কে হবেন জেরার্ডের উত্তরসূরি?

২০১৪-২০১৫ মৌসুমটা মোটামুটি বলতে গেলে অপ্রাপ্তির বেদনার মধ্যে দিয়েই যাচ্ছে লিভারপুলের। লিগের অবস্থা তথৈবচ যথারীতি, পরের মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা পাওয়া নিয়ে টানাটানি, এর মধ্যে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে যুক্ত হয়েছে এ বছরের চ্যাম্পিয়নস লীগের প্রথম রাউন্ড, এফএ কাপের সেমিফাইনাল ও কার্লিং কাপ থেকে বিদায়।

হতাশার আরেক মৌসুম কাটাচ্ছে লিভারপুল
হতাশার আরেক মৌসুম কাটাচ্ছে লিভারপুল

ফলে এই মৌসুমেও লিভারপুলকে ট্রফিশূণ্য হয়েই থাকতে হচ্ছে। মৌসুম শেষ হলে তাদের জন্য রয়েছে আরও কষ্টের বোঝা, কারণ ক্লাব ছেড়ে চলে যাচ্ছেন কিংবদন্তী অধিনায়ক স্টিভেন জর্জ জেরার্ড, যিনি কিনা বলতে গেলে এতদিন একাই একরকম টেনে নিয়ে এসেছেন লিভারপুলকে। লিভারপুলের সমার্থক হয়ে যাওয়া ইংল্যান্ডের এই ক্ষণজন্মা প্রতিভা মৌসুম শেষে পাড়ি জমাচ্ছেন মেজর লিগ সকারের ক্লাব লস অ্যাঞ্জেলস গ্যালাক্সিতে।

মৌসুম শেষে আর থাকছেন না ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাস্টিক
মৌসুম শেষে আর থাকছেন না ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাস্টিক

প্রিয়জন দূরে চলে যাওয়ার বেদনা ত রয়েছেই, সাথে লিভারপুল সংশ্লিষ্ট সকলেরই চিন্তার অন্যতম কারণ এখন একটাই, পরের মৌসুমে জেরার্ডের রিপ্লেইসমেন্ট কে হবেন। তিনি কি হবেন ক্লাবেরই কেউ – জর্ডান হেন্ডারসন, এমরে চ্যান, জর্ডান রসিটার এর মধ্যে কেউ? নাকি নতুন কাউকে কিনে আনা হবে তাঁর স্থানে। অবশ্য এখন যে কোন লিভারপুল সমর্থককে জিজ্ঞাসা করলে শতকরা প্রায় শতভাগই নতুন খেলোয়াড় কেনার পক্ষে মত দেবেন। কারণ অবশ্যই, ক্লাবের মধ্যেই জেরার্ডের রেডিমেড রিপ্লেইসমেন্ট থাকলে ত আর আজকে যথারীতি তাদের ধুঁকতে হত না! জর্ডান হেন্ডারসন জেরার্ড-উত্তর যুগে লিভারপুলের অধিনায়ক হচ্ছেন বটে, তাঁর ডেডিকেশান ও কমিটমেন্টের অভাব না থাকা সত্বেও স্টিভেন জেরার্ডের মত অলরাউন্ড খেলায় তিনি কতটা পারদর্শী, সে প্রশ্ন থেকেই যায়।

হেন্ডারসন কি পারবেন জেরার্ডের অভাব দূর করতে?
হেন্ডারসন কি পারবেন জেরার্ডের অভাব দূর করতে?

জর্ডান রসিটার এখনো টিনএজার, হয়তোবা ভবিষ্যতে তিনি জেরার্ডের উত্তরসূরি হতেও পারেন, কিন্তু এখনই অবশ্যই তিনি লিভারপুলের হয়ে প্রত্যেকটা ম্যাচ খেলবেন না! আর এই মৌসুমে ১০ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে জার্মান ক্লাব বেয়ার লেভারকুসেন থেকে লিভারপুলে আসা এমরে চ্যানও এতবড় দায়িত্ব নেওয়ার জন্য যথেষ্ট প্রস্তুত নন। তাহলে কে বহন করবেন জেরার্ডের লেগ্যাসি অ্যানফিল্ডে? তাঁরই একরকম অনুসন্ধান করার এক ব্যর্থ প্রচেষ্টা এই আর্টিকেলটা!

