দুঙ্গার কাছে খোলা চিঠি

কার্লোস দুঙ্গার উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি,
যে চিঠি দুঙ্গার হাতে পড়ার সম্ভাবনা ০% এর চাইতেও কম)

দুঙ্গা,
আপনাকে ২য় বার নিয়োগ দেবার সময় দুনিয়ার যেই অল্প কয়েকজন লোক আপনাকে সমর্থন দিয়েছিলো, তার মধ্যে আমি একজন । কারণ ছিলো ৩টা ।

প্রথমত, আপনি জয়ের মানসিকতা নিয়ে খেলেন এবং হারতে ঘৃণা করেন । দলের সেই জার্মানি বিপর্যয়ের পরে ফ্রেশ স্টার্টের জন্য এমন কাউকে বড্ড দরকার ছিলো ।
আর দ্বিতীয়ত, আপনি আপনার খেলোয়াড়ি জীবনে নন ফেবারিট ব্রাজিলকে বিশ্বকাপের স্বাদ দিয়েছেন অধিনায়ক হিসেবে। সে হিসেবে আপনিই আমাদের আরেকটা নন ফেবারিট জেনারেশনকে বিশ্বকাপের স্বাদ এনে দেওয়ার জন্যে যোগ্য নেতৃত্ব ছিলেন বলে বিশ্বাস করি ।
আর সবশেষে, আপনি পোড় খাওয়া লোক হওয়াতে আপনারই জানার কথা দলগুলো আসলে কেন বড় আসরে ফেইল করে । সেগুলোর উর্ধ্বে এসে আপনারই দলকে সবচাইতে ভালো লিড করতে পারার কথা ।
তারপরে আস্তে আস্তে আপনার বিপক্ষের লোক বাড়তে থাকলো । থিয়াগো সিলভাকে বাদ দেওয়া থেকে শুরু করে এলিয়াসকে ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হবার পরেও দলে পিক করা- একের পর এক ডিসিশন নেবার পরেও অনেক সেন্সিবল লোক এগুলোর সমালোচনা কমই করতে পেরেছে … কারণ প্রত্যেকটা কোচের কাজের নিজস্ব ধরন আছে । নিজস্ব পছন্দ আছে । খুশি না হতে পারলেও নীরবে আমাদের দলকে সাপোর্ট দেওয়া ছাড়া কিছুই করার ছিলো না ।
তবে গত সপ্তাহের আগের সপ্তাহে আপনার একটা বিবৃতি দেখলাম বেশ ট্রাস্টেড সোর্স থেকে । আপনি বলেছেন , ” ব্রাজিলের খেলোয়াড়েরা এখন আর ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ের খেলোয়াড় নেই । আমাদের দলের অনেকেই ইউরোপের ক্লাবগুলোর বেঞ্চার আর সেকেন্ড টীমের খেলোয়াড় … ব্রাজিল আগের মত ফেবারিট নেই … ”
নেইমার, থিয়াগো সিলভা, দ্যানিলো, উইলিয়ান, গুস্তাভো, লুইজ, আল্ভেজ , মার্সেলো , ফেলিপে লুইস , অস্কার – এরা স্টার্টার নাকি বেঞ্চার সে যুক্তিতে আমার যাবার ইচ্ছে নাই । তবে দলের সমর্থক হিসেবে বলি, চিলি ম্যাচের পরে আপনার এই ক্যালিবারের মন্তব্য কি খেলোয়াড়দের মনোজগতে খুব ভালো প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন ?
২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে যখন সবাই গরমের কারণে ইউরোপের দলগুলোকে হিসেবের বাইরে নিয়ে নিচ্ছিলো , তখনই জার্মানি আর নেদারল্যান্ডস এই পর্যন্ত আসতে পেরেছে শুধু নিজেদের উপরে বিশ্বাস ছিলো বলেই । ২০০৬ এর বিশ্বকাপে ইতালির কোচ হিসেবে মার্সেলো লিপ্পির জায়গার আপনি থাকলে কী হত আল্লাহ মালুম ! ২০১৪ এর বিশ্বকাপের আগে যেই আর্জেন্টিনার ডিফেন্স নিয়ে তাদের নিজেদের ফ্যানবেইজ থেকেই হাজারটা কটুক্তি এসেছে , সেই আর্জেন্টিনা ডিফেন্সই বিশ্বকাপের সবচেয়ে ডিসিপ্লিনড ডিফেন্স ইউনিট হিসেবে বিশ্বকাপটা শেষ করলো ।
কোন জাদু করেছিলেন সাবেয়া ?
ট্যাকটিকালি দলকে হেল্প করার বাইরেও আপনার একটা বড় ডিউটি হলো এ বিশ্বাসটা দলের মধ্যে গুঁজে দেওয়া, “তোমরা পারবে…” …
সবচেয়ে খারাপ দিনগুলোতে দলকে আর দলের খেলোয়াড়দের ঢালের মত রক্ষা করলেই দলের প্রত্যেকটা খেলোয়াড় আপনার কথায় দলের প্রয়োজনে নিজেদের সেরাটা বের করে দিতে পারবে । মনে রাখবেন , এ যুগে ন্যাশনাল টীমের উপরে খেলোয়াড়দের জীবন জীবিকা কিছুই নির্ভর করে না । তবুও বিশ্বকাপে হারলে খেলোয়াড়দের ঘাঁটা সবচেয়ে বেশি তীব্র হয় । কারণটা একান্তই আবেগতাড়িত …
আর কিছুই না ।
নিজের স্বার্থে ব্যক্তিগত রোষ কাটিয়ে সবচেয়ে সেরা দলটি বেছে নিয়ে এই বন্ধ্যা জেনারেশনকে মুক্ত করুন।
ইতি,
হাজার মাইল দূরে আপনার চাইতে ফুটবলটা অনেক কম বোঝা একজন ব্রাজিল ভক্ত।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

six − six =