মিলানের ব্যাকআপ প্ল্যান – ফ্যাবিও বোরিনি

ইতালিয়ান স্ট্রাইকার হলেও ফ্যাবিও বোরিনিকে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ভক্তরাই ভালো চিনবেন। কারণ ছাব্বিশ বছরের এই স্ট্রাইকার এই পর্যন্ত ইতালিয়ান ক্লাবগুলোতে যা খেলেছেন, ইংলিশ ক্লাবগুলোতে খেলেছেন তার থেকে ঢের বেশী। চেলসির যুবদল থেকে উত্তীর্ণ এই ইতালিয়ান স্ট্রাইকার চেলসিতে চার ম্যাচ মত খেলেই ধারে যোগ দেন সোয়ানসি সিটিতে, সেখানে প্রতিভার ঝলক দেখানোর পর তাকে কিনে নেয় ইতালিয়ান ক্লাব পারমা। সেখানে যদিও তার ম্যাচ খেলা হয়নি, ইতালিয়ান জায়ান্ট ক্লাব এএস রোমাতে ধারে যোগ দেন তিনি। সেখান থেকেই ১০ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে ইংলিশ পাওয়ারহাউজ লিভারপুলে যোগ দেন তিনি। লিভারপুলে সেরকম কিছুই না করতে বোরিনিকে লিভারপুল থেকে দলে টানে আরেক ইংলিশ ক্লাব স্যান্ডারল্যান্ড। সেখানেও খেলেছেন যে খুব ভালো তাও না। কিন্তু তার খারাপ খেলা বা গোলখরা ভালো ক্লাবের খেলার পথে কখনই বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি, সেটা আবারো প্রমাণিত হল ফ্যাবিও বোরিনির এসি মিলানে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে। স্যান্ডারল্যান্ড থেকে ধারে মিলানে যোগ দিয়েছেন তিনি।

চাইনিজ মালিকানার অধীনে যাওয়ার পর মিলান নিজেদের শক্তিশালী করবার জন্য কোমর বেঁধে দলবদলের বাজারে নেমেছে এবার। দলে এসেছেন ফ্র্যাঙ্ক কেসি, রিকার্ডো রড্রিগেজ, মাতেও মুসাচ্চিও, অ্যান্দ্রে সিলভার মত তারকারা। সবাই-ই এখনকার সময়ের বেশ প্রতিষ্ঠিত নামকরা খেলোয়াড়। কিন্তু এদের পাশাপাশি ফ্যাবিও বোরিনির মিলানে যোগ দেওয়ার ঘটনাটা একটু আশ্চর্যজনকই বটে। কেননা বোরিনি তার ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসি মিলানের মত ক্লাবে খেলার মত যোগ্য নন, স্ট্রাইকার হিসাবে সেরকম গোলশিকারীও নন। বোঝাই যাচ্ছে, মিলানে আসলেও ব্যাকআপ স্ট্রাইকার হিসাবেই আসছেন তিনি। লিগে না খেললেও ইতালিয়ান কাপের খেলাগুলোতে তার অংশগ্রহণ থাকবে, স্কোয়াড প্লেয়ার হিসেবে নিয়ে আসা হয়েছে তাকে। ২০১২ সালে কার্লো অ্যানচেলত্তির মত ম্যানেজার যাকে নতুন ফিলিপ্পো ইনজাঘি বলেছিলেন, তার ক্যারিয়ারের গ্রাফটা তারপর থেকে ইনজাঘির মত উর্ধ্বমুখী হয়নি কখনো।

বোরিনির অতটা গোল না করতে পারার পেছনে কারণ হচ্ছে তিনি বেশ পরিশ্রমী এক স্ট্রাইকার। অতটা গোলশিকারী নন, বরং নিজের স্ট্রাইক পার্টনারের যাতে গোল করতে সুবিধা হয় সেদিকেই তার নজর থাকে। প্রথাগত নাম্বার নাইন তিনি নন, সহকারী স্ট্রাইকার বা পরিশ্রমী এক উইঙ্গারের ভূমিকাটাই বরাদ্দ থাকে তার জন্য। তার দল দুই স্ট্রাইকার নিয়ে খেললে দেখা যায় তিনি প্রতিপক্ষ দলের এক বা দুইজন ডিফেন্ডারকে তাদের পজিশান থেকে সরিয়ে নিয়ে এসে ব্যস্ত রাখছেন, সে সুযোগটা নিচ্ছেন বোরিনির স্ট্রাইক পার্টনার – স্যান্ডারল্যান্ডে যিনি ছিলেন জার্মেইন ডেফো – গত দুই মৌসুমে স্যান্ডারল্যান্ডের হয়ে প্রচুর গোল করেছেন ডেফো, আর এর পেছনে বোরিনির ভূমিকাও অনেক। প্রায়ই দেখা যেত জার্মেইন ডেফোকে একেবারে সামনে দিয়ে বোরিনি নিজে হয়ে যাচ্ছেন লেফট উইঙ্গার, কিংবা কখনো কখনো রাইট উইঙ্গার। এখন প্রায়ই বোরিনিকে দেখা যায় এসব করতে গিয়ে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের বিরক্তের কারণ হচ্ছেন, ওঁত পেতে থাকছেন প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডাররা কখন একটু ভুল করেন যাতে বোরিনি নিজের দলের হয়ে একটা ফ্রি কিক কিংবা একটা কর্নার আদায় করে নিতে পারেন। স্যান্ডারল্যান্ডের মত একটা দল, স্যাম অ্যালার্ডাইসের মত ম্যানেজারের অধীনে যারা নিজেদের চূড়ান্ত রক্ষণাত্মক এক দল হিসেবে ইংলিশ লিগে প্রতিষ্ঠিত করেছিল, বোরিনি ছিলেন সেই সিস্টেমের উইঙ্গার যার উপর রক্ষণের দায়িত্ব কিছু কিছু সময়ে আক্রমণের চেয়েও বেশী ছিল। যে কারণে বোরিনির গোল করার হার একেবারেই বেশী না। তার উপর স্যান্ডারল্যান্ডের ফুলব্যাকরা – ডিঅ্যান্দ্রে ইয়েতলিন আর প্যাট্রিক ভ্যান অ্যানগল্ট, দুজনই ছিলেন তাদের ডিফেন্সের সবচেয়ে দুর্বল অংশ, তাই তাদেরকে রক্ষা করার জন্য হলেও প্রায়ই বোরিনিকে নিচে নেমে যেতে হত। তাই দুই স্ট্রাইকারের একজন হিসেবে একেবারে উপরে খেলার ইচ্ছাটা সবসময়ে থাকলেও সম্ভব হয়নি কখনো বোরিনির জন্য।

এসি মিলানেও তার ভূমিকাটা যে বিশেষ বদলাবে সেটা মনে হচ্ছে না। অ্যান্দ্রে সিলভা, জিয়ানলুকা লাপাদুলা কিংবা কার্লোস বাক্কার মত স্ট্রাইকারদের আড়ালেই কাটাতে হবে সময় তাকে, যদি বিশেষ কোন চমৎকার না ঘটে!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

3 × 3 =