ফিফথ ডে অ্যাপ্রোচ

হ্যান্ডসকম্ব আর শন মার্শ আজ যে কাজটা করে ফেললো, এমন পদক্ষেপটা নেওয়াটা সহজ নয়। এই সমালোচনা আর সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে তো নয়ই। প্রথমজন ২০০ বলে করলেন ৭২ রান আর দ্বিতীয়জন ১৯৭ বলে ৫৩। কেন সহজ নয় ভেঙে বলি। এক সেশন পুরো কাটিয়ে দেবার পরে ২য় সেশনেই হয়তো দুজনেই আউট হয়ে যেতে পারতেন। আর তাতে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস পরাজয় ঘটতে পারত। তখন, সবাই হা-রে-রে-রে করে উঠত, “একি! এমন রক্ষণাত্মক খেলাটাই অস্ট্রেলিয়াকে ডুবিয়ে ছাড়লো…”

আজ চারদিকে ধন্যি ধন্যি পড়ে যাচ্ছে ম্যাচটা দুজন মিলে বাঁচাতে পেরেছেন বলেই। বাঁচাতে না পারলে আজ যেই স্বল্প স্ট্রাইকরেটকে টেস্ট মেজাজ বলে চুমু খাচ্ছে মানুষ, সেই স্ট্রাইকরেটের দিকে তাকিয়েই বলতো, ” দেখুন কান্ড! এভাবে খেললে তো ইনিংস হার আসবেই…. “

বিদেশি নায়কের কথা বাদ, নিজেদের হিরোর গল্প বলি। মানুষ মুশফিককে টিকে থাকার জন্যে ক্রেডিট দিক আর মোসাদ্দেককে পরে নেমে দুটো চার মেরে চাপ কমানোর জন্যে ক্রেডিট দিক, তামিমকে ছয় মারার চেষ্টা করার জন্যে কেউ তীর ছুঁড়তে ভুলছে না। তবে একটা সহজ ব্যাপার হলো, আজ হ্যান্ডসকম্বের মত গতকাল সাহসী পদক্ষেপটা তামিম ইকবালও নিয়েছেন। তবে বিপরীতভাবে।

হ্যান্ডসকম্ব যেমন জানতেন, এই শামুক ব্যাটিং নিয়ে সমালোচনা হতে পারে, তেমনি তামিমও জানতেন লাঞ্চের পরে এসে তার প্লাস এপ্রোচ উনি আউট হয়ে গেলে অতি আক্রমণাত্মক বা হঠকারীর ট্যাগ পেয়ে যেতে পারে। তবুও মুদ্রার অন্যপাশটাও তিনি চ্যাম্পিয়ন খেলোয়াড়ের মতই দেখেছেন। তিনি দেখেছেন, লাঞ্চের পরে দ্রুত রানটাকে না বাড়াতে পারলে বিকালের সেশনে রান তোলা আরো দুরূহ ছাড়া অন্য কিছু হবে না। এই দেখাটুকুই মূলত গতানুগতিকতার বাইরে গিয়ে খেলতে প্রেরণা দিয়েছে আর উৎসাহ দিয়েছে।

গতকালের তামিম আর আজকের হ্যান্ডসকম্ব- ফিফথ ডে এপ্রোচে নিজেদের সিদ্ধান্তটুকু সাহসীভাবে নিতে পেরেই নিজেদের দলকে প্রত্যাশিত রেজাল্ট এনে দিয়েছেন। এটাই সবসময় হয়ে উঠে না। আর না হয়ে উঠলে কি সমালোচনা বন্ধ থাকবে?? না! কখনোই না! ভুল হবে, ভুলের পানিশমেন্টের জন্যে পরিবেশ থেকে ফোর্স থাকবে, এটাই জগতের নিয়ম।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

eleven + two =