দারিও সানা – ক্রোয়েশিয়ান এবং শাখতার দানেস্কের জীবন্ত লিজেন্ড

::: জুয়েল আহমেদ লিপু :::

যদি কেউ আপনাকে ফুটবল লিজেন্ড কারা প্রশ্ন করে? তাহলে স্বাভাবিকভাবেই আপনার প্রশ্নের উত্তর হবে → ম্যারাডোনা, ক্রুইফ, পেলে, ইউসেবিও, ডি স্টেফানো , প্লাতিনি, পুসকাস, ককসিস, রোনাল্ডো দ্য লিমা, জার্ড মুলার, স্টেফানো, ইউসেবিও, রোনালদিনহো এবং হালের মেসি, রোনালদো ইত্যাদি। অন্যদিক অনেক তারকা রয়েছেন যারা ক্লাবকে ভালবেসে নিজেদের নিয়ে গেছেন সর্বকালের গ্রেটদের পাশে – তাদের মধ্যে ব্রুনো কন্টি, ফ্যালকাও: গিওসাপি সিগনরু এবং জর্জিও চিনাগিলিয়া অন্যতম। তেমনি তাদের মত একজন হলেন ক্রোয়েশিয়ান এবং ইউক্রেনের ক্লাব শাখতার দানেস্ক অধিনায়ক দারিও সানা যিনি কিনা ক্লাবের মানুষের কাছে একজন রাজা এবং তাদের ক্লাবের প্রতীক। সালটা ২০০৯ ইস্তানবুলে ইউরোপা কাপের ফাইনালে মুখামুখি ইউক্রেনের ক্লাব শাখতার দানেস্ক আর জার্মান জায়ান্ট ওয়ার্ডার ব্রেমেন। উভয় দলের ইউরোপা লিগে প্রথম সাফল্য অর্জন করার সুযোগ । তবে শাখতারের জন্য টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ান হওয়া আরও বেশি গুরত্বপুর্ণ ছিল – কেননা তারা ইউরোপা লিগ জয়ী প্রথম ইউক্রেনীয় দল হওয়ার সুযোগ পাবে। যদিও ওয়ার্ডার ব্রেমেন ১৯৯৮ সালে তখনকার অঘোষিত ইন্টারটটো কাপে চ্যাম্পিয়ান হওয়ার পর থেকে কোন মহাদেশীয় টুর্নামেন্টে জয় করতে পারেনি। তাই ফাইনালটা ছিল দু-দলের কাছে মহাগুরত্বপূর্ণ। শাখতারের শুরুর লাইনআপের পাঁচ জন ব্রাজিলীয় খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তি ছিল, যা ক্লাবের প্রেসিডেন্ট রনাত আখমাতোভের ক্লাবের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তার ব্যবসার কারণে চলছিল – কম দামে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারদের দলে ভিড়িয়ে এবং পরবর্তীতে তাদের মোটা অংকে বিক্রি করে দেয়া । কাগজে কলমে শক্তির বিচারে শাখতার দানেস্ক থেকে যোজন যোজন এগিয়ে ছিল জার্মান জায়ান্টরা। দলে ছিলে তখনকার সময়ে তুখোড় ফর্মে থাকা পেরুভিয়ান স্টাইকার ক্লাদিও পিজারো, উঠতি তারকা মেসুত ওজিল এবং ডিফেন্সে ছিলেন শক্তিশালী ব্রাজিলিয়ান সেন্টার ব্যাক নালডো। ম্যাচের শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণে ম্যাচটা জমাজমাট হয়ে উঠে। বিরতিতে যাওয়ার আগ মুহুর্তে ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার নালডোর ভুলে শাখতারকে এগিয়ে দেন আরেক ব্রাজিলিয়ান লুইজ আদ্রিয়ানো। যদি লিড বেশি সময় ধরে রাখতে পারেনি শাখতার। যে নালডোর ভুলে পিছিয়ে পরে ব্রেমেন সেই নালডোর চেষ্টায় ম্যাচে ফিরে আসে জার্মান জায়ান্টরা। নালডোর ফ্রিকিক ক্লিয়ার করতে গিয়েই নিজের জালেই বল ঢুকান গোলরক্ষক আন্দ্রে পিয়াটভ। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আর কোন গোল না হলে অতিরিক্ত সময় হিসেবে ৭ মিনিট দেয়া হয়। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যায় ইউক্রেনের ক্লাবটি। জাডসনের গোলে শিরোপা নিশ্চিত করে শাখতার। যদিও এ গোলের রুপকার ছিলেন অধিনায়ক দারিও সানা। তার রাইট উইং থেকে নিচু ক্রস কাজে লাগিয়ে গোল করে এগিয়ে নেন মিডফিল্ডার জাডসন। গোল না পেলেও পুরো ম্যাচে দারুন প্যারফরম্যান্স করে ম্যান অব দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হন দারিও সানা। সাথে শাখতার দানেস্ক প্রথম ইউক্রেনীয় দল হিসেবে মহাদেশীয় কাপ জিতার গৌরব অর্জন করে। ২০০৩ সালে শাখতার দানেস্কে যোগ দেয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ক্লাবের হয়ে মাঠ মাতাচ্ছেন ৩৫ বছর বয়সি এ রাইটব্যাক। সানার পিক ফর্মে অনেক ক্লাব তার প্রতি আগ্রহ দেখালে ক্লাবের প্রতি ভালোবাসায় ক্লাব ছাড়েননি তিনি। ক্লাবের খারাপ সময়ে একজন নেতার মত অবিচল খেলে গেছেন সানা। ইউক্রেনীয় এ ক্লাবের হয়ে তিনি ৫২৬ টি ম্যাচ খেলেছেন। দারিও সানা দেশ এবং ক্লাব উভয়ের জন্য অনুপ্রেরণা। তিনি মাঠের বাহিরে কিনবা ভিতরে তার কাজের জন্য একজন অবিসংবাদিত নেতা হয়ে ইউক্রেনের এ ক্লাবটিতে আছেন এবং থাকবেন।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

15 + 4 =