভার ড্রাইভ , ব্লক করা – সবকিছুতে আলাদা একটা আভিজাত্য ছিলো তার মধ্যে যা আগেপরে অনেকদিন খুব মিস করেছি এবং করছি । সেই ৪১ রানের ইনিংসটাই তার ক্যারিয়ারের সেরা হয়ে থাকে । পরে ঢাকায় লংকার সাথে খেলেছিলেন আরো একটা টেস্ট রান পান নি একদমই । ম্যাচটা আমরা ইনিংস ও ২৪৮ রানের শোচনীয় মার্জিনে হেরে যাই । দলের সবাই খারাপ খেলে । দুই ইনিংসেই ব্যাটিং খারাপ হয়েছে ।

তবে সেই যে পুরোনো নিয়ম !
দল খারাপ খেললো আর কোপটা পড়লো একজন নতুনের উপর । মার্শাল আয়ূব দলে আর নেই । যার মধ্যে আমার মতো অনেকেই অনেক বড় কিছু দেখেছিলো , বড় কিছুর শুরু হবার আগেই কিন্তু শেষ। সেই মার্শাল আবার ২ ইনিংসে ২ সেঞ্চুরি করে আলোচনাতে ফিরলেন । এটা না করলে হয়তো আমিও তাকে নিয়ে কথা বলার জন্যে সময় বের করতাম না । সেই মার্শাল আয়ূব আবার আলোচনায় এলেন । জাতীয় লিগে একই ম্যাচে ২ ইনিংসে হান্ড্রেড মেরে আলোচনায় এলেন । বাকিটা সময়ের কাছে ছেড়ে দিলাম ।

তবে দোষটা নির্বাচকদের একলার ঘাড়ে চাপিয়ে দিলে পাপ হবে ।
আমরা বছরে কয়টা টেস্ট খেলি ?? আমাদের এক টেস্ট থেকে আরেকটা টেস্ট কত বড় বড় গ্যাপে হয় ??
আমাদের পরবর্তী সিরিজটা আমরা যখন খেলবো তখন শেষ খেলা দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের কথা মনে রাখতে পারবো তো ??? তাই হয়তো আমাদের নির্বাচকেরাও চান্স দেওয়ার চান্সও কম পান । অল্প কয়েক টেস্টেই তাদের মধ্যে অনেক এক্সট্রা অর্ডিনারি কিছু করে দেখানোর দারুন তাড়া থাকে । তাড়াটা থাকতেই হয় কম কম ম্যাচ পেলে । তবে এই রাশের মধ্যেও শুভাগত হোম কিন্তু সুযোগের পরে সুযোগ পেয়েই যাচ্ছেন । শূভাগতের ৫১ টা ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতাকে আমরা খুব দাম দিতে পারলে মার্শালও কিন্তু ৮৮টা ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ খেলে ফেলেছে- এটা মাথায় রাখতে হবে । আরো মাথায় রাখতে হবে, টেস্টটা শুভাগতের মত সবকিছুতে পার্ট টাইমারদের জায়গা না । বরং মার্শালের মত ধ্রুপদী লোকেদের জায়গা ।

মার্শাল আয়ূব তার সুযোগগুলো কাজে লাগাক । যেমনি করে ফোয়ারা বইয়ে দলে এসেছিলেন , তেমনি করে আবারও নির্বাচকদের বাধ্য করুন । আমরাও জেনারেশনের সবচেয়ে স্টাইলিশ ব্যাটসম্যানকে আরো একবার বাংলাদেশের টেস্ট জার্সিতে দেখি । আগের মত শুধু সম্ভাবনাময় ৩০-৩৫ রানের ইনিংসের সাথে দেখতে চাই না । বড় ইনিংস আসবে সেট হলেইঃ সাঙ্গাকারার মতো । তার স্ট্রোকের আত্মবিশ্বাসের লেভেল দেখলে প্রতিপক্ষের মন ভেঙে যাবেঃ রাহুল দ্রাবিড়ের মতো ।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

eighteen − 13 =