যেখানে ধুঁকছে দুঙ্গার ব্রাজিল (২)

কোচ হিসেবে দুঙ্গার পারফর্মেন্স কেমন হলো আর সে এই পদের যোগ্য কিনা এটা নিয়ে
শুরুতেই প্রেক্ষাপটটা ভালো করে বুঝে নেওয়া যাক।

দুঙ্গা যখন দায়িত্ব নেয় তখন ব্রাজিল ঘরের মাঠে দুই ম্যাচে দশ গোল খেয়ে যা তা অবস্থা,তাই সবাই ভেবেছিলো যে ঘুরে দাঁড়াতে কিছুটা সময় লাগবে।

কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে দুঙ্গা তার দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম ম্যাচ থেকেই সাফল্যের দেখা পেয়ে এসেছে!!!

কলম্বিয়া আর ইকুয়েডরকে হারানোর পর যখন আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী দলের সাথে খেলা পড়লো তখন সবাই নিশ্চিত ছিল যে এবার অন্তত দুঙ্গাকে থামতে হবে। কিন্তু সে ম্যাচেও অসাধারণ ট্যাকটিস খাটিয়ে দলকে ২-০ গোলের জয় এনে দিলো দুঙ্গা!!!আর এরপর থেকেই ফ্যানদের চাহিদা আকাশছোঁয়া হয়ে গেলো আর দুঙ্গা একটা স্ট্যাবল দল গড়ে সেই চাহিদা ভালোভাবেই মিটালো!

এই কোপাতে আসার আগেও তার দল টানা ১০ ম্যাচ জিতে এসেছিলো কিন্তু সমস্যা শুরু হলো কোপা শুরু হওয়ার আগেই যেটা আমি আমার প্রথম পোস্টেই বলেছিলাম। পাঁচজন নিয়মিত প্লেয়ার হারানোর পর স্বয়ং জার্মানির মত দলকেও ভুগতে হবে। আর সেই পাঁচজনের লিস্টে যদি নেইমার নামক প্লেয়ার থাকে তাহলে সেই ভোগান্তির পরিমাণ বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে যায়। তবুও দুঙ্গার দল ভেনিজুয়েলাকে হারিয়ে পরের রাউন্ডে গিয়েছিলো আর সেখানে প্যরাগুয়ের সাথে ১-০ তে এগিয়েও ছিল। কিন্তু সিলভার মতন ডিফেন্ডার যদি পেনাল্টি বক্সে অইরকম বাচ্চাসুলভ হ্যান্ডবল করে তবে আপনারাই বলুন তাতে দুঙ্গার কি করার থাকবে ???

আর সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে টুর্নামেন্ট জিততে হলে ভাগ্যের সহযোগিতা দরকার আছে।

উদাহরণসলুভ বলা যায় কোপা আমেরিকা ২০০৭ এর সেমিফাইনালের কথা,সেদিন ব্রাজিলের বিরুদ্ধে উরুগুয়ের ফোরলান পেনাল্টি কিক থেকে গোল করলেই টাইব্রেকে ব্রাজিলকে টপকে ফাইনালে চলে যেতো উরুগুয়ে। কিন্তু ভাগ্য সেদিন ব্রাজিলের পক্ষে ছিল বলেই ফোরলানের শট বারে লাগে আর ব্রাজিলও ফাইনালে চলে যায় আর শিরোপাও জয় করে। আর,এইবারের ভাগ্যের নমুনা তো দেখলেনই, কিভাবে আমরা নিজেদের লীড বিসর্জন দিলাম ।

তাই কোচকে দোষ দেওয়ার আগে দেখুন তাকে কোন অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, তা দেখুন। পাঁচজন নিয়মিত প্লেয়ার হারানোর পরে কোচের কাছ থেকে ভালো ফলাফল আশা করা বোকামি আর ভালো সংবাদ হচ্ছে সিবিএফ নিজেও এই ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছে। তাই তারা কোচ হিসেবে দুঙ্গাকেই রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যারা নতুন কোচ চাই বলে লাফাচ্ছেন তারা বলুন তো নতুন কোচ এলে তাকে আবার এক বছর পিছিয়ে যেতে হবে কি না? কারণ সেও আবার নতুনভাবে শুরু করবে, তারচেয়ে দুঙ্গাকে একটু সময় দিন দেখুন কি হয়।

আমি আগেও বলেছি আবার রিপিট করছি “as a coach Dunga is one of the best technician of Brazil’s history.” “one of the” বলছি কারণ দুঙ্গার কোচিং এ এখনো ব্রাজিল বিশ্বকাপ জিতেনি,বিশ্বকাপ জিতলে তাকেই বেস্ট টেকনিশিয়ান বলতাম। দুঙ্গা তার সেরা একাদশ হাতে পাওয়ার পর ব্যর্থ হলে তারপর না হয় দুঙ্গার বদনাম করবেন। মনে রাখবেন সেরা একাদশ নিয়ে দুঙ্গার সাফল্যের হার এখনো শতভাগ। আর,সেরা একাদশ না পাওয়ার কারণেই কোয়ার্টার ফাইনালে কিছু ট্যাকটিকাল মিসটেক হয়েছে তাই সেটা নিয়ে অযথা বাড়াবাড়ি করবেন না। সামনে বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব,এখন দুঙ্গার মূল ফোকাস ওইটাই হবে,আর যারা যারা মনে করেন যে দুঙ্গার কারণেই ব্রাজিলের জোগো বনিতো হারিয়ে গেছে তাদের জন্যই আমার এই ধারাবাহিকের পরবর্তী এপিসোড লেখা হবে। সেখানে অ্যানালাইসিস করা হবে সোনালী যুগের ব্রাজিল দল বনাম আজকের ব্রাজিল দল!! আশা করি সেখানেও আপনাদের পাশে পাবো।
smile emoticon

গ্রান্দে ব্রাজিল

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

eight + 3 =