সমস্যাটা গভীর, অনেক গভীর (১)

নতুন কোচ আসলেন। এসেই একের পরে এক ম্যাচ জেতালেন, শিরোপা এনে দিলেন হাহাকার করা ফ্যানদের। এটা রুপকথা ছাড়া আর কি! বাস্তব আর কল্পনার ফারাক আকাশ পাতাল। দুঙ্গাকে অব্যাহতি দেবার পর সাবেক করিন্থিয়াস কোচ টিটেকেই ব্রাজিলের নতুন কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ব্রাজিলের জনগণের কাছে কোচ হিসেবে দুঙ্গা ঠিক যতটুকু নিন্দিত, টিটে ঠিক ততটুকুই নন্দিত। দেখি আগামীতে কি হয়! আশায় আছি ভালো কিছুর।
চলুন তাকাই স্কলারির ২য় মেয়াদে। ২০০২ এর বিশ্বকাপজয়ী কোচ স্কলারি। তাকে নিয়ে হাইফটা অনেক বেশি ছিল ফ্যানদের মাঝে। নিরাশ করেন নি। ২০১৩ সালের কনফেডারেশন কাপটা এনে দিয়েছেন নেইমার-অস্কার-পাউলিনহো-ফ্রেডদের মাধ্যমে। তার খেলার স্টাইল ছিল ৪-২-৩-১, যেখানে একজন প্রথাগত স্ট্রাইকার থাকবে। ২০১৩ এর কনফেডারেশন কাপ মিশনে স্কলারি সফল হলেন। ঐ আসরে নেইমার, অস্কার, পাউলিনহো ফর্মে ছিল। ফ্রেড মূলত একজন পোচার টাইপের স্ট্রাইকার, যে কিনা ডি-বক্স কেন্দ্রিক। তাই সেকেন্ডারী স্ট্রাইকারের রোল পালনের দায়িত্ব অটোমেটিক চলে আসে লেফট ফ্ল্যাঙ্কে খেলা নেইমারের উপর। মিড বলতে যা বোঝায়, তা হল সেন্ট্রাল মিড। আর সেখানে চমক দেখালেন পাউলিনহো। ঐ আসরে পাউলিনহো আসলেই অসাধারণ কিছু করে দেখিয়েছে। কিন্তু কস্টের বিষয় হল, এরপর থেকে তার ফর্ম এবং সেলেসাও দলে জায়গা দুটোই গেছে। অস্কার অধারাবাহিক, কিন্তু ঐ আসরে মোটামুটি যথেস্ট সার্ভিস দিয়েছে দলকে। সত্যি বলতে কি, ২০১৩ এর কনফেডারেশন কাপ আসলে নেইমার, অস্কার এবং পাউলিনহোর এনে দেওয়া। তাদের থ্রু বল, ডিফ্লেক্টেড শট, লং রেঞ্জ শট থেকে একের পর এক গোল করেছে স্ট্রাইকার ফ্রেড এবং তার বদলি জো। ফলে তারাও মিশনে পাস। ব্যাস। আরকি! কনফা জয় হল। মারসেলো, দানি আলভেজ, দান্তে এদের ডিফেন্সিভ এরর চোখে আসে নি। মিড থেকে বলের যোগান না এলে প্রথাগত স্ট্রাইকার খেলাবো, নাকি ফলস নাইন সিস্টেমে দলকে খেলিয়ে মিডে প্রেসার ক্রিয়েট করবো- এসব দেখার আর প্রয়োজন হয় নি। কনফা এবং বিশ্বকাপের মাঝে একটা লম্বা গ্যাপ ছিল। অনেকেই ফর্মে ছিল না। অনেকেই ইঞ্জুরি থেকে রিকভার করেছে মাত্র। ২০১৩ এর কনফার প্লেয়ারদের নিয়েই মূলত আমাদের বিশ্বকাপের আসরে যাত্রা।
বিশ্বকাপের সাথে অন্য কোন ফুটবল টুর্নামেন্টের তুলনা হয় না। এখানে কোন দলই একবিন্দু ছাড় দিয়ে খেলে না। কোচদের ট্যাকটিক্স এর হাইয়েস্ট ব্যবহার এখানে হয়। একারণেই দ্যা গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে আমাদের ডিফেন্সের দুই ফ্ল্যাঙ্কে মারসেলো এবং দানি আলভেজের শিশুতোষ ভুলগুলা বেরিয়ে আসে বেশ লজ্জাজনকভাবে। ট্যাকল, বল রিকভারে এতোটা স্লো মনে হয় আমাদের এই ফুলব্যাকরাই ছিলো। কাউন্টার এটাকে ফ্রেডের দুর্বলতা বেরিয়ে এসেছিল সেই সময় ন্যাক্কারজনকভাবে। ব্রাজিলের একজন স্ট্রাইকারের গতির এই দশা! ক্রমাগত ইঞ্জুরিতে পড়ে গতি হারিয়েছে তার। এই বিশাল আসরে এসে ফর্মহীন, গতিহীন ফ্রেড খুইয়ে বসলেন সেলেসাওদের নয় নাম্বার জার্সির মান। ব্রাজিলের জার্সি গায়ে বিশ্বকাপে এতোটা অলস এবং ইউজলেস নাম্বার নাইন আর দেখে নি বিশ্ব। কিন্তু গো ধরলেন কোচ স্কলারি। ম্যাচের পরে ম্যাচ খেলিয়েই গেলেন ফ্রেডকে। কোন প্ল্যান বি, সি এর ধার ধারলেন না। এটা বিশ্বকাপ আসর। আলোচনা যেমন বেশি, সমালোচনা তার চাইতেও বেশী। রাগে-অভিমানে ফ্রেড তার জার্সি তুলে রাখার সিদ্ধান্ত নিলেন। আর কখনো সেলেসাওদের হয়ে মাঠে না নামার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন।
পাউলিনহোর ফর্ম তলানিতে এসে ঠেকেছে। ফলশ্রুতিতে মিডে দেখা দিয়েছে সমন্বয়ের অভাব। তাইতো গুস্তাভোর পাশে কখনো হারনানেস, কখনো পাউলিনহো, কখনো ফারনান্দিনহো এসেছে গেছে। নেইমার, অস্কারের পারফরম্যান্স ঠিক ছিল। হাল্কের এর গতি ঠিক ছিল, কিন্তু প্রয়োগ ভুল ছিল। তার সব শট আকাশ ছোঁয়া। নেইমার, অস্কার আর কতটুকু করবে? ২ জনে মিলে কি ফ্রেড, হাল্ক, পাউলিনহো, মারসেলো, দানি আলভেজদের ভুলগুলো টানতে পারবে? তাও বিশ্বকাপের মত এতো বড় আসরে। যেখানে সামান্য ভুলেই শেষ হয়ে যেতে পারে সব। আমি এখনো ব্রাজিল বনাম জার্মানি ম্যাচে আসি নি। এতোক্ষণ যা বললাম সেগুলো জার্মানির ম্যাচের আগ পর্যন্ত। বাকীটা কাল।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

twelve + 17 =