আগে থেকে বলে রাখা ভালো, এই আর্টিকেলে মোটমাট ২০ জন সম্ভাব্য ‘জেরার্ড-উত্তরসূরি’ সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার সম্বন্ধে আলোচনা করা হয়েছে, ২০ থেকে ১ পর্যন্ত ক্রমানুসারে সাজানো এই আর্টিকেলে ২০ নাম্বারে থাকবেন তিনিই যার আসার সম্ভাবনা সবচেয়ে কম। এরপর আসার সম্ভাব্যতা, বাজারদর, লিভারপুলের ক্রয় করার ক্ষমতা, খেলোয়াড়ের আসলেই জেরার্ডকে রিপ্লেইস করার ক্ষমতা আছে নাকি, নেতৃত্বগুণ – মোটামুটি এই সব ক্রাইটেরিয়া বিবেচনা করে ২০ থেকে ১ পর্যন্ত সিরিয়াল করা হয়েছে। জেরার্ড প্রথমে খেলতেন অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে, পরে আস্তে আস্তে সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হয়ে যান। তাই সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার ছাড়াও সেন্ট্রাল অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বলা বাহুল্য, এটা একান্তই আমার মতামত, তাই আপনাদের সকলের মতামত একান্ত কাম্য।

২০. পল পগবা
দল – জুভেন্টাস
দেশ – ফ্রান্স
অনুমিত মূল্য – ৫০ মিলিয়ন পাউন্ড

পল পগবা
পল পগবা

তালিকার সবার শেষে আছেন বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার পল পগবা। কেন সবার শেষে আছেন তা যদিওবা অনেকে জানেন, তাও আরেকটু খোলাসা করে বলা যাক। পল পগবার বর্তমান বাজারমূল্য ন্যূনতম প্রায় ৫০ মিলিয়ন পাউন্ড, তাঁর উপর শ্যেনদৃষ্টি আছে রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, প্যারিস সেইন্ট জার্মেই, চেলসি, ম্যানচেস্টার সিটি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মত ক্লাবের। জিনেদিন জিদান প্রকাশ্যে পল পগবার প্রতি রিয়াল মাদ্রিদের আগ্রহের কথা ঘোষণা করে দিয়েছেন। এত দাম দিয়ে মিডফিল্ডার কেনার সামর্থ্য লিভারপুলের নেই। যদিও বা থাকত, তাঁর উপর আছে লিভারপুলের মহান ট্রান্সফার কমিটি ও ট্রান্সফার প্রসেস। অন্য কোন আগ্রহী ক্লাব না থাকা সত্বেও যে ক্লাব লাজার মার্কোভিচের মত এক আনকোরা তরুণকে হাজারো ‘দামাদামি’ করার পরেও সেই পুরো বাইআউট ক্লজ ২০ মিলিয়ন পাউন্ড দিয়ে কিনেছে, সে ক্লাব সফল নেগোসিয়েশান শেষে মাদ্রিদ-চেলসি-সিটির মত ক্লাবকে টেক্কা দিয়ে পল পগবাকে দলে ভেড়াবে – এটাকে ফ্যান্টাসি বললেও কম বলা হয়। তাঁর উপর জুভেন্টাসে যাওয়ার আগে পগবা ছিলেন লিভারপুলের চিরশত্রু ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের খেলোয়াড়। তাই এ যুগের সেরা অলরাউন্ড মিডফিল্ডারকে লিভারপুলের জার্সিতে দেখার খায়েশ করাটা বোকামি ছাড়া কিছুই না।

১৯. আর্তুরো ভিদাল
দল – জুভেন্টাস
দেশ – চিলি
অনুমিত মূল্য – ৪০ মিলিয়ন পাউন্ড

আর্তুরো ভিদাল
আর্তুরো ভিদাল

জুভেন্টাসের আরেক বিশ্বসেরা মিডফিল্ডার। গত মৌসুমে যদিও মেট্রো ফুটবল খবর দিয়েছিল লিভারপুল ভিদালকে কিনতে পারে, সেটা যে একটা ভাঁওতাবাজি ছিল সেটা বলাই যায়। বলা হচ্ছে, এই মৌসুমে জুভেন্টাস ভিদাল বা পগবার একজনকে ছাড়তে পারে। ধরা যাক যদি পগবাকে তারা ছাড়ে, তাহলে ভিদালকে যে তারা জীবনেও ছাড়বেনা একথা চোখ বন্ধ করে বলে দেওয়া যায়। আর তারা যদি পগবাকে রেখে দিয়ে ভিদালকে বিক্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনা করে, সেক্ষেত্রে ঐ একই সমস্যা। ভিদালকে পাওয়ার জন্য হাঁ করে চাতক পাখির ন্যায় চেয়ে থাকা ক্লাবের কোন অভাব নেই। তাই ভিদালকে লিভারপুলে দেখার আশা না করাটাই শ্রেয়।

১৮. থিয়াগো আলকানতারা
দল – বায়ার্ন মিউনিখ
দেশ – স্পেইন
অনুমিত মূল্য – ৩০ মিলিয়ন পাউন্ড

