গেইল-ডে ! গেইল ম্যাচ ! গেইল ইনিংস !

ডিকশনারি থেকে সবচেয়ে দুর্দান্ত বিশেষণগুলি বের করে গেইলের নামের পাশে বসিয়ে দেবার দিন আজ ! ধুলোজমা অনেক পুরোনো রেকর্ডের ধুলো মুছতে হবে ! তারপর সেখান থেকে রেকর্ডটাই মুছতে হবে ! তারপর সেখানে ক্রিস গেইলের নাম লিখে ফেলার দিন আজ ! জিম্বাবুয়ের বোলারদের জন্য জিভ চুকচুক করে সহানুভূতি জানানোর একটি দিন আজ ! সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলো আজ ক্রিস গেইল ক্রিস গেইল হ্যাশট্যাগে ভেসে যাবে ।

সোজাসুজি বলতে হবে , “টি২০ এর বুনো গেইলের টোয়েন্টি টোয়েন্টি স্টাইলের সেরা ওয়ানডে ইনিংস ! এটা গেইল ইনিংস ! এটা ক্রিস গেইল ইনিংস ! এটা দুনিয়াতে লেগ সাইডে ক্রিকেট বলকে সবচেয়ে জোরে মারতে পারা গেইলের ইনিংস !”

দুনিয়াজোড়া টি-২০এর উত্থান হয়েছে ! দেশে দেশে বসেছে কাড়ি কাড়ি টাকার ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ ! আর উত্থান হয়েছে একজন ক্রিস গেইলের । নিন্দুকেরা “দেশের জন্যে খেলে না” ট্যাগ লাগিয়ে শান্তি পান , সাবেকরা “কমিটমেন্ট নেই ” বলে তাকে দুয়ো দেন আর গেইল মনে হয় আসল শান্তিটা পান ছক্কা মেরে ! ঢাকা হোক আর মুম্বাই , আইপিএল হোক আর টি২০ বিশ্বকাপ- গেইলের কাজ বিনোদনের খোড়াক হওয়া ! ২০০৭ এর টি২০ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে জোহানেসবার্গে সেই যে ৫৭ বলে ১১৭ রানের ইনিংস দিয়ে শুরু, ব্যাট হাতে বুনো গেইল আর থামেন নি কখনোই । গেইলের দিনে গেইল তার মতো ! তা সে ক্যারিবীয় জার্সিতেই হোক আর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের জার্সিতেই হোক !

পিছের ১৯ মাস ব্যাটে ওডিআই শতক নেই । তাই হয়তো আইরিশদের সাথে বিশ্বকাপের শুরুর ম্যাচটায় নিজেকে পাল্টে করেছিলে্ন স্লথ ব্যাটিং । তাতে ফল আসে নি । ব্যর্থ হলেন পাকিস্তানের সাথে ম্যাচেও ! আজও আউট হয়ে যেতে পারতেন প্রথমেই ! ভাগ্য ভালো রিভিও নিয়েও কাজ হয় নি পানিয়াঙ্গারার ! শুরুটা সিঙ্গেল আর সেইফ কিছু চারের মারে করলেন । ছক্কা-গেইলের ব্যাট প্রথম ছক্কা দেখলো ইনিংসের ১১ তম ওভারে সীন উইলিয়ামসের বল উড়িয়ে মারার পরে ।

