যে ৫ কারণে চ্যাম্পিয়ন জ্যামাইকা

শেষ হয়ে গেলো ৪০ দিনের ক্যারিবীয়ান প্রিমিয়ার লিগ । ক্যারিবীয়ান টিটোয়েন্টি সুপারস্টারদের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে এবি আর আমলা আর অস্ট্রেলিয়া থেকে ওয়াটসনের মত বড় স্টাররা আসায় এবারের সিপিএলটা ছিলো টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে সেরা সংস্করণ । এই আসলে গেইল- রাসেলের জ্যামাইকা তালাওয়াহতে খেলেন বাংলাদেশের সুপারস্টার সাকিব আল হাসান । আজ এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে গায়ানাকে ৯ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হবার স্বাদ পেলো গেইল আর সাকিবের জ্যামাইকা ।

দেখে নিন কোন ৫ কারণে এলো জ্যামাইকার এই অভাবনীয় সাফল্যঃ

১) গেইল-ওয়ালটন ওপেনিং রসায়নঃ চ্যাডউইক ওয়ালটন গেইলের তুলনায় এই ফরম্যাটে তেমন কোন বড় নাম নয় । তবে টুর্নামেন্ট জুড়ে গেইলকে সঙ্গ দিয়ে গেছেন বেশ ভালোভাবে । টুর্নামেন্টের রান ট্যালিতে গেইলের অবস্থান তিন আর ওয়ালটনের সাত । তবে স্বভাবতই গেইলের ১৫৫ স্ট্রাইকরেইটের পাশে ওয়াল্টনের ১২০ এর আশেপাশের স্ট্রাইকরেটটাকে ফিকে লাগে একটু । তবে গেইল তাড়াতাড়ি ফিরে গেছেন এমন দু একটি ম্যাচে ওয়ালটনের অবদানের কথা ভুলে যাবেন না যেনো !

২) সাকিব-ইমাদ স্পিনডুয়োঃ দুজনই স্পেশালিস্ট বোলার হিসেবে খেলার যোগ্যতা রাখেন আর সাথে আছে ব্যাটিংটাও । জ্যামাইকাকে তাই দলের কম্বিনেশন নিয়ে ভাবতে হয় নি কখনোই । এই ডুয়োকে খেলানো মানে দুইজন স্পিনার খেলানোর সাথে মিডল অর্ডারে দুজন ব্যাটসম্যানও খেলিয়ে দেওয়া । ফাইনালেই দেখুন না ! ইমাদ যদি ৩ উইকেট নিয়ে ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ হন, তারপাশে সাকিব করেছেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুই ব্যাটসম্যান ক্রিস লিন আর জেসন মোহাম্মদকে ফিরিয়ে দিয়ে সবচেয়ে দরকারি কাজটুকু ।

৩) স্টেইনগানঃ চলে গিয়েছেন টুর্নামেন্টের মাঝপথেই । তবুও তাকে আলাদা করে মেনশন করতে হবে টুর্নামেন্টের প্রথম দিকটায় নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করা টিটোয়েন্টি বোলার হিসেবে । ৮ ম্যাচে তার নেওয়া ১২ উইকেটের সাথে আলাদা করে বলতে হবে তার ৬.৮১ এর ঈর্ষণীয় ইকোনোমিটার কথাও ।

৪) কেসরিক উইলিয়ামস, রভম্যান পাওয়েল আর সাঙ্গাকারাঃ সিপিএল নতুন টিটোয়েন্টি স্টার জন্ম দেওয়ার টুর্নামেন্ট । এবার যেমন টুর্নামেন্ট পেলো জ্যামাইকার দুজন কেসরিক উইলিয়ামস আর রভম্যান পাওয়েলকে । পাওয়েল হয়তো নিত্যদিন ভালো খেলতে পারেন নি । কিন্তু যেই কিছু ইনিংসে তার ছটা দেখা গিয়েছে, সেই কয়েকটা ইনিংস থেকে ক্রিকেট চিনেছে নতুন এক ক্লিন হিটারকে। কেসরিক উইলিয়ামস স্লগে উইকেট নিয়েছেন নিয়মিত । আর আলাদা করে সাঙ্গাকারার কথা বলবো । এই বয়সেও উইকেটের পিছে এতো এনার্জি আর এত ভালো এথলেট ! ব্যাটিং এর কথা বাদ দিয়ে শুধু উইকেট কিপিং এর জন্যেও থ্যাংক্স পাবেন সাঙ্গা ।

৫) ধ্বংসের দূত রাসেলঃ ওপেনিংয়ে বল করা, স্লগে বল করা , দল অল্পরানে ফোর ডাউন হয়ে ১৪০/১৫০ এর দিকে যাবার পরে সেমিফাইনালের মত ম্যাচে ৪৪ বলে শতরান করে দলকে ১৯০ দেখানো- রাসেল বলতে গেলে সবকিছুই করেছেন দলের জন্যে । গেইলের পাশে যদি এই দলের আরেকজন মেগাস্টারের নাম বলতে হয়, বলতে হবে রাসেলের কথা ! যার সবচেয়ে ছোট ছক্কাগুলো ছিলো ৮০ মিটারের আর বড়্গুলো ছেড়ে গেছে মাঠ ।

এবারের সিপিএলকে আমি বলবো সবচেয়ে সফল টুর্নামেন্ট তারকাখ্যাতির দিক দিয়ে । আর তার সাথে টুর্নামেন্ট শেষে নিজেদের একজন চ্যাম্পিয়ন দলের নিয়মিত একাদশের খেলোয়াড় হওয়ায় সব বাংলাদেশি ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে এবারের সিপিএল হয়ে রইলো স্পেশাল ।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

6 − four =