থিয়াগো আলকানতারা
থিয়াগো আলকানতারা

থিয়াগো আলকানতারা বর্তমানে জেরার্ডকে রিপ্লেইস করার জন্য অন্যতম যোগ্য একজন খেলোয়াড়। কিন্তু সোজাসুজি চিন্তা করে দেখেন, সে এখন বায়ার্ন মিউনিখের মত একটা বিশ্বসেরা ক্লাবে আছে, পেপ গার্দিওলার মত এক বিশ্বসেরা কোচের অধীনে আছে, যে কোচ কিনা নিজে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাথে একরকম লড়াই করে বার্সেলোনা থেকে বায়ার্নে নিয়ে এসেছে তাঁকে – সে এরকম একটা ক্লাব ছেড়ে লিভারপুলের মত একটা স্ট্রাগলিং ক্লাবে কেন আসবে? উপরন্তু গার্দিওলাকে আলকানতারার গুরু বললেও কম বলা হয়। এরকম পরিস্থিতিতে একটা খেলোয়াড়কে নিয়ে আসতে হলে তাঁর সামনে রাখতে হয় লোভনীয় চুক্তির প্রস্তাব, সাপ্তাহিক আকাশছোঁয়া বেতনের প্রস্তাব। স্বাভাবিকভাবেই লিভারপুলের ট্রান্সফার কমিটি নিজেদের পলিসি ভেঙ্গে বেতনের কাঠামো পরিবর্তন করবে না। আর নিজের লেখা বই ‘পেপ কনফিডেনশিয়াল’ এ গার্দিওলা প্রকাশ্যে ঘোষনা করেছেন লাম, আলকানতারা, গোতসা – এসব খেলোয়াড়্গুলো তাঁর দলের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

১৭. ক্রিস্টিয়ান এরিকসেন
দল – টটেনহ্যাম হটস্পার
দেশ – ডেনমার্ক
অনুমিত মূল্য – ৪০ মিলিয়ন পাউন্ড

ক্রিস্টিয়ান এরিকসেন
ক্রিস্টিয়ান এরিকসেন

তালিকায় ক্রিস্টিয়ান এরিকসেনের জায়গা এত পরে হত না, যদি না তিনি টটেনহ্যাম হটস্পারে খেলতেন। আরও পরিষ্কার করে বললে, তালিকায় হয়তবা এরিকসেনকে রাখাই লাগত না, যদিনা দু’বছর আগে লিভারপুল আয়াক্স থেকে এই প্রতিভাকে কিনে নিয়ে আসত। লিভারপুলের সাবেক কোচ কেনি ডালগ্লিশ ছিলেন বলতে গেলে এরিকসেনের অন্ধভক্ত। কিন্তু এরিকসেনকে কেনার আগেই বরখাস্ত হয়ে চলে যেতে হয় তাঁকে। টানা দুটো বছর লিভারপুলের সাথে নাম জড়িয়েছে এরিকসেনের। আজ আসবেন কাল আসবেন করে। পরে ডালগ্লিশ বরখাস্ত হবার পর লিভারপুলের ম্যানেজার হয়ে আসেন ব্রেন্ডান রজার্স। রজার্স আবার কখনই এরিকসেনের প্রতি আগ্রহী ছিলেন না। তাই এরিকসেনকে তখন কম দামে পাওয়া গেলেও সেই সুযোগটা হেলায় হারিয়েছেন রজার্স, যে সুযোগটা দু’হাতে লুফে নিয়েছে ড্যানিয়েল লেভি’র টটেনহ্যাম – এবং যার ফল তারা পাচ্ছেও হাতেনাতে। ইংলিশ লিগে খুব তাড়াতাড়ি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা এ মিডফিল্ডার টটেনহ্যামের হৃৎপিণ্ড এখন। তাই টটেনহ্যাম অবশ্যই চাইবেনা সরাসরি প্রতিপক্ষের কাছে নিজেদের দলের সবচে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়টিকে বেচে দিতে। আর ট্রান্সফারের ব্যাপারে টটেনহ্যাম চেয়ারম্যান ড্যানিয়েল লেভি যে কতবড় নচ্ছার তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। এই এরিকসেন থেকে শুরু করে ক্লিন্ট ডেম্পসি, গিলফি সিগার্ডসন – লিভারপুলের মগজহীন ট্রান্সফার পলিসির সুযোগ নিয়ে লিভারপুলের নজরে থাকা এরকম প্রত্যেকটা খেলোয়াড়কে কিনেছেন তিনি নিজের দলের জন্য। তাই এরিকসেন আসবেন না, বলে ফেলাই যায়।

১৬. কেভিন স্ট্রুটম্যান
দল – এএস রোমা
দেশ – নেদারল্যান্ড
অনুমিত মূল্য – ২৫ মিলিয়ন পাউন্ড

