কেমন যাচ্ছে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ

১২ দলের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ । সবচেয়ে ভালো দিক হচ্ছে পাইপলাইনের আরো বেশি বেশি খেলোয়াড়দের মধ্যে আরো বেশি বেশি খেলোয়াড় ফার্স্ট টীমে খেলার সুযোগ পাচ্ছে নিয়মিত । অনেক সময় ফার্স্ট বোলারদের দল পেতে সমস্যা হয়ে যায় । ঘুরেফিরে একই পারফরমারদের দেখা যায় টুর্নামেন্টের পরে টুর্নামেন্ট । সেই তুলনায় ১২টা দল খেলাতে অনেক বেশি পারফর্মার পাওয়ার চান্স সামনে এসে যাচ্ছে ।
লিগের প্রথম ৩০-৩৫ ম্যাচ শেষে চলুন একবারে দেখে নেই লিগটা আসলে এখনো কোথায় আছে …
সবগুলো দলের মোটামুটি ৫-৬টা ম্যাচের পরে টেবিলে সবার উপরে আছে এখন মুশফিকুর রহিমের মোহামেডান। দেশি বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উইকেট মোহামেডানের নাইম ইসলাম জুনিয়রের দখলে আর রানের ট্যালিতেও সবার উপরে মোহামেডানের লংকার রিক্রুট উপুল থারাঙ্গার নাম । এর সাথে নিজের পুরোনো ছন্দে ফেরার আভাস দিয়ে দিয়েছেন পকেট ডায়নামো মুশফিকুর রহিম । ৬ ম্যাচে একটা হান্ড্রেড আর আর দুটো ফিফটি নিয়ে আড়াইশর উপরে রান নিয়ে সর্বোচ্চ রান মেকারের চার্টে মুশির স্থান প্রথম পাঁচের মধ্যেই । সবমিলিয়ে থারাঙ্গা আর মুশফিক ক্লিক করাতে নিজেদের এখনো পর্যন্ত শেষ ম্যাচে তারকাবহুল আবাহনীকে গুঁড়িয়ে দিতেও সমস্যা হয় নি মোহামেডানের ।

দল ম্যাচ পয়েন্ট
১ মোহামেডান ৬ ১০
২ ভিক্টোরিয়া ৬ ৯
৩ রূপগঞ্জ ৬ ৯
৪ প্রাইম দোলেশ্বর ৬ ৮
৫ গাজী গ্রুপ ৫ ৬
৬ আবাহনী ৬ ৬
৭ প্রাইম ব্যাংক ৬ ৬
৮ শেখ জামাল ৫ ৬
৯ ব্রাদার্স ৫ ৪
১০ কলাবাগান ক্রীড়া চক্র ৫ ২
১১ কলাবাগান ক্রিকেট এসোসিয়েশন ৫ ০
১২ ক্রিকেট কোচিং স্কুল ৫ ০

৬ ম্যাচে ২৪২ রান । ওয়ানডে দলে অনিয়মিত মমিনুল হক এবার যে ওয়ানডের চ্যালেঞ্জটা বেশ ভালোভাবেই নিয়েছেন সেটা বোঝা যায় নিজের এবং দলের ভালো অবস্থান দেখেই । তবে মমিনুল ঢাকা পড়ে গেছেন ভিক্টোরিয়ার আরেক ব্যাটসম্যান আলামিন হোসেন জুনিয়রের জীবনের সেরা ফর্মের কারণে । আলামিন ৬ ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটাতে ফিফটি ছুঁতে পারেন নি । বাকি ৫টার চারটাতে ফিফটি আর একটাতে হান্ড্রেড । ৬ ম্যাচে ৯৩ গড়ে ৩৭২ রান নিয়ে লোকাল প্লেয়ারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রান এই আলামিন হোসেনেরই । তার সাথে আলামিনের স্ট্রাইকরেটটাও পেরিয়ে গেছে ৯০ এর ম্যাজিকাল পয়েন্ট । সবকিছু বলে, আলামিন এসেছেন রাজ করতে ।
৬ ম্যাচে ৩৭ গড়ে ২২৩ রান খুব বেশি খারাপ কিছু নয় তামিম ইকবালের জন্যেও । তবে তামিম নেই দশের মধ্যেও। অনেকগুলো দলে অনেক পারফরমার থাকার কারণে জাতীয় দলের তামিম, মাহমুদুল্লাহ, মিঠুন, মমিনুল- এদের সবারই ৬ ম্যাচে আড়াইশর আশেপাশে রান থাকলেও তেমন ফোকাস পাচ্ছেন না কেউই । বাকি সবার চেয়ে ১ ম্যাচ কম খেলেও ৮০ এর কাছাকাছি স্ট্রাইকরেট নিয়ে ৫ ম্যাচে ৩০০ রানের ল্যান্ডমার্ক ছুঁয়েছেন জাতীয় দলের বাদ পড়া ওপেনার আনামুল হক । তার মধ্যে একটা সেঞ্চুরিও রয়েছে ।
বোলারদের তালিকাতেও সবার উপরে এক শ্রীলংকান বোলার । চতুরঙ্গ ডি সিলভার আসল কাজটা ব্যাটিং হলেও ৬ ম্যাচে ১৫ উইকেট নিয়ে তার বোলিংটাও দারুন কাজে লাগছে ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং এর । আবাহনীর হয়ে নিয়মিত উইকেট নিচ্ছেন জাতীয় দলের লেগি জোবায়ের হোসেন । আর এর সাথে আবু হায়দার রনিও রুপগঞ্জের হয়ে ৬ ম্যাচে ১২ উইকেট নিয়ে নিজের ক্যারিয়ার গ্রাফটাকে উঁচু দিকেই রাখছেন । জাতীয় দলের পেসারদের মধ্যে ১০টি করে উইকেট নিয়ে বেশ উজ্জ্বল আলামিন হোসেন এবং মাশরাফি মুর্তজা ।
১২ দলের লিগের সাথে রান /উইকেট পাচ্ছে জাতীয় দলের বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই । এখন একটা টিভি ব্রডকাস্টিং এর ব্যবস্থা থাকলেই বাংলাদেশের সামারটা ভালো যেত ক্রিকেটের লোকেদের ।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

one × 1 =