গার্দিওলার সিস্টেমে নতুন রাইটব্যাক : দানিলো

গত মৌসুমটা ছিল ম্যানচেস্টার সিটির কোচ হিসেবে পেপ গার্দিওলার প্রথম মৌসুম। এ মৌসুমে দলের ফুলব্যাকদের নিয়ে বেশ ভুগেছেন তিনি, কারণ কেউই তাঁর মতাদর্শের সাথে যান না ঠিক। ডানদিকে পাবলো জাবালেতা, বাকারি স্যানিয়া, পাবলো ম্যাফেও কিংবা বামদিকে অ্যালেক্সান্দার কোলারভ, গায়েল ক্লিশি – কেউই গার্দিওলাকে তাঁর মনমত পারফরম্যান্স উপহার দিতে পারেননি। ফলাফল, এই মৌসুমে এই চারজনের মধ্যে তিনজনকেই (ক্লিশি, জাবালেতা ও স্যানিয়া) ক্লাব থেকে বের হবার দরজা দেখিয়ে দিয়েছেন গার্দিওলা। আর কোলারভও ম্যানচেস্টার সিটি থেকে যোগ দিয়েছেন ইতালিয়ান ক্লাব এএস রোমায়। ফলে ম্যানচেস্টার সিটিতে দেখা গেছে ফুলব্যাক সংকট, ক্লাবের জন্য আদর্শ ফুলব্যাক ও তাদের যোগ্য ব্যাকআপ কেনার জন্য এবার প্রথম থেকেই সক্রিয় ম্যানচেস্টার সিটি। এই সক্রিয়তার প্রথম ধাপ হিসেবে কিছুদিন আগেই সবচেয়ে বেশী দামের ইংলিশ খেলোয়াড় হিসেবে শত্রুশিবির টটেনহ্যাম হটস্পার থেকে রাইটব্যাক কাইল ওয়াকারকে দলে টেনেছিল তারা, ৫০ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে! কিন্তু যে দল লিগ, কাপ, চ্যাম্পিয়নস লিগ সহ প্রত্যেকটা প্রতিযোগিতায়ই জয়ের জন্য লড়বে, তাঁদের কি আর মাত্র একটা রাইটব্যাকে চলে? তাই এবার রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ব্রাজিলিয়ান রাইটব্যাক দানিলোকে ২৬.৫ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে দলে নিয়ে আসলো ম্যানচেস্টার সিটি। ২৬ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডারের সাথে সিটির চুক্তি ২০২২ সাল পর্যন্ত।

দুই বছর রিয়ালে থেকে দলে নিজের জায়গা কখনই পাকা করতে পারেননি দানিলো। নিজের বাজে পারফরম্যান্স ত কারণ ছিলই, সাথে স্প্যানিশ রাইটব্যাক দানি কারভাহালের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য দানিলোকে প্রায় সময়েই বেঞ্চে বসে থাকতে হত। তাই দুই মৌসুমে সিটির হয়ে খেলেছেন চল্লিশটার থেকে কিছু বেশী ম্যাচ। রাইটব্যাক হিসেবে খেললেও দানিলো খেলতে পারেন রাইট মিডফিল্ডার হিসেবেও। দানিলো আসলেই সিটির আগের দুই রাইটব্যাক বাকারি স্যানিয়া ও পাবলো জাবালেতার থেকে ভালো হবেন? দেখে নেওয়া যাক তুলনামূলক কিছু আলোচনায় –

গত মৌসুমে লিগে ১৭টি ম্যাচ খেলেছিলেন দানিলো, বাকারি স্যানিয়ার সমান, জাবালেতা খেলেছিলেন আরও তিনটা বেশী ম্যাচ। তিনজনের মধ্যে সফল পাস প্রদান করার ক্ষেত্রে স্যানিয়া একটু এগিয়ে, তাঁর সফল পাস দেওয়ার হার ৮৮%, তাঁর একটূ কম দানিলোর – ৮৬%। আক্রমণভাগে ”কি পাস” দেওয়ার হার দানিলোরই বেশী সবচেয়ে, ১৬টা, যা কিনা জাবালেতা ও স্যানিয়ার সম্মিলিত কি পাসের থেকেও একটা বেশী। দানিলোর গোলসহায়তা দুটি, জাবালেতা ও স্যানিয়ার একটি করে। গোলের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন দানিলো ১৮বার, যা কিনা আবারও জাবালেতা ও স্যানিয়ার সম্মিলিত গোলের সুযোগসৃষ্টির থেকেও একটা বেশী। গত মৌসুমে ৩৬টা ট্যাকল করেছিলেন দানিলো, জাবালেতা করেছেন ৩১টি, স্যানিয়া ১৬টি। বাতাসে ভেসে আসা বল দখল নেওয়ার ক্ষেত্রেও দানিলো বাকি দুইজনের থেকে বেশী কার্যকর। প্রতিপক্ষের পা থেকে বল কেড়ে নিয়েছেন দানিলো ৩৭ বার, জাবালেতা নিয়েছেন ২৮ বার, আর স্যানিয়া ২১ বার।

মোটামুটিভাবে দেখা যাচ্ছে প্রায় প্রত্যেকটা ক্ষেত্রেই সিটির গত মৌসুমের দুইজন রাইটব্যাকের চেয়েই দানিলো বেশ এগিয়ে। এখন বাকীটা ভবিষ্যতের হাতে!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

five × 2 =