হা হা হা পায় যে হাসি!

শুনিলাম, বিশ্বকাপ জেতার ইচ্ছা নাকি প্রকাশ করিয়াছেন স্টেইন, তা তিনি করতেই পারেন। কিন্তু এই কথা শুনিয়া আমার মনের মধ্যে যে ছবিটি অঙ্কিত হইতেছে সেটি হল গত বিশ্বকাপের সেমি ফাইনালের শেষ বলে এলিওটের দুর্দান্ত ছক্কা আর তার ভেউভেউ করিয়া ক্রন্দন, বোলারটি যে তিনিই ছিলেন! গত বিশ্বকাপ শুরু হবার আগে থেকেই হ্যান কারেঙ্গা, ত্যান কারেঙ্গা, বিশ্বকাপ জিতেঙ্গা, চোক নেহি কারেঙ্গা- এসব বলেই তারা শিরোনামে ছিলেন।

ভূপাতিত স্টেইন
ভূপাতিত স্টেইন

স্টেইন তো এবারের সবথেকে ব্যর্থ বোলার বলা যায়। ধারণা করা হয়েছিলো মুখের মতো হাত দিয়েও তিনি আগুনের গোলা ছুঁড়বেন আর তাতে ব্যাটসম্যানরা নাজেহাল হবে। হা হতম্মি! হল তার উল্টোটা! এমন বোলিং করলেন যে, কোহলি, ধাওয়ান, এমনকি ওয়াহাব রিয়াজও তাকে আছড়ে ফেলেছেন সীমানার বাইরে, হাসতে হাসতে! আর সেমিতে তাকে তো তুলোধুনো করেছেন ম্যাক, গাপটিল, এলিওটের ধারালো তলওয়ার। এলিওটের ঐ ছক্কা আর ডেল বাবাজীর ভেউভেউ কান্না তো ক্রিকেট ইতিহাসের অমর ছবির এ্যালবামে জায়গা করে নিয়েছে।

তা অমর ছবি জন্ম দিতে দক্ষিণ আফ্রিকানদের জুড়ি নেই। ১৯৯২ এ ১ বলে ২২ রান দেখানো সেই স্কোরবোর্ড, শতাব্দীর শেষ বিশ্বকাপে হাস্যকর দৌড় দিয়ে ব্যাট ছাড়াই সাদা বিদ্যুতের রান নেওয়া! ২০০৩ এ অঙ্কে ভুল করে পোলকের মাথায় হাত, ২০১১ তে একটা জেতা ম্যাচ কিভাবে হারতে হয় তার প্রদর্শনী করে মিরপুরে কিউইদের কাছে নাজেহাল হওয়া- এরকম আরও অনেক আছে।

এই দলের লোকজন সব বারই বলে এসেছে ‘দেখিস এবার আমরাই’। কিন্তু সেই এবারটা আর এলো না! আর আসবে বলেও মনে হয়না। তাই এই দলের কেউ যদি বিশ্বকাপের জন্য শক্তি সঞ্চয় করার কথা বলে বাংলাদেশ সফরে না আসার কথা বলেন, তখন কাজী নজরুলের মতো বলতে ইচ্ছে করে,
‘হা হা হা পায় যে হাসি’!!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

2 × four =