গেইলের ইনিংসের ওয়াগন হুইল
গেইলের ইনিংসের ওয়াগন হুইল

তবে সবকিছু যেন হিসাব নিকাশ করেই নেমেছিলেন ক্রিস গেইল । সতীর্থ মারলন স্যামুয়েলস এগোচ্ছিলেন শম্ভুক গতিতে , আর দলের রানকে দর্শনযোগ্য অবস্থায় রাখার জন্যে বলে বলে রান নিচ্ছিলেন গেইল । কখনো চার বল ডট দিয়ে ৫ম বলে একটা বাউন্ডারি মেরে , আবার কখনো সিকান্দার রাজা বা মাসাকাদজার বলে বলে সিঙ্গেলস নিয়ে !সেঞ্চুরির দিকে যতো এগোচ্ছিলেন, ততোটাই আগ্রাসী হয়ে উঠছিলেন গেইল । সেঞ্চুরিটা হবার পরে সবাই একটু নড়েচড়ে বসলেন । সেঞ্চুরির পর গেইলের ক্যারিয়ার স্ট্রাইকরেট নাকি ১৪০ এর কাছাকাছি ! তা পরিসংখ্যানকে অনেকে বোবা অঙ্ক বললেও আজ কিন্তু পরিসংখ্যান আর বোবা অঙ্কটি হয়ে থাকলো না । গেইল দায়টা নিলেন কথা বলানোর । পাওয়ারপ্লেতে ক্যারিবীয়রা ৫৫টা রানও তুললো গেইলের কল্যাণে ।

লেগসাইডই গেইলের শক্তি
লেগসাইডই গেইলের শক্তি

ক্রিস গেইলের ইনিংসের হাইলাইটস হলো লেগসাইড ! ১৯৬ থেকে ২০০ ছুঁতে গেইল অফসাইডে যে চারটি মারলেন, ওটা ছিলো গেইলের অফসাইডে প্রথম বাউন্ডারি । তাছাড়া পুরো ইনিংসজুড়েই জিম্বাবুইয়ানদের অফসাইডের বলগুলোও কচুকাটা করে ক্রস করেছেন সেই প্রিয় লেগসাইডেই ! সোজাসুজি কয়েকটা ছক্কা মারলেন বটে, তবে সবচেয়ে বড় ছক্কাগুলো মেরেছেন লেগসাইডেই ! ১০ টি চার আর ১৬টি ছক্কার ক্রিস গেইলের ইনিংসটি থামে একেবারে ইনিংসের শেষ বলে গিয়ে ! সেটাও ছক্কা হাঁকাতে গিয়েই ! হ্যামিল্টন মাসাকাদজার সান্ত্বনা উইকেট !

চেয়ে দেখার মতো গেইলের উদযাপনগুলোও
চেয়ে দেখার মতো গেইলের উদযাপনগুলোও

গেইলের দিনে ছাড় পায় না কেউই ! জিম্বাবুয়ের বোলারেরাও পেলেন না । তবে ঝড়টা বোধহয় সবচাইতে বেশি গেলো দুই স্পিনার উইলিয়ামস আর কামুনগোজীর উপর দিয়েই । উইলিয়ামস ১৯ বলে ৩৮ রান দিলেও কামুনগোজীর উপর দিয়ে গেইল-কোপটা আরো বেশি । ১০ বলে ৩৪ ! স্ট্রাইক রেট ৩৪০ ! দানবীয় !

বোলারভেদে গেইলের স্কোরিং এর পরিসংখ্যান
বোলারভেদে গেইলের স্কোরিং এর পরিসংখ্যান

এমন ইনিংসের স্তুতিমালার শেষটানাটা কম কঠিন কাজ নয় । অনেকগুলো রেকর্ড গেইল আজ নতুন করে লিখেছেন তারমধ্যে সবচাইতে বড় তিনটা মনে করিয়ে দিয়েই শেষ করি ।
১) ওয়ানডে ক্রিকেটের এটি ৫ম দ্বিশতক । এর আগের চারটির দুটি রোহিত শর্মার , একটি করে শেবাগ আর টেন্ডুলকারের । আর পঞ্চমটি করলেন ক্রিস গেইল ।
২) গেইল-স্যামুয়েলসের ৩৭২ রানের জুটি ওয়ানডে ক্রিকেটের যে কোন উইকেটে সবচাইতে বড় জুটি । আগের রেকর্ডটা ছিলো শচীন টেন্ডুলকার আর রাহুল দ্রাবিড়ের ৩৩১ রানের । সেটা ১৯৯৯ সালে হায়দ্রাবাদে কিউদের সাথে ।
৩) বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত ইনিংসটি খেলে ফেললেন ক্রিস গেইল । আগের ইনিংসটা গ্যারি কার্স্টেনের আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে ! ১৯৯৬ বিশ্বকাপে ! পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে ।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

16 − 10 =