দ্য কিউরিয়াস কেইস অফ ইম্যানুয়েল আদেবায়োর!

hi-res-2374396044754fa1ade36b22d8725b6f_crop_north

সমস্যাজর্জর স্ট্রাইকার, “ব্যাডবয়” হিসেবে টোগোলিজ স্ট্রাইকার ইমানুয়েল আদেবায়োরের ‘সুনাম’ অনেক। ফ্রান্সের মেতজ-মোনাকো ঘুরে এসে আর্সেনালেই প্রথম সুপারস্টারডমের দেখা পাওয়া আদেবায়োর অনেকটা বিতর্কিতভাবেই ২৫ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে যোগ দেন শত্রুশিবির ম্যানচেস্টার সিটিতে।

আদেবায়োর যখন মেতজে
আদেবায়োর যখন মেতজে

সেখানে আর্সেনালের বিপক্ষে ম্যাচে গোল করে, গোল করে আর্সেনাল সমর্থকদের তাতিয়ে সেই গোল তাদের সামনেই উদযাপন করা – দোষ খুঁজলে আদেবায়োরের পাওয়া যাবে অনেক কিছুই। তাই বলে তাঁর প্রতিভার প্রতি সংশয় ছিল না কারোরই। ২০০৮ সালে আফ্রিকান প্লেয়ার অফ দ্য ইয়ার হওয়া এখনও নিজের ফর্ম, অ্যাটিচুড, জীবন নিয়ে রয়েছেন অনেক ঝামেলায়। বর্তমান ক্লাব টটেনহ্যামের মালিক ড্যানিয়েল লেভি বলতে গেলে ঘোষণাই দিয়ে গেছেন সপ্তাহে ১ লাখ পাউন্ড কামানো আদেবায়োরকে ক্লাব থেকে বের করে দেবেন সকল পাওনা – ২.৫ মিলিয়ন পাউন্ড পুরোটা মিটিয়ে দিয়ে। গত নভেম্বর থেকে টটেনহ্যামের হয়ে একটা ম্যাচও শুরু না করা আদেবায়োর এই বেঞ্চে বসে বসেই কামিয়েছেন ৩.৪ মিলিয়নের মত! এই মৌসুমে গোল তাঁর মাত্র দুটি।

মোনাকোতে আদেবায়োর
মোনাকোতে আদেবায়োর

খালি চোখে বলা যেতেই পারে যে দোষ সব আদেবায়োরেরই। কিন্তু কালকে এই টোগোলিজ স্ট্রাইকার ফেইসবুকে যা পোস্ট দিলেন, তারপর ‘দ্য কিউরিয়াস কেইস অফ ইম্যানুয়েল আদেবায়োর’ সম্বন্ধে ভাবতে হচ্ছে অনেক ভিন্নভাবে!

আদেবায়োরের সুপারস্টার হয়ে ওঠা আর্সেনালেই
আদেবায়োরের সুপারস্টার হয়ে ওঠা আর্সেনালেই

বিতর্কিত এই ফেইসবুক পোস্টে আদেবায়োর মূলত তাঁর পরিবার ও পরিবার সংক্রান্ত সকল ঝামেলা নিয়েই হাজির হয়েছেন তাঁর অনলাইন বন্ধু-ফলোয়ারদের সামনে। নিজের পরিবারের জন্য এযাবতকাল কি কি করেছেন, তাঁর পাশাপাশি তাঁর পরিবার তাঁর কি কি ক্ষতি করেছে, তারই এক খতিয়ান তুলে ধরেছেন তিনি ফেইসবুকে!

গত নভেম্বরে আদেবায়োরের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে তিনি তাঁর মা’কে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করার জন্য মূলত তাঁর এই ফেইসবুক পোস্ট।

মায়ের সাথে আদেবায়োর
মায়ের সাথে আদেবায়োর

পোস্টে তিনি বলেন, ১৭ বছর বয়সে প্রথম বেতন পাওয়ার পর তিনি তাঁর পরিবারের জন্য বাড়ি বানান, যাতে তারা নিরাপদে থাকে। তাঁর মা’কে তিনি লন্ডনে নিয়ে এসেছিলেন চিকিৎসার জন্য, তিনি নাইজেরিয়ান ফেইথ লিডার ডঃ টিবি জোশুয়ার কাছেও তাঁর মা’কে পাঠান এক সপ্তাহের চিকিৎসার জন্য, কিন্তু পরে জানতে পারেন দুইদিনের মধ্যেই তাঁর মা চিকিৎসা বাদ দিয়ে টাকা নিয়ে চলে গেছেন।

