শেষ দিনে চেলসিতে ইংলিশ মিডফিল্ডার ড্যানি ড্রিঙ্কওয়াটার

গত মৌসুমের লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়া সত্বেও এবার দলবদলের বাজারে সেরকম সুবিধা করতে পারেনি চেলসি। পছন্দের খেলোয়াড় হওয়া সত্বেও আন্তোনিও কন্তে দলে আনতে পারেননি রোমেলু লুকাকু, দানিলো, অ্যালেক্স-অক্সলেড চেম্বারলাইন, সেড্রিক সোয়ারেস, অ্যালেক্স সান্দ্রো এসব খেলোয়াড়দের। শেষ দিনে কালকে চেলসিতে আসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এভারটনের ইংলিশ মিডফিল্ডার রস বার্কলিও। তাঁর উপর গত মৌসুমের অনেক খেলোয়াড় ধারে বা পূর্ণ চুক্তিতে দল ছেড়ে চলেও গেছেন। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে পাড়ি জমিয়েছেন মিডফিল্ডার নেমানিয়া মাতিচ, উইঙ্গার হুয়ান কুয়াড্রাডো গিয়েছেন জুভেন্টাসে পাকাপাকিভাবে, ডিফেন্ডার ন্যাথান আকে আর গোলরক্ষক আসমির বেগোভিচের ঠিকানা হয়েছে বোর্নমাথে, কিংবদন্তী জন টেরি চলে গেছেন অ্যাস্টন ভিলাতে। দল ছেড়েছেন ডমিনিক সোলাঙ্কে, ক্রিস্টিয়ান আটসু, বার্ট্রান্ড ট্রায়োরে, ন্যাথানিয়েল চালোবাহ, ওলা আইনা, রুবেন লফটাস চিক, কার্ট জুমা, জেরেমি বগা, মারিও পাসালিচের মত স্কোয়াডফ প্লেয়াররাও। ফলে চেলসির মূল দলে অনেক কম খেলোয়াড় আছে এখন। বিশেষত মিডফিল্ডে নেমানিয়া মাতিচকে বিক্রি করে দেওয়ার পর দেখা যাচ্ছিল মূল দুই সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার এনগোলো কান্তে আর তিমুইয়ে বাকায়োকোর পর সেস ফ্যাব্রিগাস ছাড়া সেরকম অভিজ্ঞ খেলোয়াড় কেউই নেই। সেই অভাবটা পূরণের লক্ষ্যেই দলবদলের শেষ দিনে সক্রিয় হয়েছিল চেলসি। গতকাল লেস্টার সিটি থেকে ইংলিশ সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার ড্যানি ড্রিঙ্কওয়াটারকে দলে নিয়ে এসেছে তারা। ২৭ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডারকে দলে আনতে ৩৫ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ হয়েছে তাদের, চুক্তি পাঁচ বছরের।

লেস্টার সিটি যেবার লিগ জিতলো সেবার তাদের মিডফিল্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলেন এই ড্রিঙ্কওয়াটার। ৪-৪-২ ফর্মেশানে ফরাসী মিডফিল্ডার এনগোলো কান্তের সাথে সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে অবিশ্বাস্য জুটি গড়ে লেস্টারকে জিতিয়েছিলেন লিগ শিরোপা। সেবার লিগে ৩৮টা ম্যাচের মধ্যে ৩৫টাই খেলেছিলেন তিনি। কান্তেকে তো গতবছরই দলে নিয়ে এসেছিল চেলসি, এবার সেই বিখ্যাত মিডফিল্ডের আরেক গুরুত্বপূর্ণ অংশকেও দলে আনলো তারা। টেকনিক্যালি অনেক দক্ষ এই সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার সবসময় মিডফিল্ড থেকে আক্রমণ শুরু করার চেষ্টায় থাকেন, সফল পাস দিতেও পারেন বেশ পাশে একজন আদর্শ সেন্ট্রাল ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার থাকলে নিজের পাসিং দক্ষতাটাকে সবচেয়ে ভালো কাজে লাগাতে পারেন তিনি, যেমনটা লেস্টারে হয়েছিল, মেশিনের মত ট্যাকলিং আর ইন্টারসেপশানের কাজটা করে যেতেন কান্তে, বাকি আক্রমণ রচনার দায়িত্ব ছিল ড্রিঙ্কওয়াটারের। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের একাডেমি গ্র্যাজুয়েট ড্রিঙ্কওয়াটার প্রতি ম্যাচে সফল পাস দিতে পেরেছিলেন গত মৌসুমে ৬০টার মত। পুরো মৌসুমে সফল ট্যাকল করেছিলেন ৮৪টার মত।

এনগোলো কান্তে, তিমুইয়ে বাকায়োকো, সেস ফ্যাব্রিগাস আর ড্যানি ড্রিঙ্কওয়াটার – এই সেন্ট্রাল মিডফিল্ড কি যথেষ্ট হবে চেলসির শিরোপা টিকিয়ে রাখার জন্য? দেখা যাক!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

8 + five =