সাউদি আর ম্যাককালামের যুগলবন্দীতে উড়ে গেলো ইংলিশরা

একজন বল হাতে বাতাসে সুইঙ্গের কারুকাজে পরাস্ত করেছেন ইংলিশদের, তার অনুপম প্রদর্শনীর কোন জবাবই দিতে পারেনি ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা। আরেকজন ব্যাট হাতে সংহারমূর্তি ধারণ করেছেন সাউদির সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়েই মনেহয়। ১৮ বলে ৫০ করার পথে ফিনকে পর পর চারটি ছক্কার স্বাদ দিয়েছেন,২ ওভারে ৪৯ রান তুলে তাকে হ্যাট্রিক করার আনন্দ ভুলিয়ে বাস্তবতার রুঢ় জমিন দেখিয়ে দিয়েছেন তাকে। সব মিলিয়ে ১২৩ রানে সব উইকেট হারিয়ে আর ২২৬ বল বাকি থাকতে হেরে মরগান বাহিনী এখন খাদের কিনারায়। আর কিউইরা উড়ছে জয়ের হ্যাট্রিক করে।

???????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????
দিনের শুরুটা সব সময় সঠিক পূর্বাভাস দেয় না। সাউদির প্রথম স্পেলে গিয়েছিলো মাত্র দুটি উইকেট, মইন আলির হাতে বেধড়ক পিটুনিও খেয়েছিলেন এক ওভারে- পরপর তিনটি চার। ইংল্যান্ড ৩ উইকেটে ১০৪ রান থেকে ১২৩ এ সব উইকেট হারিয়ে ফেললো তারই সুইঙ্গের বিষে। ভেট্টরির বলে অধিনায়ক মরগান যখন অপরিণামদর্শী শট খেলে মিলানের অসাধারণ ক্যাচে ফিরতি পথ দেখলেন, তখন থেকেই মূলত বিপর্যয়ের শুরু। তার আগে রুট আর মরগান ভালোই সামলাচ্ছিলেন কিউইদের। সাউদির ইয়রকারে স্ট্যাম্প ছত্রখান জেমস টেলরের। কি নিষ্ঠুর বাস্তবতা! আগের ম্যাচেই দলের মান সম্মান বাঁচানো নায়ক থেকে আজ হয়ে গেলেন শূন্য রানে বিদায় নেওয়া ভিলেন! এরপর শুধু যাওয়া আসার খেলা। বোল্ড, সুইঙ্গে বিভ্রান্ত হয়ে স্লিপে ক্যাচ, উড়িয়ে মারতে গিয়ে মধ্যমাঠে ধরা- সবই হয়েছে আর রুট দেখেছেন অসহায় হয়ে। তিনি যে নন স্ট্রাইকার ছিলেন! অবশেষে তিনিও মিলানের গতিতে বিভ্রান্ত হয়ে আউট হলেন শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে। স্কোরবোর্ড তখন অদ্ভুত এক সত্য দেখাচ্ছে- ইংল্যান্ড ১২৩ অল আউট! একটু খেয়াল করুন মজাটা, ১২৩, আসলে বলছে ইংলিশদের সুইং শিল্পের বিরুদ্ধে ব্যাটিঙের ১২৩ শিখতে হবে! ঠোঁটকাটা বয়কট বলেছেন ভালোই, মিডিয়াম পেসারের ইয়রকারে বোল্ড হয়!

England v New Zealand - 2015 ICC Cricket World Cup
ব্যাট হাতে দুর্দশার কাহিনী ভুলতে দিলেন না ইংলিশদের ম্যাককালাম। শুরু করলেন প্রলয়নাচন। সব বোলারের উপর দিয়েই গেছে কমবেশি, কিন্তু সবথেকে বেশি দুঃস্বপ্ন দেখবেন মনে হয় ফিন। তার দুই ওভারেই ৫০ থেকে এক রান কম তুলেছেন ম্যাককালাম, উপহার দিয়েছেন ছক্কার ফোরট্রিক! ১৮ বলে ৫০ করে বিশ্বকাপের দ্রুততম অর্ধশতক এর রেকর্ড করেছেন, উইকেটের চারিদিকেই ছুটিয়েছেন রানের বন্যা। এতে ইংলিশ বোলারদেরও দায় আছে বটে। অসিদের বিপক্ষে ইয়রকার করার বিদ্যা বিস্মৃত হবার ধারাবাহিকতা যে এই ম্যাচেও টেনে এনেছিলেন তারা। কোমর সমান উচ্চতার বলকে অবলীলায় সীমানার বাইরে আছড়ে ফেলে সেদিনের ম্যাক্সওয়েলের মতো এদিন ঘরের ছেলে ম্যাককালাম সুযোগ দিয়েছেন ঘরের মানুষকে আনন্দে কোমর দোলানোর। তা দর্শকরা এতই মজে গিয়েছিলো যে, ৯ ওভারের পর দুপুরের খাবারের বিরতির ঘোষণা দিতেই হতাশার কোরাস বের হল তাদের মুখ থেকে।

???????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????
বিরতির পর ১২.২ ওভারেই ঝামেলা শেষ করেছে কিউইরা। ২২৬ বল বাকি রেখে এ হার ইংলিশদের সবথেকে বড় হার, ইতিহাসের পাতা এর সাক্ষী দেয়। ইংলিশ মিডিয়া স্বভাবত শূলে চড়াবে মরগানকে। শুধু মরগান না, আসলে এই দলের পিছনের কর্তাদের সবাইকেই ঐ বিখ্যাত মিডিয়া সমালোচনার তীরে বিদ্ধ করলে অবাক হবার কিছু থাকবেনা। মাঠে নেমে যেন তাদের পরিকল্পনা থেকে পরই উড়ে গিয়ে শুধু কল্পনা ছিল। তা না হলে, কিউই সেনাপতির মতো একজন বিধ্বংসী ব্যাটসম্যানের বিপক্ষে লেংথ বল করা হয় না। সব মিলিয়ে দিশেহারা ইংল্যান্ড দল। আর নিউজিল্যান্ড দল আকাশে উড়ছে পাখা মেলে। কোটি টাকার প্রশ্ন হল- রুখবে তাদের কারা??

 

ছবি – ক্রিকইনফো

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

3 × 4 =