আদেবায়োরের মেয়ে হবার সময়, আদেবায়োর তাঁর মা’কে ফোন করেন সুসংবাদ জানানোর জন্য, কিন্তু তাঁর মা কোন কথা না শুনেই ফোন কেটে দেন।

আদেবায়োর আরও দাবি করেন, বিভিন্ন ধরনের ব্যবসার জন্য তিনি তাঁর মাকে অনেক টাকা দেন, তাদেরকে এই অনুমতিও দেন যাতে তারা আদেবায়োরের নাম ব্যবহার করতে পারেন পণ্যের উপরে যাতে বিক্রিবাট্টা বেশি হয়। কিন্তু লাভ হয়নি।

পোস্টে তিনি বলেন, ঘানার ইস্ট ল্যাগোনে ১.২ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে ১৫ কক্ষের একটা বাড়ি বানান তিনি, যেখানে তিনি তাঁর বড় বোন ইয়াবো আদেবায়োর, ভাই ড্যানিয়েল আদেবায়োরকে থাকতে দেন। কিছুদিন পর আদেবায়োর ছুটিতে ঘানায় গেলে সেই বাড়িতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত দেখেন, গিয়ে দেখেন তাঁর বোন সেই বাড়িতে রীতিমত ভাড়ার ব্যবসা শুরু করে দিয়েছেন! ভাই ড্যানিয়েলকে বের করে দিয়ে বাড়ির একচ্ছত্র মালকিন হয়ে উঠেছেন। আর এসব তিনি করেছেন আদেবায়োরকে না জানিয়েই!

এ বিষয়ে বোন ও মায়ের কাছে জানতে চাইলে আদেবায়োরের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি শুধুই গালিগালাজ শুনেছেন মা ও বোনের কাছে, কোন সন্তোষজনক জবাব পাননি।

ভাই কোলা আদেবায়োরের ব্যবসায় জন্যেও ইম্যানুয়েল গুণেছেন কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা। যে ব্যবসার কোন অস্তিত্বই নেই। কোলা’র সন্তানাদির জন্য খরচও গেছে ইম্যানুয়েলের পকেট থেকে। বড়ভাই পিটার যখন মারা যান, কোলা যাতে তাঁর শেষকৃত্যে যোগ দিতে পারেন এইজন্য অনেক টাকা দেন তাকে আদেবায়োর, কিন্তু কোলা সেই টাকা উড়িয়েছেন শুধু, শেষকৃত্যে যানই নি!

টটেনহ্যামের সাদাহাতি
টটেনহ্যামের সাদাহাতি

ইম্যানুয়েল যখন মোনাকোতে ছিলেন তখন তিনি ভেবেছিলেন তাঁর পরিবারটি ফুটবল পরিবার হলে মন্দ হয়না, যার জন্য ছোটভাই রতিমি আদেবায়োরকে ভর্তি করিয়ে দেন ফ্রান্স ফুটবলের এক যুব প্রকল্পে। কিছুদিনের মধ্যেই ঐ প্রকল্পের ২৭ ফুটবলারের ২১ জনেরই মোবাইল ফোন চুরি করেন রতিমি!

ভাই পিটারের মারা যাওয়ার সময় ইম্যানুয়েল টানা দুই ঘন্টা এক ড্রাইভ করে করে টোগোতে যান। কিন্তু তাঁর মা-বোনরা তাকে তাঁর অসুস্থ ভাইয়ের সাথে দেখা করতে দেন নি, বরং উলটো তাঁর মা টাকা দাবি করে বলেন তিনি সবকিছু ঠিক করে দেবেন!

২০০৫ সালে পরিবারের সকল সমস্যা সমাধান করার জন্য ইম্যানুয়েল একটা মিটিং এর ব্যবস্থা করেন, যেখানে তাঁর পরিবারের সদস্যরা দাবি করে বসেন প্রত্যেকের জন্য একটা আলাদা আলাদা বাড়ি ও মাসিক বেতন লাগবে, দিতে হবে আদেবায়োরকেই!

যার মাথায় এত চিন্তা এত সমস্যা ঘুরছে, ফুটবলে মন দেওয়াটা তাঁর জন্য ত অনেক কঠিনই, তাই নয় কি?

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

3 × 2 =