বিজয়ীদের জয়

আর্সেনালের ২০১৪-১৫ সিজনটি শুরু হয়েছিল ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে, সিজন শেষও হলো ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে। ২০১৪-১৫ সিজনে স্টেডিয়ামের মতো আরেকটি বিষয়ে সাদৃশ্য দেখা যায়, সেটা হলো আর্সেনালের সিজন শুরু হয়েছিল ম্যানসিটিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে কমিউনিটি শিল্ড শিরোপা জয় দিয়ে, শেষ হলো অ্যাস্টন ভিলাকে ৪-০ গোলে হারিয়ে এফএ কাপ শিরোপা জয়ের মাধ্যমে ! গত সিজনে ১১তম এফএ কাপ শিরোপা অর্জন করে আর্সেনাল। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হয়ে গতবারের মতো ফেভারিট হিসেবেই এবার এফএ কাপ ফাইনালে ওঠে তাঁরা। লীগে তৃতীয় স্থানে শেষ করা আর্সেনাল কাপ জয়ের জন্য খেলবেন সেটা স্বাভাবিক ছিল। তবে গতবার ফাইনালে প্রথম ১০ মিনিটে দেখানো হাল সিটির চমকের মতো আরেকটি চমক দেখানোর অঙ্গীকার ছিল অ্যাস্টন ভিলা শিবিরে, বরং তাঁরা সেটা এফএ কাপ জিতেই দেখাবেন বলে মন্তব্য করেন অ্যাস্টন ভিলা মিডফিল্ডার ওয়েস্টউড। কিন্তু কথার মতো কাজ হয়নি মাঠে। খেলার শুরু থেকেই আক্রমণের পর আক্রমণ করে যায় আর্সেনাল। ১৪ মিনিটে আর্সেনাল ডিফেন্ডার কসিয়েলনির দুর্দান্ত হেড ফিরিয়ে দেন ভিলা গোলকিপার গিভেন। এরপর দুটি সুযোগ হাতছাড়া করেন গতবার ফাইনালের জয়সুচক গোলদাতা মিডফিল্ডার অ্যারন রামসে। ক্লাবের নিয়মিত স্ট্রাইকার অলিভিয়ের জিরুকে বেঞ্চে পাঠিয়ে এই ম্যাচে প্রথম একাদশে সুযোগ পান ইঞ্জুরি থেকে ফেরা থিও ওয়ালকট। সুযোগ পান গোল করারও, কিন্তু তাঁর কাছ থেকে নেয়া শট ঠেকিয়ে দেন ডিফেন্ডার রিচার্ডসন। তবে গত ম্যাচে হ্যাট্রিক করা এই ইংলিশ ফরওয়ার্ডকে বেশিক্ষণ দমিয়ে রাখতে পারেনি ভিলা ডিফেন্ডাররা। আলেক্সিজের দেয়া হেড পাস থেকে বাম পায়ের জোরালো শটে খেলার ৪০ মিনিটে আর্সেনালকে এগিয়ে দেন ওয়ালকট।

293503B200000578-3103833-image-m-143_1433010864882

মধ্যবিরতি পর্যন্ত ১-০ থাকে খেলার ফলাফল। আত্মবিশ্বাসে ভরা আর্সেনাল যেন দ্বিতীয়ার্ধে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। গোলের দেখা পেতেও বেশি সময় লাগেনা তাদের। খেলার ৫০ মিনিটে ডিবক্সের বাইরে থেকে নেয়া অসাধারণ শটে গোল করেন আর্সেনালের এই সিজনের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় আলেক্সিজ সাঞ্চেজ।

2934C3AD00000578-3103833-The_Gunners_striker_jumps_for_joy_in_front_of_the_disappointed_V-m-6_1433068675629

গোলকিপার গিভেনকে যেন বোকা বানিয়ে দেন গোলটি করে। সিজনে এটি ছিল আলেক্সিজের ২৫তম গোল। খেলা তখন অনেকটা আর্সেনালের হাতে, কিন্তু ৬২ মিনিটে একদম মুঠোয় চলে আসে যখন আর্সেনাল ক্যাপ্টেন পার মারটেজেকার কর্নার থেকে গোল করে তাঁর দলকে ৩-০ গোলে এগিয়ে দেন।

2934DD5400000578-3103833-image-a-117_1433008879084

ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামের দর্শকদের হলুদ প্রান্তে শিরোপা জয়ের উৎসব তখনি শুরু হয়ে যায়। তবে খেলার শেষের দিকে কিছুটা বিতর্কেরও সৃষ্টি হয়। অ্যাস্টন ভিলার দুটি পেনাল্টি আবেদন নাকচ করে দেন রেফারি। কিন্তু অপরদিকে ভিলার কফিনে শেষ পেরেকটি গেঁথে দেন সাবস্টিটিউট হিসেবে মাঠে নামা ফরাসী স্ট্রাইকার জিরু। ইঞ্জুরি সময় গোল করে ভিলা শিবিরে জানিয়ে দেন দিনটা আর্সেনালের।

2934FF0F00000578-3103833-image-a-140_1433010667608

খেলা শেষ হয় ৪-০ ব্যবধানে, বাঁশি বাজার সাথে সাথে আনন্দে ফেটে পড়ে আর্সেনাল প্লেয়ার ও দর্শকরা। ১২তম এফএ কাপ জয় করে আর্সেনাল যা ইংলিশ ফুটবল ইতিহাসে সর্বোচ্চ। রেকর্ড আরেকটি করেন আর্সেনাল ম্যানেজার আর্সেন ওয়েঙ্গার। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তিনি প্রথম ম্যানেজার যার দল ৬টি এফএ কাপ (১৯৯৭-৯৮, ২০০১-০২, ২০০২-০৩, ২০০৪-০৫, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫) শিরোপা অর্জন করে। এই রেকর্ড শুধু আছে আরেকজন ম্যানেজারের, ১৮৮৬-১৯২০ সালের মধ্যে অ্যাস্টন ভিলা ম্যানেজার জর্জ রামসে এই কীর্তিসাধন করেন। ম্যাচ শেষে ওয়েম্বলি স্ট্যান্ডে অ্যাস্টন ভিলা ফ্যান প্রিন্স উইলিয়ামসের হাত থেকে এফএ কাপ শিরোপা তুলে নেন মিকেল আর্টেটা এবং পার মারটেজেকার। শিরোপাটির দুই পাশ দিয়ে তখন উড়ছিল আর্সেনালের ‘ইয়েলো রিবোন’।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

nineteen − 2 =