ফরাসী কোরেন্তিন তলিসো এখন বায়ার্নের মাঝমাঠে

বায়ার্ন মিউনিখের সিইও কার্ল হেইঞ্জ রুমেনিগের কথা মানলে, অলিম্পিক লিওঁর ফরাসী মিডফিল্ডার কোরেন্তিন তোলিসো-ই ছিলেন এই মৌসুমে বায়ার্নের মিডফিল্ডকে শক্তিশালী করার জন্য কোচ কার্লো অ্যানচেলত্তির একমাত্র পছন্দ। নিজের পছন্দের খেলোয়াড়কে অবশেষে পেয়েছেন অ্যানচেলত্তি ; চেলসি, এসি মিলান, জুভেন্টাসের মত বাঘা বাঘা ক্লাবকে দলবদলের বাজারে হারিয়ে এই উদীয়মান ফরাসী মিডফিল্ডারকে দলে ভিড়িয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। বায়ার্নের সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে আর্তুরো ভিদাল, থিয়াগো আলকানতারা, জাভি মার্টিনেজ, সেবাস্তিয়েন রুডি, ডেভিড আলাবা, রেন্যাটো স্যানচেস, জোশুয়া কিমিচের পাশাপাশি আজ থেকে যুক্ত হল কোরেন্তিন তলিসোর নামও। প্রায় ৩৫.২ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে পাঁচ বছরের চুক্তিতে বায়ার্নে যোগ দিয়েছেন তিনি।

এই কোরেন্তিন তলিসোর মধ্যে কিরকম মিডফিল্ডার পেতে যাচ্ছে বায়ার্ন? ফরাসী এই মিডফিল্ডার বেশ সব্যসাচী, সেন্ট্রাল মিডফিল্ড ছাড়াও খেলতে পারেন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ড বা রাইটব্যাক পজিশানেও। অনেকটা গত মৌসুম শেষে অবসর নেওয়া সাবেক বায়ার্ন কিংবদন্তী ফিলিপ লামের মত। আগের মৌসুমগুলোতে মূলত বেশী উপরে না উঠতে চাওয়া তলিসো গত মৌসুম থেকে নিজেকে বেশ আক্রমণাত্মক পজিশানে নিজেকে দেখতে পছন্দ করছেন। তবে, একটা আদর্শ সেন্ট্রাল মিডফিল্ডারের মত কখনো তাঁকে যদি ‘নাম্বার টেন’ পজিশানেও খেলানো হয়, তিনি তখনও দরকার পড়লে ডিফেন্সে নেমে এসে বল সংগ্রহ করে আক্রমণ রচনা করতে শুরু করেন। গত মৌসুমে আরেক যে গুণ নিজের মধ্যে গড়ে তুলেছেন তিনি, সেটা হল মাঝে মাঝেই মিডফিল্ড থেকে উঠে গিয়ে ডিবক্সের একটু বাইরে অবস্থান করে শট নেবার প্রবণতাটা, সাথে উন্নত করেছেন নিজের পজিশানিং সেন্সটাও, ফলে বল পায়ে না থাকলে ঠিক সময়ে ঠিক জায়গায় গিয়ে থাকার অভ্যাসটা গড়ে উঠেছে তাঁর। অনেকটা টটেনহ্যাম হটস্পারের ডেলি আলির খেলার স্টাইলের সাথে তাঁর খেলার স্টাইলের তুলনা দেওয়া যায়, আধুনিক অল-অ্যাকশান সেন্ট্রাল মিডফিল্ডারের মোটামুটি সব গুণাবলির প্রকাশই আস্তে আস্তে ঘটছে তাঁর মধ্যে। একজন আদর্শ সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার যেভাবে ডিফেন্স থেকে বল সংগ্রহ করে আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের সঠিক পাসের মাধ্যমে খুঁজে বের করতে পারে, তলিসো করেন ঠিক সেটাই। ফরাসী লিগ তুলনামূলকভাবে একটু রক্ষণাত্মক হবার কারণে হয়তোবা সমবয়সী আরও উদীয়মান তারকা মিডফিল্ডারদের তুলনায় তাঁর ড্রিবল করার ক্ষমতাটা একটু কম, কিন্তু সেটা তিনি পুষিয়ে নেন মিডফিল্ডে একটা মেশিনের মত পাস করা, ট্যাকল করা ও দৌড়ানোর মাধ্যমে।

একটা জিনিস নিশ্চিত, কোরেন্তিন তলিসোর আসার মাধ্যমে বায়ার্ন মিউনিখের আরেক তরুণ প্রভাবান মিডফিল্ডার রেন্যাটো স্যানচেসের সময় বলতে গেলে ফুরিয়েই গেল। গত মৌসুমে অবসর নেওয়া জাবি আলোনসো আর ফিলিপ লামের অভাব এই তরুণ তুর্কি কতটা মেটাতে পারেন সেটাই দেখার অপেক্ষা এখন!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

nine + eight =