স্বাগতম ক্রিকেট গ্ল্যামারের দোকানে !

জেফ্রি বয়কট কিংবা পাশের দেশের সুনীল গাভাস্কারের মত বড় বড় ক্রিকেট পন্ডিতেরা কী বলে আমি জানি না । আমার কাছে ক্রিকেট খেলা আনন্দের খোড়াক আর আমি স্রেফ আনন্দের জন্যেইক্রিকেট খেলা দেখি । সেই হিসাব থেকে টিটোয়েন্টি আসার প্রথম থেকেই ক্রিকেট খেলাটার বিশ্বায়নের জন্যে আমার কাছে টিটোয়েন্টির আবেদন ছিলো অন্য রকম । টেস্টের পঞ্চম দিনে কোন একটা পার্টনারশিপকে ৫ দিনের ম্যাচটাকে বাঁচাতে লড়াই করার চেয়ে বড় রোমাঞ্চ ক্রিকেটে কিছু হতে পারে না – এই সহজ সত্য কথাটা আমিও মানি । ক্রিকেটের আসল গ্ল্যামারের জায়গাটা যে ঐ একটা জায়গায়, সেটা অনেক বড় বড় ক্রিকেট রোমান্টিকের সাথে আমারও মতামত ।

তবে টানা ১ মাস বা ২৫ দিন বা ১৫ দিন দেখার জন্যে টিটোয়েন্টির চাইতে ভালো আসর হতে পারে না । টিটোয়েন্টির ভালো দিকটা বোঝার জন্যে আমাদের ওয়ানডে বিশ্বকাপের খারাপ জায়গাটায় একটু চোখ বুলিয়ে নিতে হবে । চার বছর পর পর ওয়ানডে বিশ্বকাপ আসছে । আর প্রতিবারই ম্যাচপ্রতি আগের চেয়ে বেশি বেশি রান নিয়ে আসছে । সব জায়গায় ফ্ল্যাট উইকেট বানানোর তাড়া ! সর্বত্র বাউন্ডারি ছোট বানানোর তাড়া ! সাথে আছে প্রথম রাউন্ডের ৬৫% ম্যাচই আসল খেলাতে যেয়ে আসলে কোন ম্যাচ হয় না । ১০০ ওভারের ক্রিকেট খেলাটা শেষ হয়ে যায় ৭০-৭৫ ওভারে । আর বাকি ৩৫% বড় ম্যাচ খুব ভালো হয় এই কথাটাও যেন উচ্চারণ করে ফেলবেন না ভুলেও । ১৬ দলের মধ্যে ৮টা দল পরের রাউন্ডে উঠার নিয়ম থাকে । তাই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে পাকিস্তান গো-হারা হারলেও পাকিস্তানের ভয়ের কিছু থাকে না । কারণ, গ্রুপে দুর্বল দলগুলোকে হারিয়ে পরের রাউন্ডটাতে তো যাওয়া যাবে অনায়াসেই । বড় ম্যাচ মানে নামের বড় ম্যাচ ! ম্যাচ হারার প্রভাবটা ফিকচারের কারণে বড় থাকে না । কারণ মূল লক্ষ্য পরের রাউন্ডে উঠা যাবে আয়ারল্যান্ড বা জিম্বাবুয়েদের হারিয়েই । ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডটা তাই দারুনভাবে ঝিমুতে থাকে । দারুনভাবে ঘুমাতে থাকে । টুর্নামেন্ট শুরুর পরে প্রথম ২০-২৫ দিন তাই ওয়ানডে বিশ্বকাপের বিশ্রামের সময় । এ সময়টা পরের রাউন্ডের জন্যে সকল উত্তেজনা লুকিয়ে রাখার সময় ।

অবশ্যই টিটোয়েন্টি ফরম্যাটটার স্বকীয় বৈশিষ্ট্যগুলো এই ফরম্যাটের বিশ্বকাপকে একটা বড় এডভান্টেজ দেয় । ২০ আর ২০ মিলিয়ে ৪০ ওভারের ম্যাচ ! তার মধ্যে ২৫-৩০ ওভারই দলগুলো অনেক অনেক রান তোলার চেষ্টায় থাকে । ধীরে চলার কোন জায়গা নেই । এটা তো অবশ্যই এই বিশ্বকাপটার গ্ল্যামারের একটা বড় রহস্য । তবে সবটা কিন্তু ফরম্যাটের আশীর্বাদ না ।

২০০৭ এ জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্সের সেই টুর্নামেন্ট শুরু করা ম্যাচটার কথাই ভাবুন । গেইলের শতকে ২০০ পার ওয়েস্ট ইন্ডিজ । কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা আরো ক্যালকুলেটিভ । দুই ওভারের বেশি হাতে রেখে জিতে গেল ম্যাচটা । এমন শুরুর পরে ঐ ফরম্যাটের বিশ্বকাপকে আর পিছে তাকাতে হয় না । টুর্নামেন্ট তারপরে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ছুটে বেরিয়েছে ক্রিকেট বিশ্বের এক কোণা থেকে আরেক কোণা । কখনো ইংল্যান্ড আবার কখনো ক্যারিবীয়ান সাগরের পাড়ে ! এশিয়ায় বাংলাদেশ কিংবা শ্রীলংকায় হওয়া টিটোয়েন্টি বিশ্বকাপগুলো অনেক সারপ্রাইজ জমিয়ে রেখে সেগুলো আস্তে আস্তে ছেড়েছে । সেই সারপ্রাইজ কখনো স্লো উইকেটের বদৌলতে এসেছে । আবার কখনো পাকিস্তান বা ইংল্যান্ডের মত আন্ডারকভার চ্যাম্পিয়নের বদৌলতে এসেছে । কখনো স্যামুয়েলসের হাতে মালিঙ্গার মত শিউর শট টিটোয়েন্টি প্যাকেজের নাকাল হওয়া দিয়ে এসেছে ।

তবে সারপ্রাইজ এসেছে ! সব সময়ই এসেছে !

অনেক সারপ্রাইজ আর উত্তেজনাতে ঠাসা ফিক্সচার নিয়ে আসছে ক্রিকেটের সবচেয়ে গ্ল্যামারাস বৈশ্বিক আসর । ভারত, পাকিস্তান , অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড আর বাংলাদেশ (কোয়ালিফাই করলে) একটা পাশে । অন্যপাশটাতে ইংল্যান্ড, লংকা, দক্ষিণ আফ্রিকা , ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর কোয়ালিফায়ার টীম । দুটো দুটো চারটা সেমিফাইনালে যাবে। একদম ফেলে দেওয়ার ম্যাচ দেখতে পান টুর্নামেন্ট শুরু হবার আগে ? আমি পাই না ।

টেস্ট ক্রিকেট আল্টিমেট ক্রিকেট রোমান্টিকদের জায়গা হতে পারে । ওয়ানডে ক্রিকেট আক্রমণ আর রক্ষণের পারফেক্ট ব্যা্লেন্সিং এর পরীক্ষা হতে পারে ।
তবে শুধু আক্রমণের টিটোয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফরম্যাট হিসেবে উত্তেজনায় আর মাদকতায় বাকিদের হারিয়ে দেয় বেশ ভালোভাবে । স্বাগতম আরো একবার !

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

four × four =