কেভিন স্ট্রুটম্যান
কেভিন স্ট্রুটম্যান

তালিকার পরবর্তী নাম ডাচ মিডফিল্ডার কেভিন স্ট্রুটম্যানের। ইনজুরিপ্রবণ এই মিডফিল্ডার গত তিন বছরে যতবার ইনজুরিতে পড়েছেন তত ম্যাচও বোধহয় খেলেননি পুরোটা। মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা এর মত যোগ হয়েছে তাঁর সর্বশেষ ইনজুরি, রোমার সাবেক ক্লাব ডাক্তার যেখানে সন্দেহ পোষণ করেছেন এই ইনজুরিতে শেষ হয়ে যেতে পারে স্ট্রুটম্যানের ক্যারিয়ারও। কিন্তু যখনই খেলেছেন, জাত চিনিয়েছেন নিজের। সেটা নেদারল্যান্ডের হয়ে হোক বা রোমা-পিএসভি’র হয়ে। দলে তাঁর গুরুত্ব বোঝানোর জন্য একটা তথ্যই যথেষ্ট। বিশ্বকাপে স্ট্রুটম্যানকে না পাওয়ার জন্য তৎকালীন ডাচ কোচ লুই ভ্যান হাল পালটে ফেলেছিলেন পুরো দলের ফর্মেশানটাই! নিজের পছন্দের ৪-৩-৩ ফর্মেশান থেকে সরে গিয়ে পুরো টুর্নামেন্ট নেদারল্যান্ড দলকে খেলিয়েছেন ৩-৫-২ ফর্মেশানে। গত দুই বছর ধরেই স্ট্রুটম্যানকে নিজেদের দলে পাওয়ার জন্য সম্ভাব্য সকল চেষ্টাই করছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। কিন্তু তাঁর ঐসব ইনজুরির জন্যই এখনো ইউনাইটেডে আসতে পারেননি তিনি। সুস্থ হওয়ামাত্রই তিনি যে চোখ বন্ধ করে ইউনাইটেডে চলে আসবে সেকথা বলাই যায়। জানেন না কেন? ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বর্তমান কোচ যে সেই লুই ভ্যান হাল! কিছুদিন আগে এই খবরও বের হয়েছিল, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে দলবদলটা তাড়াতাড়ি সারার জন্য নিজের সাবেক এজেন্টকে ছাঁটাইও করেছেন স্ট্রুটম্যান, নিয়োগ দিয়েছেন লুই ভ্যান হাল ও রবিন ভ্যান পার্সি’র এজেন্ট “স্পোর্টস এন্টারটেইনমেন্ট গ্রুপ” কে। দুইয়ে দুইয়ে চার মিলিয়ে তাই বলাই যায় লিভারপুলে না, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে আসলে গুরু ভ্যান হালের দ্বারেই আসবেন স্ট্রুটম্যান – লিভারপুলের চিরশত্রু ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে!

১৫. ডেভি ক্ল্যাসেন
দল – আয়াক্স অ্যামস্টারডাম
দেশ – নেদারল্যান্ড
অনুমিত মূল্য – ৮ মিলিয়ন পাউন্ড

ডেভি ক্ল্যাসেন
ডেভি ক্ল্যাসেন

এবার আসা যাক কিছু বাস্তববাদী কল্পনায়। আয়াক্স অ্যামস্টারডামের উদীয়মান সেন্ট্রাল অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ডেভি ক্লাসেন হতে পারেন পরবর্তী জেরার্ড, যদিও তাঁকে ইতোমধ্যে ‘পরবর্তী বার্গক্যাম্প’ উপাধি দেওয়া হয়ে গেছে। আর যেহেতু বার্গক্যাম্পের সাথে তাঁর তুলনা – সেহেতু তাঁর উপর আর্সেনালের নজর আছে সবচেয়ে বেশী। বয়স কম বলে তিনি হয়তবা জেরার্ডের রেডিমেড রিপ্লেসমেন্ট হবেন না, লাগবে আরও অভিজ্ঞতা, কিন্তু তাঁকে কিনলে মূল্যটা অপাত্রে দানও হবেনা। ২২ বছর বয়সী এই মিডফিলডার এই মৌসুমে ৪৪ ম্যাচ খেলে ৮ গোল ও ১২ অ্যাসিস্ট করেছেন। খেলতে পারেন স্ট্রাইকার হিসাবেও। নেদারল্যান্ড দলে এর মধ্যেই ওয়েসলি স্নাইডারের উত্তরসূরি ভাবা হচ্ছে তাঁকে।

১৪. ম্যাক্সিমিলিয়ান মেয়ার/লিওন গোরেটজকা
দল – শালকে ০৪
দেশ – জার্মানি
অনুমিত মূল্য – ১৫ মিলিয়ন পাউন্ড/১0 মিলিয়ন পাউন্ড

