দ্রগবা-কথন

২০০৪ সালের কথা; চেলসিতে ‘হোসে মোরিনিয়ো’ অধ্যায় সবেমাত্র শুরু হয়েছে। চেলসিতে এসেই তিনি ক্লাব রেকর্ড ২৪ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে ফ্রেঞ্চ লিগে খেলা মেধাবী কিন্তু স্বল্পপরিচিত- এমন এক স্ট্রাইকারকে ক্লাবে নিয়ে আসলেন। ব্রিটিশ মিডিয়া এমন একজন স্ট্রাইকারের জন্য এতো টাকা খরচ করাকে নিতান্তই মোরিনিয়োর ‘পাগলামি’ বলে উড়িয়ে দিলো! উত্তরে মোরিনিয়ো শুধু বললেন, “সে যখন ক্লাব ছেড়ে যাবে তখন তার মূল্যটা যাচাই করো!” এই ঘটনার আট বছর পর ‘মেধাবী কিন্তু স্বল্পপরিচিত’ সেই স্ট্রাইকারই চেলসি ফ্যানদের ভোটে ক্লাবের “সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ফুটবলার” হিসেবে নির্বাচিত হন!!…স্ট্রাইকারের নাম ডিডিয়ের “দ্যা কিং”  ড্রগবা!


জন্ম আইভরিকোস্টে হলেও ডিডিয়ের ড্রগবার শৈশবের প্রায় পুরোটাই কেটেছে ফ্রান্সে; সেখানে প্রফেশনাল ফুটবল খেলা চাচার কাছেই বড় হন তিনি। ড্রগবার ফুটবল ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে গল্পটা ছিলো নানা ধরনের ইঞ্জুরি দিয়ে ভরা। তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম দিকের একজন কোচের মতে,”প্রতিদিন ট্রেনিং করা এবং প্রতি সপ্তাহে ম্যাচ খেলার সক্ষমতা অর্জন করতে ডিডিয়ের এর চার বছর লেগেছিলো!” তবে প্রথম ছেলে ইজ্যাক এর জন্মের পর থেকেই ড্রগবা তাঁর ক্যারিয়ারের ব্যাপারে সিরিয়াস হতে শুরু করেন। ২০০২-০৩ সিজনে Guincamp ক্লাবের হয়ে ১৭টি গোল করে বড় ক্লাবগুলোর নজরে আসা ড্রগবা ২০০৩ সালে নাম লেখান মার্সেই’তে। প্রথম সিজনেই ১৯ গোল করে পরের বছর চলে আসেন ইংলিশ ক্লাব চেলসি’তে। শুরুর দিকে ইঞ্জুরির কারণে খুব বেশি অবদান রাখতে না পারলেও ধীরে ধীরে তিনি ঠিকই মোরিনিয়োর অন্যতম ভরসা হয়ে উঠতে শুরু করেন। প্রথম মৌসুমে ১৬ গোল করা ড্রগবা পরের মৌসুমে আর্সেনালের বিপক্ষে দুই গোল করে চেলসিকে ‘কমিউনিটি শিল্ড’ শিরোপা জেতান। প্রিমিয়ার লিগের ২০০৬-০৭ মৌসুমে ২০ গোল করে জিতে নেন গোল্ডেন বুট। ১৯৯৭ সালের পর সে বছরই প্রথম চেলসি ফুটবলার হিসেবে ইউরোপিয়ান ফুটবলে হ্যাট্রিক করেন তিনি। এছাড়াও তাঁর একমাত্র গোলের সুবাদে এফএ কাপ ফাইনালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে হারায় চেলসি।
২০০৭ সালে হোসে মোরিনিয়োর ক্লাব ছাড়াটা ছিলো মোরিনিয়োর একান্ত অনুগত শীষ্য ড্রগবার জন্য এক বড় ধাক্কা। সেসময় চেলসি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেও পরবর্তীতে মত বদল করে চেলসিতেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ঐ মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন লিগ ফাইনালটি ছিলো ড্রগবার ক্যারিয়ারের অন্যতম দুঃখজনক অভিজ্ঞতা। টাইব্রেকারে চেলসির হয়ে পঞ্চম শটটি নেওয়ার কথা ছিল তাঁরই, কিন্তু ১১৭তম মিনিটে ম্যান ইউনাইটেড ডিফেন্ডার ভিডিচকে চড় মেরে তিনি লাল কার্ড দেখায় শটটি নিতে যান জন টেরি। আর এরপরের ঘটনা তো সবারই জানা! তবে ৪ বছর পর নিয়তি আবার তাঁকে নিয়ে আসে সেই একই পরিস্থিতিতে। আবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল; আবারও সেই পেনাল্টি শুটআউট! তবে এবার আর কোনো ভুল করেননি তিনি; ম্যাচের শেষ শটটি থেকে গোল করে চেলসিকে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতার আনন্দে ভাসান ড্রগবা! চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ছাড়াও চেলসির হয়ে তিনটি প্রিমিয়ার লিগ ও চারটি এফএ কাপ শিরোপা জিতেছেন তিনি।


জন্মভূমি আইভরিকোস্টেও আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা রয়েছে ড্রগবার। তাঁর নেতৃত্বে ২০০৬ সালে আইভরিকোস্ট বিশ্বকাপ ফুটবলে কোয়ালিফাই করার পর তিনি দেশের বিবাদমান দুই পক্ষকে যুদ্ধ থামানোর আহ্বান জানান। তাঁরই চেষ্টায় পাঁচ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটে। চ্যারিটি’র জন্য বিখ্যাত ড্রগবা ২০১০ সালে টাইম ম্যাগাজিনের বিচারে ‘পৃথিবীর সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ জন ব্যাক্তি’র তালিকায় জায়গা পান।
আজ, চেলসি ও আইভরিকোস্ট লিজেন্ড ডিডিয়ের ড্রগবার ৩৮তম জন্মদিনে রইলো অনেক শুভকামনা!

@শাহ আকিব সারোয়ার

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

two + 17 =