শেষ যেবার ইকুয়েডরের মাটিতে জিতেছিল আর্জেন্টাইনরা

বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে আর্জেন্টিনার শেষ ম্যাচ ইকুয়েডরের মাঠেই,  ইকুয়েডরের বিপক্ষে, আহামীকাল ভোরে। এ ম্যাচ না জিতলে মেসিদের ছাড়াই সামনের বছর পর্দা উঠবে রাশিয়া বিশ্বকাপের। আগামীকাল ভোরে বিশ্বের কোটি কোটি আর্জেন্টিনা সমর্থকদের চোখ টিভি স্ক্রিনে আঠার মত লেগে থাকবে, এ কথা বলাই যায় – ঘুমের বালাই নেই। স্মরণকালের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ কনমেবল অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব-নাটকের শেষ অংক রচিত হবে কাল ভোরে।  সদ্য চিলির বিপক্ষে বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ হওয়া ইকুয়েডর শেষ ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে মরণ-কামড় দেবে না সেটার গ্যারান্টি কি?  সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে তিন হাজার মিটার ওপরের এ মাঠে খেলতে অস্বস্তিতে ভোগে সবাই। নিজেদের শেষ ম্যাচের জন্য এর চেয়ে কঠিন ভেন্যু পেতেন না মেসিরা। তবে এর উল্টো পিঠেও একটা সুসংবাদ পাচ্ছে আর্জেন্টিনা। তিনে থাকা চিলির শেষ ম্যাচ ব্রাজিলের বিপক্ষে, সেটাও সাও পাওলোতে। চার ও পাঁচে থাকা কলম্বিয়া ও পেরু লড়বে পরস্পরের বিপক্ষে। ফলে আর্জেন্টিনার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী যারা, তাদের সবার পয়েন্ট হারানোর ভালো সম্ভাবনা আছে। আর্জেন্টিনা যদি নিজেদের ম্যাচে জেতে এবং কলম্বিয়া-পেরু ম্যাচটি ড্র হলেই বিশ্বকাপ নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকবে না মেসি-ডি মারিয়াদের। আর চিলি ও কলম্বিয়া যদি নিজেদের ম্যাচ জিতে যায়, তবে ইকুয়েডরের মাঠে জয় পেলেও প্লে অফ খেলতে হবে আর্জেন্টিনাকে। এখন যা অবস্থা, তাতে আর্জেন্টিনা পাঁচে শেষ করে প্লে অফ খেলতে পারলেই হয়তোবা বেঁচে যায়। কিন্তু আর্জেন্টিনার ভাগ্য এখন নিজেদের হাতে নেই। সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তাটা এখানেই। এদিক দিয়ে দৌড়ে এত দিন অনেক পিছিয়ে থাকা প্যারাগুয়ে হঠাৎ করেই দেখতে শুরু করেছে বিশ্বকাপের স্বপ্ন। শেষ ম্যাচে কনমেবল অঞ্চলের সবচেয়ে দুর্বল দল ভেনেজুয়েলাকে পাচ্ছে তারা। নিজেদের মাঠে সে ম্যাচ জিতলে প্রথম পাঁচে চলে আসতেই পারে দেশটি। এটাও আর্জেন্টিনার একটা চিন্তার কারণ। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের পয়েন্ট টেবিল এখন এতটাই জটিল, ম্যাচ বাকি আছে মাত্র একটি। অথচ এখন পর্যন্ত মূল পর্ব নিশ্চিত করেছে শুধু ব্রাজিল।

 সব কথার মূল কথা হল শেষ ম্যাচে যেভাবেই হোক ইকুয়েডরের মাঠে গিয়ে মেসিদের জিততেই হবে, নাহয় বিশ্বকাপ স্বপ্নের সমাধি হবে তাদের। নিজেরা না জিতলে পেরু, কলম্বিয়া, চিলি, প্যারাগুইয়ে জিতলো নাকি জিতলো না সেসব অর্থহীন হয়ে পড়বে। কিন্তু বাছাইপর্বের গত ৪ ম্যাচে মোটে একটা গোল করা (তাও আত্মঘাতী) আর্জেন্টিনা ইকুয়েডরের মাঠে গিয়ে এই ফর্ম নিয়ে আদৌ জিততে পারবে কি না, প্রশ্ন সেটাই। ১৯৪১ সাল থেকে এ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সব মিলিয়ে মোট ৩৩টা ম্যাচ খেলেছে ইকুয়েডর। জিতেছে পাঁচটিতে, ড্র করেছে ১০টা ম্যাচ, বাকী ১৮ ম্যাচে জয়ী হয়েছিল আর্জেন্টিনা। এদের মধ্যে ১৩টা ম্যাচ হয়েছিল ইকুয়েডরের মাঠে। চিন্তার বিষয় হল এই ১৩ ম্যাচের মধ্যে মাত্র ৩টিতেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পেরেছে আর্জেন্টিনা। সর্বশেষ ২০০১ সালে হার্নান ক্রেসপো আর হুয়ান সেবাস্তিয়ান ভেরনের গোলে ২-০ গোলে ইকুয়েডরের মাঠ থেকে জয় নিয়ে ফিরেছিল আলবিসেলেস্তিরা।
কি হয়েছিল সেবার? যেবার ইকুয়েডরের মাঠ থেকে সর্বশেষ জয় নিয়ে ফিরেছিল আর্জেন্টাইনরা? একটু দেখে নেওয়া যাক সে ম্যাচের কথা!
ম্যাচের মূল একাদশে খেলেছিলেন হাভিয়ের জানেত্তি, হুয়ান পাবলো সোরিন, ওয়াল্টার স্যামুয়েল, রবার্তো আয়ালা, হুয়ান সেবাস্তিয়ান ভেরন, পাবলো আইমার, ডিয়েগো সিমিওনে, হার্নান ক্রেসপোর মত তারকারা। ১৯ মিনিটে প্রায় মাঝমাঠ থেকে দূরপাল্লার এক শটে গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন তৎকালীন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে খেলা মিডফিল্ডার হুয়ান সেবাস্তিয়ান ভেরন। ৩৪ মিনিটে হুয়ান পাবলো সোরিনের হেড গোললাইন থেকে হাত দিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন ইকুয়েডরের ডিফেন্ডার ইভান হুর্তাদো, যে কারণে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। সে পেনাল্টিতে গোল করে আর্জেন্টিনাকে ২-০ গোলে এগিয়ে দেন তখন লাজিওতে খেলা, বিশ্বের সবচেয়ে দামী খেলোয়াড়, সুপারস্টার স্ট্রাইকার হার্নান ক্রেসপো। এই দুই গোলই যথেষ্ট ছিল ইকুয়েডরের মাটি থেকে জয় নিয়ে আর্জেন্টিনায় ফেরার জন্য। কিন্তু তারপরের ১৬ বছরে আর একবারও ইকুয়েডরের মাটিতে ইকুয়েডরকে হারাতে পারেনি আলবিসেলেস্তিরা।
মেসি, ডিবালারা পারবেন তো এই গেরো কাটাতে?

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

18 − 9 =