ম্যাক্স মেয়ার
ম্যাক্স মেয়ার
লিওন গোরেটজকা
লিওন গোরেটজকা

বর্তমানে অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারদের তীর্থক্ষেত্র বলা যায় জার্মানিকে। আরও স্পষ্ট করে বললে শালকে জিরো ফোরে অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের আধিক্য চোখে পড়ার মত। কেভিন প্রিন্স বোয়াটেং, জুলিয়ান ড্র্যাক্সলার, সিডনি স্যাম, ম্যাক্স মেয়ার, লিওন গোরেটজকা, ট্র্যাঙ্কুইলো বারনেত্তা, জেফারসন ফারফান – অভাব নেই শালকের। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, এই মৌসুমে শালকের হয়ে কোন স্ট্রাইকার নন, গোলে শট সবচেয়ে বেশী নিয়েছেন এই মেয়ারই! একটা মিডফিলডারের যেটা অনেক বড় গুণ। ওদিকে শালকে অ্যাকাডেমির আরেক প্লেয়ার গোরেটজকাও অসাধারণ নৈপূণ্যের সাক্ষর রেখে যাচ্ছেন – এই দুজনের সাথে নিয়মিত তুলনা হচ্ছে লিওনেল মেসি বা মারিও গোতসার। লিভারপুলের জন্য খুব স্মার্ট ইনভেস্টমেন্ট হতে পারেন এই দুইজন।

১৩. কেভিন-প্রিন্স বোয়াটেং
দল – শালকে ০৪
দেশ – ঘানা
অনুমিত মূল্য – ১৫ মিলিয়ন পাউন্ড

কেভিন-প্রিন্স বোয়াটেং
কেভিন-প্রিন্স বোয়াটেং

শালকের আরেক মিডফিল্ড ডাইনামাইট। নিজের সামর্থ্যের পুরোটা কখনো কোন ক্লাবে দিতে পারেননি প্রিন্স, সেটা টটেনহ্যাম হোক, বা পোর্টসমাউথ হোক, বা এসি মিলান হোক, বা এই শালকে হোক। তবে চূড়ান্ত অধারাবাহিক এই খেলোয়াড় যেদিন ফর্মে থাকেন, বিশ্বের যেকোন ডিফেন্ডারের ঘুম হারাম হতে বাধ্য। ১০ মিলিয়নের মধ্যে পাওয়া গেলে লিভারপুলের জন্য খুব ভালো একটা ইনভেস্টমেন্ট হতে পারে জেরার্ডের রিপ্লেইসমেন্ট হিসেবে।

১২. ফেলিপে অ্যান্ডারসন
দল – লাজিও
দেশ – ব্রাজিল
অনুমিত মূল্য – ২০ মিলিয়ন পাউন্ড

ফেলিপে অ্যান্ডারসন
ফেলিপে অ্যান্ডারসন

মিডফিল্ডারদের নিয়ে কথা হবে, আর সেখানে সাম্বার দেশ ব্রাজিলের কোন প্রতিনিধি থাকবে না, এ হতে পারেনা। এই মৌসুমে সান্তোস থেকে ইতালিয়ান ক্লাব লাজিওতে আসা ব্রাজিলিয়ান ফেলিপে অ্যান্ডারসন এর মধ্যে নিজেকে সিরি আ’র সবচে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রায় প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছেন ভিদাল পগবা পিরলোদের পাশাপাশি। তাঁর অসাধারণ ফর্মের জন্যই লাজিও এই মৌসুমটা কাটাচ্ছে স্বপ্নের মত, এখনও সিরি আ এর পয়েন্ট তালিকায় তারা দ্বিতীয়। ২৯ ম্যাচে এই পর্যন্ত ১১ গোল ও ৯ অ্যাসিস্ট দেওয়া এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হতে পারেন জেরার্ডের যোগ্য উত্তরসূরি, যদিও চেলসি, ইউনাইটেডের মত ক্লাবের নজর তাঁর উপরেও আছে।

১১. জুলিয়ান ড্র্যাক্সলার

দল – শালকে ০৪
দেশ – জার্মানি
অনুমিত মূল্য – ২৫ মিলিয়ন পাউন্ড

জুলিয়ান ড্র্যাক্সলার
জুলিয়ান ড্র্যাক্সলার

শালকে ০৪ এর নয়নের মণি খেলোয়াড়। ড্র্যাক্সলারের দলবদল নিয়ে গত কয়েক মৌসুম ধরে কানাঘুষা শোনা গেলেও তিনি থেকে গেছেন শালকেতেই। আর্সেনাল তাঁর উপর আগ্রহী সবচেয়ে বেশী। কিন্তু লিভারপুল চাইলেই কমবয়সী ও রেডিমেড জেরার্ড রিপ্লেইসমেন্ট পেতে পারে ড্র্যাক্সলারের মধ্যে, যদি ট্রান্সফার কমিটির মাথায় শুভবুদ্ধির উদয় আরকি!

