দুঙ্গার জয়রথে অবশেষে কলম্বিয়ার হানা

ব্রাজিল ০-১ কলম্বিয়া (মৌরিলা)
দুঙ্গার হাতের পাঁচ ‘ডগ্লাস কস্তা’ সাবস্টিটিউট করলো অনেকটাই ম্রিয়মাণ দেখানো উইলিয়ান কে। কিন্তু তখন আর ম্যাচের খুব বেশি বাকি ছিল না। রবারতো ফিরমিনোর ফুল চান্স মিছ করার পরও আশাবাদী ছিলাম। রেফারীর শেষ বাঁশি আমাকে নিশ্চিত করল একটি নিরাশ ৯০ মিনিটের গল্প লিখতে।

477507600

ফার্স্ট হাফ মিশ্রিত ছিল সেট পিচ থেকে করা মোউরিলার গোলে পিছিয়ে পড়া, মিস-পাস, সুস্পষ্ট কোন এট্যাক সূচনায় ব্যর্থতা, আর পেরু ম্যাচ এর পর আজো ইয়েলো পেয়ে (পর পর ২ ম্যাচ) নেইমারের ভেনেজুয়েলা ম্যাচ মিস হয়ে যাবার মত আন-এক্সপেক্টেড ঘটনাপ্রবাহের উদয়ে। মাজ মাঠের নিয়ন্ত্রন নিতে না পারা আর ইন্ডিভিজুয়াল স্কিল কিংবা টিম কোঅরডিনেশন এর দ্বারা পটেনশিয়াল এট্যাকে যেতে না পারার দরুন আল্ভেজ, সিল্ভা, মিরান্ডা, ও লুইস এ গড়া ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্সকে সম্মুখীন হতে হয় হামেস-কুয়াড্রাডো দের মুহুর্মুহু আক্রমণ সামলানোর মত কঠিন পরীক্ষায়। আর সে পরীক্ষায় মিরান্ডা-সিলভার সেন্টার ডিফেন্স ও যথেস্টই জবাব দিচ্ছিলো। ফেলিপে লুইস রাইট উইং ঘেঁষে করা কলম্বিয়ান আক্রমণ ঠিক-ঠাক মতই সামলে নিয়ে বার কয়েক উপরের দিকে উঠে আসছিলেন। কিন্তু তা উইলিয়ান, নেইমার, ফিরমিনোদের মোটামোটি নিষ্ক্রিয়তায় অতটা ইমপ্যাক্ট ক্রিয়েট করতে পারে নি। উলটো সেট পিচ থেকে করা মোউরিলার অসাধারন গোলে পিছিয়ে পড়ে ব্রাজিল। কর্নার আদায়, আর গোল পোস্টে শট নেওয়ার দিক দিয়ে সিগ্নিফিকেন্টলি এগিয়ে থাকা কলম্বিয়া যেন সেলেসাওদের উপর মরন-কামড়ের বার্তা দেয় ১ম অর্ধে।

হলুদ কারড দেখার পর নেইমারের অভিব্যক্তি
হলুদ কারড দেখার পর নেইমারের অভিব্যক্তি

কার্লোস দুঙ্গা। সেলেসাও বস। পেকারম্যান এর ফারস্ট হাফের মাস্টার মাইন্ডেড ট্যাক্টিক্স এর কাছে হেরে যান। তাই সেকেন্ড হাফের শুরুতেই নতুন প্ল্যান নিয়ে আবির্ভূত হন। ফ্রেড আউট, কৌতিনহো ইন। ফলাফল নেইমার এর স্বরূপে পেরা। আর আমিও নড়েচড়ে বসলাম। প্রত্যাশা,১ম বারের মত ম্যাচ এ কলম্বিয়ান রক্ষনদুর্গ ভাঙবে কৌতিনহো-নেইমার-ফিরমিনো ত্রয়ী। অবশেষে ফাটল ধরতে শুরু করলো পেকারম্যানের যাদুতে গড়া ইস্পাত কঠিন কলম্বিয়ান ডিফেন্স। স্পেস পেয়ে নেইমার স্বরূপে ফিরলেন। সাথে লিভারপুল ব্রেইন কৌতিনহোর যাদুকরি কিছু মুভ আর পাস। রেজাল্ট? সিউর গোল স্কোরিং চান্স। কিন্তু এ কি! হফেনহেইম বয় রবারতো ফিরমিনো মেরে দিলেন পোস্ট এর ঠিক উপর দিয়ে। হতাশ ফিরমিনো নুইয়ে পড়লেন মাটিতে। ততক্ষণে বুঝতে আর বাকি রইলোনা। কোনকিছুই ঠিকঠাক না যাওয়া আরেকটি দিনের সম্ভাব্য ফল মেনে নিতে শুরু করলাম।

রাইট উইং দিয়ে ফেলিপে লুইসের উঠে আসা
রাইট উইং দিয়ে ফেলিপে লুইসের উঠে আসা

পেকারম্যানের স্ট্রাটেজির কাছে ফারস্ট হাফে পরাজিত দুঙ্গা সেকন্ড হাফে সম্ভব সবই করেছেন। উইলিয়ান অউট-ডগলাস কস্তা ইন, এলিয়াস অউট-তারদেল্লি ইন। পজেশন আর মুহুর্মুহু আক্রমনে নাকাল পেকারম্যান রক্ষনের শক্তি ইনক্রিজ এ মননিবেশ করেন। ফাইনাল ফিনিশিং এর অভাবে পরাজিত দুঙ্গা, পরাজিত ব্রাজিল, আর হতাশ ফ্যান। আর কলম্বিয়াও ফিরে পেল রিদম। পেরুকে হারিয়ে নিশ্চিতভাবেই কোয়ার্টার ফাইনালে যাবে তারা। আর আমরাও ঠিক তেমনি ছেয়ে আছি ভেনেজুয়েলা ম্যাচের পানে। ঘুরে দাঁড়াবে দুঙ্গা-বাহিনী।
২য় মেয়াদে চার্জ নেওয়ার পর থেকে এটাই দুঙ্গার দলের ১ম হার। বিরক্তি আর হতাশায় মাখানো ম্যাচটি থেকে নিশ্চিত লেসন নিবেন দুঙ্গা। মনযোগী হবেন এটাকিং থারডে আরো বেশি বল বাড়ানোর দিকে। আর শক্ত রক্ষনের বিপক্ষে প্রাধান্য দিবেন সৃজনশীলতায় দক্ষদের।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

eleven − five =