মেলবোর্নে আনন্দের রঙ হলুদ

দৃশ্য ১
২ রান দরকার। স্টিভেন স্মিথ স্কয়ার লেগে চার মেরে দিলেন। অস্ট্রেলিয়া নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন! ৫ম বারের মত…. টানা ৩ বারের পরে একবারের বিরতি। তারপরে ক্রিকেটের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট ফিরল ক্রিকেটের আসল রাজাদের কাছে। অস্ট্রেলিয়ার কাছে।

বিশ্বজয় !!!
বিশ্বজয় !!!

দৃশ্য ২

তখনো টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় ম্যাচটা জিততে আরো কয়েকটা রান দরকার অজিদের। মাইকেল ক্লার্কের দ্রুত শেষ করার বড্ড তাড়া। যাকে পাচ্ছেন, বাহারি সব শটে চার মেরে সীমানা ছাড়া করছেন। তরুণ ম্যাট হেনরির বলে বোল্ড মাইকেল ক্লার্ক। অস্ট্রেলিয়ার দুনিয়াজোড়া সমর্থকদের সাথে মাঠের ৯৩০০০ মানুষ – ম্যাট হেনরির ধন্যবাদ পাওয়া থাকল সবার কাছ থেকেই। আউট হয়ে উন্নত মম শির ক্লার্ক যখন ফিরছিলেন তখন ক্যাপ্টেন ক্ল্যাসিকের জন্যে শ্রদ্ধায় দাঁড়িয়ে গেছে গোটা মেলবোর্ন স্টেডিয়ামের গ্যালারির হাজারো মানুষ। এই মুহূর্তটুকু শুধুই ক্লার্কের জন্যে! শুধুই ক্লার্কের। ম্যাট হেনরি ক্লার্ককে একা হেঁটে যাবার সুযোগটা না দিলে এ বিরল মুহূর্ত আসত কোথা থেকে? ম্যাট হেনরি কি এই ক্রেডিটের ভাগটা পাবেন না ?

ক্রিকিনফো
হলুদে আর নয় !

দুটো আলাদা দৃশ্য যেনো শুনিয়ে গেলো অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে পালাবদলের গানও। অধিনায়কত্ব আর গর্বের ব্যাটনটা শেষ ম্যাচে স্টিভ স্মিথের মত যোগ্য হাতে তুলে দিয়ে গেলেন মাইকেল ক্লার্ক। শুধু কি ক্যাপ্টেন্সি ? হারানো মুকুটটাও তো পুনরুদ্ধার করে ফিরিয়ে দিয়ে গেলেন ক্লার্কি । চার বছর আগে পন্টিং দিয়েছিলেন ক্লার্ককে। এ ম্যাচটা তো নিখাদ প্রফেশনালিজমের বাইরে অজিদের জন্যে আবেগের ম্যাচও হয়ে থাকলো। ক্যাপ্টেন ক্লার্ককে যে আর দেখা যাবে না অস্ট্রেলিয়ার রঙিন জার্সিতে। বিদায় নেবার আগে শেষ ২ ম্যাচেই ফিফটি। তবে ইনজুরির সাথে পেরে উঠছিলেন না… দুটো ফরম্যাট তাই ক্লার্কের জন্যে সামনের দিনগুলোতে চাপও হয়ে দাঁড়াতে পারত।

ক্রিকিনফো
বীরোচিত বিদায়

৯৯ এর সাথে অনেক মিল… সেবারও অস্ট্রেলিয়া ফাইনালের আগে হেরে বসে পাকিস্তানের কাছে। ফাইনালে আবার অস্ট্রেলিয়া-পাকিস্তান । ফাইনাল নিয়ে অনেক জল্পনা কল্পনা হলেও খেলা মূলত শেষ হয়ে যায় প্রথম ইনিংসের পরেই। আজও তাই হয়েছে….

অস্ট্রেলিয়া তাদের চিরাচরিত শর্ট বলকে বেছে নেয় নি। শুরু থেকেই স্ট্যাম্পে জায়গা না ছেড়ে বল করার দিকে জোর দিয়েছে। তাতেই ফাইনালে হুড়মুড় করে ভেঙে পড়তে হলো কিউইদের। ১৮৩ রানের ইনিংসে ইনিংস হাইলাইটস বলতে সেমিফাইনালের ফর্ম টেনে আনা ইলিয়টের ৮০ পেরোনো আত্মবিশ্বাসী ইনিংসটা। চতুর্থ উইকেট জুটিতে ইলিয়টে আর টেলরের জুটিতেই যা! ইনিংসের শুরু শেষে জনসন আর স্টার্ক… আর মাঝে ফকনার। ১০ উইকেটের ৮টাই ফুলার লেংথের বলে । তাতেই নিশ্চিত হলো অস্ট্রেলিয়া থেকে ট্রফিটি কোথাও যাচ্ছে না।

ক্রিকিনফো
ফাইনাল-সেরা ফকনার

তারপরে অজিরা ব্যাট করতে নামলে স্মিথ আর ক্লার্কের ফিফটিতে সেখানে কোন কিক ছিলো না । লেম্যানের অস্ট্রেলিয়া – ক্লার্কের অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে উত্তেজনা চায় নি। তাদের যে বড্ড তাড়া ছিলো ক্লার্ককে অমন কিছু দিয়েই বিদায় দেবার।

শিরোপা পঞ্চক হলো পূর্ণ, ম্যান অফ দি টুর্নামেন্টের খেতাব মিচেল স্টার্কের কাছে, ম্যান অফ দি ফাইনাল জেমস ফকনারের ঝুলিতে।
একদিনে কি এর চাইতে বেশি পেতে পারত ক্যাঙ্গারু ক্রিকেট?

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

fifteen + 15 =