১০. রস বার্কলি

দল – এভারটন
দেশ – ইংল্যান্ড
অনুমিত মূল্য – ৩০ মিলিয়ন পাউন্ড

রস বার্কলি
রস বার্কলি

তালিকায় বিশজন খেলোয়াড়ের মধ্যে একেবারে আগাগোড়া দ্বিতীয় স্টিভেন জেরার্ড বলে যদি কাউকে অভিহিত করা যায়, তিনি হলেন রস বার্কলি। প্রায় একইধরণের খেলার স্টাইল, জন্মেছেনও লিভারপুলে। এখন প্রশ্ন আসতে পারে তাহলে তালিকার এক নাম্বারে না থেকে দশনাম্বারে কি করছেন বার্কলি? কারণ একটাই, তিনি এভারটনের খেলোয়াড়! আর লিভারপুলের সাথে এভারটনের শত্রুতার ইতিহাস ত সেই জন্মলগ্ন থেকে। তাই এভারটন থেকে শত্রুশিবির লিভারপুলে চলে আসবেন – চরম আশাবাদী লিভারপুল সাপোর্টারও বোধহয় অত আশা করবেন না। তারপরেও, আবেল জাভিয়ের, নিক বার্মবি, গ্যারি অ্যাবলেট, স্টিভ ম্যাকমাহন, পিতার বিয়ার্ডসলি প্রমুখ খেলোয়াড় যেহেতু এত শত্রুতা থাকার পরেও লিভারপুল এভারটন দুই দলেই খেলেছেন – তাই আশাবাদী ত হওয়াই যায়!

৯. রাদজা নাইঙ্গোলান

দল – এএস রোমা
দেশ – বেলজিয়াম
অনুমিত মূল্য – ২৫ মিলিয়ন পাউন্ড

রাদজা নাইঙ্গোলান
রাদজা নাইঙ্গোলান

যদিও স্টিভেন জেরার্ডের মত অতটা অলরাউন্ড প্যাকেজ না, তবুও রাদজা নাইঙ্গোলানকে মিডফিল্ড ইঞ্জিন রুম বললে অত্যুক্তি হয় না। লিভারপুলের মিডফিল্ডের একটা সবচে বড় সমস্যা, কোন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার নেই তাঁদের। যে কিনা ডিফেন্সের সামনের স্লটে বসে প্রতিপক্ষের আক্রমণ আগে থেকেই নস্যাত করে দিতে পারবেন। রাদজা নাইঙ্গোলান এরকমই একটা খেলোয়াড়। লিভারপুলের সাথে এর মাঝেই তাঁর নাম জুড়ে দেওয়া হয়েছে, দেখা যাক, কোথাকার জল কোথায় গড়ায়!
৮. মর্গান শ্নাইডারলিন
দল – সাউদাম্পটন
দেশ – ফ্রান্স
অনুমিত মূল্য – ২৫ মিলিয়ন পাউন্ড

মর্গান শ্নাইদারলিন
মর্গান শ্নাইদারলিন

এই মৌসুমে বলতে গেলে সাউদাম্পটনের ঘর ফাঁকা করে দিয়েছিল লিভারপুল, কিনে এনেছিল অ্যাডাম লালানা, দেয়ান লভ্রেন ও রিকি ল্যাম্বার্টকে। কিন্তু সবচে গুরুত্বপূর্ণ যে খেলোয়াড়টা সেই দলের, সেই মর্গান শ্নাইডারলিনই কোন অদ্ভুত কারণে লিভারপুলের ট্রান্সফার কমিটির নজরে পড়েননি। ফলে যা হবার তাই হয়েছে। লালানা লভ্রেন ল্যাম্বার্ট – লিভারপুলের হয়ে কেউই এই মৌসুমে প্রত্যাশামত পারফর্ম করতে পারেননি ওদিকে শ্নাইদারলিন সাউদাম্পটনের হয়ে প্রতিমুহূর্তে ছাড়িয়ে গেছেন নিজেকে। ইতালি কিংবদন্তী ড্যানিয়েলে ডি রসি’র খেলার সাথে সাদৃশ্য থাকা এই খেলোয়াড় নিয়মিত আছেন আর্সেনালের নজরে। সাউদাম্পটনের কাছ থেকে ছাড়িয়ে আনতে ও আর্সেনালের চোখরাঙ্গানি উপেক্ষা করতে লিভারপুলকে খসাতে হবে মোটামুটি ২৫ মিলিয়ন পাউন্ডের মত।

৭. ইয়োহান কাবাই
দল – প্যারিস সেইন্ট জার্মেই
দেশ – ফ্রান্স
অনুমিত মূল্য – ২০ মিলিয়ন পাউন্ড

ইয়োহান কাবাই
ইয়োহান কাবাই

সাবেক নিউক্যাসল ইউনাইটেডের এই খেলোয়াড় প্যারিস সেইন্ট জার্মেইয়ে গিয়ে নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন। নিয়মিত শুরুর একাদশে থাকেন না তিনি, বেঞ্চ গরম করতে করতে অতিষ্ট এই খেলোয়াড় তাই যেকোন মুহূর্তে ছাড়তে পারেন ফরাসি চ্যাম্পিয়নদের। নজর আছে আর্সেনাল, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও লিভারপুলের। তাঁর ক্ষমতা সম্বন্ধে কেউ অবিদিত না থাকলেও বয়সটা লিভারপুলে আসার জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে তাঁর। ২৯ বছর বয়সী ক্লিন্ট ডেম্পসিকে আনতে গিয়ে যেভাবে বয়সের জন্য পরে আনেনি লিভারপুল, ইয়োহান কাবাইকে আদৌ তাই আনবে কিনা, বলা যাচ্ছেনা।

৬. মুসা সিসোকো
দল – নিউক্যাসল ইউনাইটেড
দেশ – ফ্রান্স
অনুমিত মূল্য – ১৫ মিলিয়ন পাউন্ড

মুসা সিসোকো
মুসা সিসোকো

তালিকায় সর্বশেষ ফ্রেঞ্চ। নিউক্যাসল ইউনাইটেড গত দুইবছরে যতগুলো খেলোয়াড় দলে এনেছে তাঁদের মধ্যে মুসা সিসোকো তর্কাতীতভাবে সেরা। সাবেক লিভারপুল খেলোয়াড় ড্যানি মার্ফির মতে শ্নাইডারলিন আর সিসোকো – এই দুই ফ্রেঞ্চকেই দলে নেওয়া উচিত লিভারপুলের। মুসা সিসোকো’র সবচে বড় গুণ তাঁর একাধিক পজিশানে খেলতে পারার ক্ষমতা, ও তাঁর শারীরিক শক্তি। এই শক্তির জন্য তিনি ৪-২-৩-১ ফর্মেশানে খেলতে পারেন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে, কিংবা ৪-৩-৩ ফর্মেশানে সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হিসেবেও অনায়াসে মানিয়ে যান তিনি। ৪-২-৩-১ ছকে উইঙ্গার হিসেবে খেলার সামর্থ্যও আছে তাঁর, তাঁর উপর গোলক্ষুধা ত আছেই। গরীবের ইয়ায়া ট্যুরে বললেও তাই অত্যুক্তি হয়না তাঁকে। আফসোসের বিষয় একটাই নিউক্যাসলে আসার আগে ২০১১ সালে তিনি লিভারপুলের আসার জন্য অনেকটাই প্রস্তুত হয়ে ছিলেন। প্রিমিয়ার লিগের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই খেলোয়াড়কে কেনাটা অত্যন্ত বুদ্ধিমানের কাজ হবে লিভারপুলের জন্য। নিউক্যাসলের যেহেতু এই মুহূর্তে নিয়মিত কোন ম্যানেজার নেই, তাই তাঁকে আনাটাও বিশেষ কোন সমস্যা হবে বলে মনে হয় না।
৫. কেভিন ডে ব্রুইনিয়া
দল – ভলফসবুর্গ
দেশ – বেলজিয়াম
অনুমিত মূল্য – ৩৫ মিলিয়ন পাউন্ড

কেভিন ডে ব্রুইনিয়া
কেভিন ডে ব্রুইনিয়া

চেলসির বেঞ্চ গরম করতে করতে এই মৌসুমেই ভলফসবুর্গে পাড়ি জমানো ডি ব্রুইনিয়া নিজেকে ফিরে পেয়েছেন যেন। কি ক্লাব কি দেশ, উভয়ক্ষেত্রেই দলের প্রাণভোমরা তিনি। এই মৌসুমে ৪৪ ম্যাচ খেলে ১৫ গোল করার পাশাপাশি ২৫টা অ্যাসিস্টও করে ফেলেছেন এর মধ্যে। তাঁর এই চোখ ঝলসানো ফর্ম নজরে এড়াচ্ছেনা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, ম্যানচেস্টার সিটি, বায়ার্ন মিউনিখের মত ক্লাবের। কিন্তু কোনরকমে লিভারপুল যদি ডি ব্রুইনিয়াকে নিজেদের দলে আনতে পারে, এক পয়সাও জলে পড়বেনা, এ কথা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়!

৪. মাতেও কোভাচিচ
দল – ইন্টার মিলান
দেশ – ক্রোয়েশিয়া
অনুমিত মূল্য – ২৫ মিলিয়ন পাউন্ড

মাতেও কোভাচিচ
মাতেও কোভাচিচ

ওয়াল্টার মাজ্জারি কোচ থাকার সময়ে ইন্টারে বেশী সুযোগ পাননি কোভাচিচ। কিন্তু ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়েছে রবার্তো মানচিনি দায়িত্বে আসার পর থেকেই। এবং তখন থেকেই কোভাচিচ প্রমাণ করে চলেছেন কেন তিনি ‘দ্য নেক্সট বিগ থিং’। বয়স মাত্র ২০, এরমধ্যেই যথেষ্ট অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ও পরিপক্ক এই খেলোয়াড় লিভারপুলে জেরার্ডের অভাব পূরণ করার ক্ষমতা রাখেন। কিন্তু ইন্তারের নতুন মালোয়েশিয়ান মালিক এরিক থোহির নিজের দলের সেরা খেলোয়াড়কে আদৌ ছাড়তে চান কিনা, সেটাও দেখার বিষয়।

৩. মিরালেম পিয়ানিচ

দল – এএস রোমা
দেশ – বসনিয়া
অনুমিত মূল্য – ২৮ মিলিয়ন পাউন্ড

মিরালেম পিয়ানিচ
মিরালেম পিয়ানিচ

তালিকায় এএস রোমার তৃতীয় ও শেষ মিডফিল্ডার। স্টিভেন জেরার্ডের অভাব পূরণে সক্ষম অন্যতম সময়ের সেরা এই মিডফিলডারকে পাওয়ার জন্য এর মধ্যেই রোমার সাথে কথাবার্তা শুরু করে দিয়েছে লিভারপুল। অসাধারণ টেকনিক ও ট্রিকারির এই খেলোয়াড় রজার্সের পছন্দের ৪-৩-৩ ফর্মেশানের যেকোন মিডফিল্ড ভূমিকায় মানিয়ে নিতে পারবেন নিজেকে। ডিপ লায়িং প্লেমেকার রোল – সাধারণত পিরলো, জাভি, আলনসোদের যে রোল খেলতে দেখা যায়, সে ভূমিকায় খেলারও যথেষ্ট সামর্থ্য আছে পিয়ানিচের, তাঁর ‘ভিশন’ এমনই অসাধারণ। ফ্রি কিকেও তাঁর পারদর্শিতা দেখার মত।

২. রবার্তো ফিরমিনো
দল – হফেনহেইম
দেশ – ব্রাজিল
অনুমিত মূল্য – ২৫ মিলিয়ন পাউন্ড

রবার্তো ফিরমিনো
রবার্তো ফিরমিনো

জার্মান ক্লাব হফেনহেইমে খেলা এই ২৩ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান সেন্ট্রাল অ্যাটাকিং মিডফিল্ড ছাড়াও খেলতে পারেন সেকেন্ডারি স্ট্রাইকার ও পুরোদস্তুর স্ট্রাইকার হিসেবেও। বেশ কয়েক মৌসুম ধরেই অনেক বড় ক্লাবের নজরে থাকা ফিরমিনো এই মৌসুমে এই পর্যন্ত ৩২ ম্যাচ খেলে গোল করেছেন ৯টি, করিয়েছেন ১০টি।
১. ইলকায় গুন্ডোগান
দল – বরুশিয়া ডর্টমুন্ড
দেশ – জার্মানি

ইলকায় গুন্ডোগান
ইলকায় গুন্ডোগান

মিরালেম পিয়ানিচের পাশাপাশি সবদিক মিলিয়ে লিভারপুলে যার আসার জন্য সবচে বেশী আশাবাদী হওয়া যায় তিনি বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের জার্মান সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার ইলকায় গুন্ডোগান। পিঠের ইনজুরির কারণে এক মৌসুম মাঠের বাইরে থাকা এই মিডফিল্ডার মাঠে ফিরেছেন সদ্যই, ও যথারীতি খেলছেন অসাধারণ। কমপ্লিট প্যাকেজ এই মিডফিল্ডার ৪-২-৩-১ কিংবা ৩-৪-১-২ কিংবা ৪-৩-৩, স্বচ্ছন্দ যেকোন ফর্মেশানেই। আর এখন সবচে বড় সুবিধা হল মৌসুম শেষে ডর্টমুন্ডের দায়িত্ব ছাড়ছেন গুন্ডোগানদের গুরু ইয়ুর্গেন ক্লপ। ক্লপ চলে যাওয়ার ফলে স্বাভাবিকভাবেই দলের অনেক খেলোয়াড় ক্লাবে থাকতে চাইবেন না, লিভারপুলকে নিতে হবে এই সুযোগটাই!
২০ জনের পর আরেকজনকে ‘ফাও’ হিসেবে অ্যাড করা যেতেই পারে। তিনি নাপোলির স্লোভাকিয়ান মিডফিল্ডার মারেক হামসিক। বিশ্বের অন্যতম আন্ডাররেইটেড এই মিডফিল্ডার নিজেকে প্রমাণ করে চলেছেন বেশ কয়েক মৌসুম ধরে। লিভারপুলের স্লোভাকিয়ান সেন্টারব্যাক মার্টিন স্কার্টেল কি পারেন না বলতে তাঁর জাতীয় দলের সতীর্থকে লিভারপুলে আসার জন্য কে জানে!

মারেক হামসিক
মারেক হামসিক

আর্টিকেল শেষে তাই এটাই আশা করা যায়, ফ্যাবিয়ান ডেলফ বা উইল হিউজের মত অপরিণত কেউ না, জেরার্ডের উত্তরসূরি যেন উপরের ২১ জনের মত কোন অভিজ্ঞই হয়!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

18 + two =